পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • রাজনৈতিক দল, নেতৃত্ব ও সুশাসন • বিএএফ শাহীন কলেজ • বিএএফ শাহীন কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
দল ব্যবস্থা: A-একদলীয় ব্যবস্থা, B-দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা, C- ?
- ক)(1)
বাংলাদেশের আইনসভার মোট সদস্য সংখ্যা কত?
- খ)(2)
জনমত গঠনে রাজনৈতিক দলের ভূমিকা লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের C কোন দল ব্যবস্থার ইঙ্গিত করছে? উক্ত দল ব্যবস্থার বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
বর্তমান বিশ্বের গণতান্ত্রিক ধারায় উদ্দীপকের A ব্যবস্থা এখন অকার্যকর-বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের আইনসভার (জাতীয় সংসদ) মোট সদস্য সংখ্যা ৩৫০ জন (৩০০ জন সরাসরি ভোটে নির্বাচিত এবং ৫০ জন নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনমত গঠনে রাজনৈতিক দল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রাজনৈতিক দলগুলো জাতীয় সমস্যা ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ জনগণের সামনে তুলে ধরে এবং সেগুলোর সম্ভাব্য সমাধান ও নীতিমালা প্রচার করে। সভা-সমাবেশ, সেমিনার, প্রচারপত্র ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে দলগুলো জনগণের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে এবং একটি নির্দিষ্ট ইস্যুতে সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহায়তা করে, যা সামগ্রিক জনমতকে সুসংগঠিত রূপ দেয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের C 'বহুদলীয় ব্যবস্থা' (Multi-party system)-কে ইঙ্গিত করছে।
যে শাসনব্যবস্থায় বা রাষ্ট্রে দুইয়ের অধিক রাজনৈতিক দল সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে অংশ নেয় এবং সরকার গঠনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, তাকে বহুদলীয় ব্যবস্থা বলা হয়। বাংলাদেশ, ভারত, ফ্রান্স, ইতালি প্রভৃতি দেশে বহুদলীয় ব্যবস্থা বিদ্যমান।
এই ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো:
১. বহুমাত্রিক মতামতের প্রতিফলন: সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ ও সামাজিক শ্রেণির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ থাকে।
২. সরকারের দায়িত্বশীলতা: শক্তিশালী বিরোধী দলগুলোর উপস্থিতির কারণে সরকার স্বেচ্ছাচারী হতে পারে না।
৩. ভোটারদের অধিক বিকল্প: নির্বাচনে ভোটাররা তাদের পছন্দের আদর্শ ও নীতি অনুযায়ী প্রতিনিধি নির্বাচনের বিস্তৃত সুযোগ পায়।
তবে এ ব্যবস্থায় প্রায়ই ঝুলন্ত সংসদ ও কোয়ালিশন সরকার গঠিত হয়, যা অনেক সময় রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'A' ব্যবস্থাটি হলো 'একদলীয় ব্যবস্থা'। বর্তমান বিশ্বের গণতান্ত্রিক ধারায় একদলীয় ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে অকার্যকর ও অনুপযোগী—উক্তিটি যথার্থ।
গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো জনগণের সার্বভৌমত্ব, পরমতসহিষ্ণুতা, বাক-স্বাধীনতা এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিকল্প পছন্দের সুযোগ। কিন্তু একদলীয় ব্যবস্থায় কেবল একটিমাত্র রাজনৈতিক দলের কর্তৃত্ব থাকে এবং অন্যান্য বিরোধী দলকে নিষিদ্ধ বা স্তব্ধ করে রাখা হয়। ফলে এতে জনমতের কোনো তোয়াক্কা করা হয় না এবং এটি কার্যত একনায়কতন্ত্র বা স্বৈরতন্ত্রে রূপ নেয়।
বর্তমান বিশ্বে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার, বহুত্ববাদ ও উন্মুক্ত বিতর্কের ওপর প্রতিষ্ঠিত। একদলীয় শাসনব্যবস্থায় ক্ষমতার জবাবদিহিতা থাকে না, যা ব্যাপক দুর্নীতি ও দমনপীড়নের জন্ম দেয়। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নসহ অনেক দেশে একদলীয় মডেল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। তাই আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রীয় চিন্তায় বিকল্প নেতৃত্ব বাছাই এবং সুশাসন নিশ্চিতের প্রশ্নে একদলীয় ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে অকার্যকর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও