কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর বোর্ড ২০১৯

কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

রনি তার বনজ বৃক্ষের বাগানে উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গাছের তুলনামূলক কিছু বড় ডাল কেটে ফেললেন। কয়েক বছরের। মধ্যে তার বাগানের প্রত্যেকটি গাছ সুগঠিত হয়ে উঠল। তার দেখাদেখি প্রতিবেশীরাও তাদের বাগানে এ ধরনের কাজ করে লাভবান হলো।

  1. ক)

    ম্যানগ্রোভ বন কী?

    (1)
  2. খ)

    বৃক্ষমেলা কেন করা হয়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে রনির কার্যক্রমটি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    প্রতিবেশীদের রনির কাজটি অনুসরণ করার কারণ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উপকূলীয় লবণাক্ত ও কর্দমাক্ত জোয়ার-ভাটা অঞ্চলে গড়ে ওঠা বিশেষ শ্বাসমূলীয় উদ্ভিদের বনভূমিকে ম্যানগ্রোভ বন বা বাদাবন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জনসাধারণকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত ও সচেতন করতে এবং উন্নত জাতের চারা ও কলম সহজে প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য বৃক্ষমেলা আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে মানুষ বনায়নের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে রনির কার্যক্রমটি হলো বনায়নে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচর্যা পদ্ধতি, যা 'ছাঁটাইকরণ' বা 'প্রুনিং' (Pruning) নামে পরিচিত।

    গাছের অবাঞ্ছিত, রোগাক্রান্ত, দুর্বল কিংবা অতিরিক্ত ডালপালা নির্দিষ্ট নিয়মে কেটে ফেলাকে ছাঁটাইকরণ বা প্রুনিং বলে। উদ্দীপকে রনি তার বনজ বৃক্ষের বাগানে গাছের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য তুলনামূলক কিছু বড় ও অতিরিক্ত ডাল কেটে ফেলেন। এর ফলে গাছের কাণ্ডের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয় এবং গাছ সোজা ও সুগঠিত কাঠ উৎপন্ন করতে সক্ষম হয়। কাণ্ডের শক্তি অপচয় রোধ হওয়া এবং আলো-বাতাস ভালোভাবে প্রবেশ করার কারণে রনির বাগানের গাছগুলো কয়েক বছরের মধ্যে সুগঠিত ও মূল্যবান কাঠে পরিণত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রতিবেশীদের রনির কাজটি অনুসরণ করার কারণ হলো কাষ্ঠল বৃক্ষের সুষ্ঠু বৃদ্ধি নিশ্চিতকরণ এবং উন্নত গুণগত মানের কাঠ উৎপাদনের মাধ্যমে অধিক অর্থনৈতিক মুনাফা লাভ করা।

    বনজ বৃক্ষ চাষে প্রুনিং বা ডালপালা ছাঁটাই একটি অত্যন্ত লাভজনক পরিচর্যা কৌশল। গাছের নিচের দিকের বা অতিরিক্ত ডালপালা ছাঁটাই করলে:
    ১. গাছের মূল কাণ্ড সোজা, লম্বা ও গিঁটমুক্ত হয়, যা উন্নত মানের গোলকাঠ ও তক্তা তৈরিতে সহায়ক।
    ২. গাছের কাঠে গিঁটের সংখ্যা কমে যাওয়ায় কাঠের বাজারমূল্য বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
    ৩. বাগানের ভেতরে আলো ও বাতাসের চলাচল বাড়ে, ফলে রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হয়।
    ৪. পুষ্টি উপাদান অপ্রয়োজনীয় ডালে ব্যয় না হয়ে মূল কাণ্ডের দ্রুত বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

    রনির বাগানের গাছগুলো কয়েক বছরের মধ্যে সুগঠিত হয়ে ওঠায় প্রতিবেশীরা প্রত্যক্ষ ফল দেখতে পায়। তাই তারা বুঝতে পারে যে কেবল প্রাকৃতিকভাবে গাছ বাড়তে দিলে কাঠের মান ও লাভ তেমন হয় না, কিন্তু নিয়মিত ও সঠিক নিয়মে ডাল ছাঁটাই করলে কম সময়ে অধিক দামি কাঠ উৎপাদন করা সম্ভব। এই বাস্তব সুফল ও অর্থনৈতিক লাভ প্রত্যক্ষ করেই প্রতিবেশীরা রনির কাজটি অনুসরণ করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন