‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • দেশপ্রেম ও জাতীয়তা • বিএএফ শাহীন কলেজ • বিএএফ শাহীন কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতকে ইউরোপে জাতীয়তাবাদী ভাবধারার উন্মেষ ঘটে। ইতালীর রাষ্ট্রদার্শনিক নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি তাঁর দৃষ্টিকোণ থেকে উপলব্ধি করেন যে, আগামী দিনের রাষ্ট্র হবে 'জাতি রাষ্ট্র' এবং তার ভিত্তি হবে 'জাতীয়তাবাদ'।

  1. ক)

    জাতীয়তা কী?

    (1)
  2. খ)

    জাতি ও জাতীয়তার মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।

    (2)
  3. গ)

    জাতীয়তার অন্যতম উপাদান হিসেবে ভাষা ও সাংস্কৃতির গুরুত্ব বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট উল্লেখপূর্বক আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে কর যে, রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা ব্যতীত জাতীয়তা পূর্ণতা পায় না এবং জাতি গঠিত হয় না? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাতীয়তা হলো এক প্রকার মানসিক বা আত্মিক অনুভূতি, যা একটি নির্দিষ্ট জনসমাজকে অপরাপর জনসমাজ থেকে পৃথক করে এবং তাদের মধ্যে একতা সৃষ্টি করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাতি ও জাতীয়তার মধ্যে দুটি প্রধান পার্থক্য হলো:
    ১. জাতীয়তা হলো একটি মানসিক বা আত্মিক চেতনা, পক্ষান্তরে জাতি হলো সেই মানসিক চেতনার রাজনৈতিক ও বাস্তব রূপ বা স্বাধীন জনসমাজ।
    ২. জাতীয়তাবোধসম্পন্ন জনসমাজ রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত কিংবা স্বাধীন না-ও হতে পারে; কিন্তু জাতি হতে হলে অবশ্যই রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত ও স্বাধীন বা স্বাধীনতাকামী হতে হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাতীয়তার উন্মেষ ও বিকাশে ভাষা ও সংস্কৃতির ঐক্য অন্যতম প্রধান ও প্রভাবশালী উপাদান। একই ভাষা ও অভিন্ন সংস্কৃতির চর্চা একটি জনসমষ্টির মধ্যে গভীর মানসিক মেলবন্ধন ও একাত্মতাবোধ সৃষ্টি করে।

    বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ভাষা ও সংস্কৃতির ভূমিকা অবিস্মরণীয়। ১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান সৃষ্টি হলেও পূর্ব বাংলার মানুষ পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের শিকার হয়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতি নিজ মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করে এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি রচিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৬০-এর দশকে রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপন, পহেলা বৈশাখ উদযাপনসহ বাঙালি সংস্কৃতির ধারাবাহিক আন্দোলনের মাধ্যমে এই জাতীয়তাবাদী চেতনা আরো দৃঢ় হয়। পরিশেষে ভাষা ও সংস্কৃতির এই সংহতিই বাঙালিকে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, আমি মনে করি যে, রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা ব্যতীত জাতীয়তা পূর্ণতা পায় না এবং জাতি গঠিত হয় না। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    পৌরনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের তত্ত্ব অনুযায়ী, 'জাতীয়তা' হলো মানুষের একাত্মতার একটি মানসিক অনুভূতি, যা সাধারণত ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্ম বা ভৌগোলিক অভিন্নতার কারণে তৈরি হয়। কিন্তু শুধু এই মানসিক চেতনা নিয়ে একটি জনসমষ্টি স্বাধীনভাবে বিকশিত হতে পারে না। যখন জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ কোনো জনসমাজ রাজনৈতিকভাবে সচেতন ও সংগঠিত হয়ে নিজস্ব সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে, তখনই তা পূর্ণাঙ্গ 'জাতি'তে (Nation) রূপ লাভ করে।

    রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা ব্যতীত কোনো জনসমাজ পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকে এবং স্বায়ত্তশাসন বা আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার পায় না। যেমন, ১৯৭১ সালের পূর্বে বাঙালি জনসমষ্টির মধ্যে শক্তিশালী বাঙালি জাতীয়তাবোধ ছিল, কিন্তু তারা পরাধীন ছিল। ১৯৭১ সালে নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যখন বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, তখনই বাঙালি জাতীয়তাবাদ পূর্ণতা লাভ করে এবং বাঙালি একটি পূর্ণাঙ্গ 'জাতি' হিসেবে বিশ্বদরবারে স্বীকৃতি পায়।

    অতএব, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বই জাতীয়তাকে বাস্তবে কার্যকর ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করে জাতিতে রূপান্তর করে। তাই রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা ব্যতীত জাতীয়তা অপূর্ণ থেকে যায়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন