সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
ভারতীয় উপমহাদেশের একটি প্রাচীন সভ্যতা; এটি মূলত একটি নগর সভ্যতা। কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা, প্রশাসনের শীর্ষকর্তা একজন পুরোহিত রাজা, এখানে বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজা-অর্চনা করা হতো। সামাজিক শ্রেণি অনুযায়ী ইটের তৈরি বাড়ি, পাকা রাস্তা, নর্দমা, গোসলের পুকুর, গোলাঘর ইত্যাদির উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। কিন্তু সভ্যতার সৃষ্টিকারী জনগোষ্ঠীর সঠিক পরিচয় আজও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। জন মার্শালের নেতৃত্বে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন কার্যের মাধ্যমে।১৯২২ সালে এটি আবিষ্কৃত হয়।
- ক)(1)
ময়নামতি কোন জেলায় অবস্থিত?
- খ)(2)
নগরায়ন বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সভ্যতাটি দ্বারা কোন প্রাচীন নগর সভ্যতার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উপমহাদেশের সামাজিক ইতিহাস জানতে উক্ত নগর সভ্যতার গুরুত্ব অপরিসীম - বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ময়নামতি কুমিল্লা জেলায় অবস্থিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নগরায়ন (Urbanization) হলো এমন একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদ ধীরে ধীরে শহরে রূপান্তরিত হয় এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠী শহরমুখী হয়ে অকৃষি পেশা ও আধুনিক নাগরিক জীবনব্যবস্থায় অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। এর ফলে সমাজের অর্থনৈতিক কাঠামো, মানুষের জীবনযাত্রা ও সম্পর্কের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সাধিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীন নগর সভ্যতা হিসেবে 'সিন্ধু সভ্যতা'র (বা হরপ্পা-মহেঞ্জোদারো সভ্যতা) প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
সিন্ধু সভ্যতা ছিল একটি অত্যন্ত উন্নত ও পরিকল্পিত নগর সভ্যতা। উদ্দীপকে উল্লিখিত উপাদানসমূহ—যেমন কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা, পুরোহিত রাজার শাসন, সামাজিক শ্রেণিভিত্তিক ইটের বাড়ি, সুপরিকল্পিত পাকা রাস্তাঘাট, পয়ঃনিষ্কাশনের আধুনিক নর্দমা ব্যবস্থা, বৃহৎ স্নানাগার এবং শস্যগোলা সিন্ধু সভ্যতার প্রধান বৈশিষ্ট্য। এছাড়া ১৯২২ সালে স্যার জন মার্শালের নেতৃত্বে মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পায় প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যের মধ্য দিয়ে এ সভ্যতা পুনরাবিষ্কৃত হয়। উদ্দীপকে বর্ণিত তথ্যাবলি এই ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক সত্যগুলোর সাথেই সম্পূর্ণরূপে মিলে যায়। তাই উদ্দীপকে সিন্ধু সভ্যতার কথাই তুলে ধরা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভারতীয় উপমহাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস অনুসন্ধানে সিন্ধু সভ্যতার গুরুত্ব সত্যিই অপরিসীম।
প্রথমত, সিন্ধু সভ্যতা আবিষ্কারের মাধ্যমেই প্রমাণিত হয় যে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রায় পাঁচ হাজার বছর পূর্বেই এক উন্নত ও সমৃদ্ধ নগর সমাজ গড়ে উঠেছিল। এর ফলে উপমহাদেশের সমাজবিজ্ঞান ও ইতিহাসের প্রাচীনত্ব বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত হয়।
দ্বিতীয়ত, এ সভ্যতার নগর পরিকল্পনা, বহুতল ইটের বাড়ি, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং পৌর প্রশাসন তৎকালীন সমাজের সামাজিক স্তরবিন্যাস ও আধুনিক সামাজিক সংগঠনের প্রমাণ দেয়। শাসক শ্রেণি, বণিক শ্রেণি এবং শ্রমজীবী মানুষের অস্তিত্ব ইঙ্গিত করে যে সেখানে সুনির্দিষ্ট সামাজিক কাঠামো ও শ্রমবিভাগ কার্যকর ছিল।
তৃতীয়ত, সিন্ধু সভ্যতায় আবিষ্কৃত মাতৃমূর্তি, পশুপতি শিবের সিলমোহর এবং গাছপালার উপাসনা উপমহাদেশের ধর্মীয় বিশ্বাসের আদি উৎস উন্মোচন করে। এসব বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠান পরবর্তীকালে হিন্দু ধর্মের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
পরিশেষে বলা যায়, সিন্ধু সভ্যতা উপমহাদেশের সমাজব্যবস্থার বিবর্তন, প্রাক-বৈদিক সমাজ কাঠামো, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং আধুনিক নগরায়নের রূপরেখা বোঝার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও