পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • দেশপ্রেম ও জাতীয়তা • আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা • আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
লর্ড ব্রাইসের জাতির সংজ্ঞাটি লেখ।
- খ)(2)
দেশপ্রেম বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উপরের ছকে কোন বিষয়টিকে নির্দেশ করা হয়েছে? তার সাথে জাতির বৈসাদৃশ্য নির্ণয় কর।
- ঘ)(4)
"উপরের বিষয়গুলোর সন্নিবেশের জন্যই আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি।"-উক্তিটি সম্পর্কে তোমার মতামত ব্যক্ত কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লর্ড ব্রাইসের মতে, "জাতীয়তা হলো রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত বা সংগঠিত হতে সচেষ্ট এমন এক জনসমাজ, যা ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ বা ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য সচেষ্ট।" (A Nation is a nationality which has organized itself into a political body, either independent or desiring to be independent.)
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দেশপ্রেম বলতে নিজের দেশ ও মাতৃভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং আত্মত্যাগের মানসিকতাকে বোঝায়।
এটি মানুষের একটি সহজাত ও সুকুমার অনুভূতি। দেশপ্রেমিক ব্যক্তি সর্বদা নিজের স্বার্থের চেয়ে দেশের স্বার্থ ও কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেন এবং দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদা রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত থাকেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উপরের ছকে প্রশ্নবোধক স্থানে 'জাতীয়তা' (Nationality)-কে নির্দেশ করা হয়েছে। নিচে জাতীয়তা ও জাতির মধ্যে বৈসাদৃশ্যসমূহ আলোচনা করা হলো:
১. ধারণাগত পার্থক্য: জাতীয়তা হলো মূলত একটি মানসিক বা মনস্তাত্ত্বিক অনুভূতি, যেখানে ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের ঐক্যের কারণে জনসমাজের মধ্যে একাত্মতা গড়ে ওঠে। অপরদিকে, জাতি হলো রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত এমন একটি জনসমাজ, যারা জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজস্ব ভূখণ্ডে স্বাধীন বা সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠন করেছে অথবা প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
২. রাজনৈতিক সংগঠন ও সার্বভৌমত্ব: জাতীয়তা গঠনে রাজনৈতিক সংগঠনের উপস্থিতি অপরিহার্য নয়; কিন্তু জাতি গঠনে রাজনৈতিক সচেতনতা, সংগঠন এবং সার্বভৌমত্ব অপরিহার্য উপাদান।
৩. পর্যায়গত পার্থক্য: জাতীয়তা হলো জাতির প্রাথমিক বা পূর্ববর্তী স্তর (জাতীয়তা + রাজনৈতিক সংগঠন = জাতি)। অর্থাৎ সব জাতির মধ্যেই জাতীয়তা বিদ্যমান থাকে, কিন্তু সব জাতীয়তাই জাতিতে রূপ নাও নিতে পারে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উপরের বিষয়গুলোর সন্নিবেশের জন্যই আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি"—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
উদ্দীপকের ছকে ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, বংশগত ঐক্য, ভাবগত ঐক্য, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চেতনা—এসব উপাদান জাতীয়তাবাদ বিকাশের মূল শক্তি হিসেবে নির্দেশিত হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়:
১. ভাষা ও সংস্কৃতি: ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে সুদৃঢ় একাত্মতা এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের জন্ম হয়।
২. অর্থনৈতিক চেতনা: তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বাঙালিরা অর্থনৈতিক মুক্তি ও স্বাধিকারের দাবি তোলে, যা ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচিতে প্রতিফলিত হয়।
৩. রাজনৈতিক চেতনা ও ঐক্য: ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণে বাঙালি জাতি একক রাজনৈতিক চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়।
অতএব, এই ভাবগত, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উপাদানের পারস্পরিক সন্নিবেশই বাঙালি জাতীয়তাবাদকে সংহত করেছিল এবং ১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে সার্বভৌম স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চূড়ান্ত প্রেরণা জুগিয়েছিল। সুতরাং উক্তিটি অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও