ভূগোল ২য় পত্র • জনসংখ্যা • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
'ক' দেশটি জনসংখ্যার দিক দিয়ে বিশ্বে ৮ম অবস্থানে রয়েছে। এই দেশের তথ্য অনুসারে-প্রেক্ষাপট-১ : প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১২৬৫ জন বাস করে।প্রেক্ষাপট-২: প্রতি হাজারে ১৮ জন শিশু জন্মায়।প্রেক্ষাপট-৩ : মোট জনসংখ্যার ৬৬% কর্মক্ষম ও ৪৪% নির্ভরণশীল জনগোষ্ঠী রয়েছে।
- ক)(1)
জনমিতি কাকে বলে?
- খ)(2)
নিবিড় জনসংখ্যা অঞ্চল গড়ে উঠার কারণ ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে প্রেক্ষাপট-২ এর জনমিতিক উপাদান নির্ণয়ের সূত্রটি ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে প্রেক্ষাপট-১ ও ৩ এর উপাদান 'ক' দেশটির ওপর কীরূপ প্রভাব ফেলবে? বিশ্লেষণ কর।।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনসংখ্যার আকার, গঠন, বিন্যাস এবং জন্ম, মৃত্যু, স্থানান্তর ইত্যাদির পরিসংখ্যানগত ও বৈজ্ঞানিক অধ্যয়নকে জনমিতি (Demography) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ ও উন্নত আর্থ-সামাজিক সুবিধার কারণে নিবিড় জনসংখ্যা অঞ্চল গড়ে ওঠে। উর্বর সমতল ভূমি, কৃষিকাজের উপযোগী আর্দ্র ও নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু, পর্যাপ্ত সুপেয় পানির প্রাপ্যতা, শিল্প-কারখানার কেন্দ্রীভবন, উন্নত যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ যেখানে বেশি থাকে, সেখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব সর্বাধিক হয় এবং নিবিড় বসতি বা ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল গড়ে ওঠে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রেক্ষাপট-২-এ বলা হয়েছে 'প্রতি হাজারে ১৮ জন শিশু জন্মায়', যা জনমিতিক উপাদান হিসেবে 'স্থূল জন্মহার' (Crude Birth Rate - CBR)-কে নির্দেশ করে।
স্থূল জন্মহার (CBR) নির্ণয়ের সূত্র:
স্থূল জন্মহার হলো কোনো নির্দিষ্ট বছরে মোট জীবিত জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যাকে উক্ত বছরের মধ্যকালীন মোট জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে প্রতি হাজারে (১,০০০) প্রকাশ করা।সূত্রটি নিম্নরূপ:
CBR = (B / P) × ১০০০
যেখানে,
CBR = স্থূল জন্মহার
B = কোনো নির্দিষ্ট বছরে মোট জীবিত জন্মপ্রাপ্ত শিশুর সংখ্যা
P = ওই বছরের বছরের মধ্যকালীন মোট জনসংখ্যাব্যাখ্যা: এই সূত্রের মাধ্যমে নির্দিষ্ট একটি বছরে প্রতি এক হাজার জনসংখ্যার বিপরীতে কতজন জীবিত শিশু জন্মগ্রহণ করেছে তা পরিমাপ করা হয়, যা উদ্দীপকে ১৮ জন হিসেবে প্রদর্শিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'ক' দেশটি হলো বাংলাদেশ। উদ্দীপকের প্রেক্ষাপট-১ নির্দেশ করে জনসংখ্যার উচ্চ ঘনত্ব (১২৬৫ জন/বর্গ কিমি) এবং প্রেক্ষাপট-৩ নির্দেশ করে নির্ভরশীলতা ও কর্মক্ষম জনসংখ্যার অনুপাত (৬৬% কর্মক্ষম ও ৪৪% নির্ভরশীল)। এই উপাদানগুলো দেশটির ওপর নিম্নরূপ বহুমুখী প্রভাব ফেলবে:
১. প্রেক্ষাপট-১ (অতিরিক্ত ঘনবসতি)-এর প্রভাব:
- ভূমির উপর চাপ: উচ্চ জনসংখ্যার ঘনত্বের ফলে সীমিত কৃষিজমি হ্রাস পাবে, আবাসন সংকট তৈরি হবে এবং বনভূমি ধ্বংস হবে।
- পরিবেশ দূষণ ও জীবনযাত্রার মান হ্রাস: অপরিকল্পিত নগরায়ণ, যানজট, বস্তি সমস্যা এবং পরিবেশ দূষণ বৃদ্ধি পাবে। মাথাপিছু সম্পদের প্রাপ্যতা কমে যাবে।
২. প্রেক্ষাপট-৩ (জনমিতিক লভ্যাংশ ও নির্ভরশীলতা)-এর প্রভাব:
- জনমিতিক লভ্যাংশ (Demographic Dividend): কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর হার ৬৬%, যা একটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য বিরাট সুযোগ। উপযুক্ত শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই বিশাল যুবশক্তিকে মানবসম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব হলে দেশের উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।
- নির্ভরশীলতার বোঝা: মোট জনগোষ্ঠীর ৪৪% নির্ভরশীল হওয়ায় (শিশু ও প্রবীণ) পরিবার ও রাষ্ট্রের ওপর খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হলে এই কর্মক্ষম জনসংখ্যাই বেকারত্ব ও সামাজিক অস্থিরতা ডেকে আনতে পারে।
অতএব, উচ্চ ঘনত্বের নেতিবাচক চাপ সামলিয়ে ৬৬% কর্মক্ষম জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে পরিণত করতে পারলে দেশটি উন্নত অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হতে পারবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও