ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • উমাইয়া খিলাফত (৬৬১-৭৫০ খ্রি.) • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
সুলতানি ও মুঘল আমলে ভারতে ফার্সি ভাষায় সরকারি কার্যক্রম চলত। কিন্তু পলাশী যুদ্ধের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতের শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। শাসনক্ষেত্রে বৃটিশরা ইংরেজি ভাষার প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে অনুভব করে। এরই প্রেক্ষিতে তারা ভারতে ইংরেজি সংস্কৃতি চালু করে।
- ক)(1)
উমাইয়া খিলাফতের পতন হয় কত খ্রিষ্টাব্দে?
- খ)(2)
মুয়াবিয়া (রা)-কে কেন আরবের প্রথম রাজা বলা হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে খলিফা আবদুল মালিকের কোন সংস্কারের প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত পদক্ষেপ আবদুল মালিকের আরবীয়করণ নীতির প্রতিচ্ছবি মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
৭৫০ খ্রিস্টাব্দে উমাইয়া খিলাফতের পতন হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হযরত মুয়াবিয়া (রা.)-কে আরবের প্রথম রাজা বলা হয়, কারণ তিনি খোলাফায়ে রাশেদিনের গণতান্ত্রিক ও পরামর্শভিত্তিক (শুরা) খিলাফতের অবসান ঘটিয়ে রাজতান্ত্রিক ও বংশানুক্রমিক শাসনের সূচনা করেছিলেন।
তিনি মৃত্যুর পূর্বে নিজ পুত্র ইয়াজিদকে খিলাফতের উত্তরাধিকারী মনোনীত করে যান, যা ইসলামি শাসনব্যবস্থাকে রাজতন্ত্রের রূপ দেয়। এছাড়া তিনি রাজকীয় প্রথা, দেহরক্ষী বাহিনী ও বিলাসী রাজদরবার প্রবর্তন করেন, যা পূর্ববর্তী খলিফাদের সরল জীবনধারার চেয়ে রাজন্যবর্গের শাসনের সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিকের 'আরবি ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা ও দাফতরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান'-এর প্রশাসনিক সংস্কারের প্রতিফলন ঘটেছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ব্রিটিশরা ক্ষমতা দখলের পর তাদের প্রশাসনিক সুবিধার্থে পূর্ববর্তী ফার্সি ভাষার পরিবর্তে ইংরেজি ভাষাকে দাফতরিক ভাষা হিসেবে চালু করে।
একইভাবে, খলিফা আবদুল মালিকের পূর্বে দামেস্কের উমাইয়া প্রশাসনে পূর্বতন বাইজেন্টাইন ও সাসানীয় ব্যবস্থার অনুসরণে সরকারি কার্যক্রমে গ্রিক ও ফার্সি ভাষা ব্যবহৃত হতো। খলিফা আবদুল মালিক প্রশাসনিক ঐক্য ও জাতীয় সংহতি সুসংহত করার উদ্দেশ্যে গ্রিক ও ফার্সির পরিবর্তে আরবিকে রাষ্ট্রীয় ও দাফতরিক ভাষা ঘোষণা করেন। উদ্দীপকে ব্রিটিশদের ভাষানীতির মধ্য দিয়ে খলিফা আবদুল মালিকের এই ঐতিহাসিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের দিকটিই ফুটে উঠেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত পদক্ষেপটি খলিফা আবদুল মালিকের সামগ্রিক 'আরবীয়করণ' (Arabization) নীতিরই একটি প্রধান স্তম্ভ ও যথাযথ প্রতিচ্ছবি।
খলিফা আবদুল মালিক অনুধাবন করেছিলেন যে, বিশাল মুসলিম সাম্রাজ্যে ভিন্ন ভিন্ন ভাষা ও শাসনরীতি চালু থাকলে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও আরব জাতীয়তাবোধ সুদৃঢ় করা সম্ভব নয়। তাই তিনি সাম্রাজ্যের প্রশাসনকে পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ও আরবি রূপরেখায় সাজাতে 'আরবীয়করণ নীতি' গ্রহণ করেন। উদ্দীপকে যেমন ভারতে বিদেশি কোম্পানি নিজ স্বার্থে স্থানীয়দের ওপর বিদেশি দাফতরিক ভাষার বদলে ব্রিটিশ ইংরেজি সংস্কৃতি ও ভাষার প্রচলন ঘটায়, তেমনি আবদুল মালিক মুসলিম সাম্রাজ্য থেকে বিদেশি গ্রিক ও পারসিক প্রভাব দূর করে আরবিকে দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে বাধ্যতামূলক করেন।
এই আরবীয়করণ নীতির আওতায় তিনি:
১. সমস্ত সরকারি হিসাব-নিকাশ, রেজিস্টার ও দলিলপত্র আরবিতে রূপান্তর করেন।
২. রোমান ও পারসিক মুদ্রার পরিবর্তে সম্পূর্ণ আরবি লিপি ও ইসলামি বাণী সংবলিত নতুন দিনার ও দিরহাম চালু করেন।
৩. প্রশাসনের উচ্চপদে অনারবদের পরিবর্তে যোগ্য আরবদের নিয়োগ দিয়ে জাতীয় স্বকীয়তা প্রতিষ্ঠা করেন।সুতরাং, সরকারি ভাষা হিসেবে আরবির প্রবর্তন কেবল ভাষা পরিবর্তন ছিল না, এটি ছিল আবদুল মালিকের আরবীয়করণ নীতির প্রাণকেন্দ্র, যার মাধ্যমে সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অখণ্ডতা নিশ্চিত হয়েছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও