গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
মিতা একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। ঘুম থেকে উঠতে দেরি হওয়ায় প্রায়ই তার কলেজে যেতে দেরি হয়। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত সে টিভি দেখে। পরীক্ষায় তার ফলাফল ভালো নয়। অন্যদিকে তার মা সারাদিন পরিশ্রম করেও যথাসময়ে ঘরের কাজ শেষ করতে পারেন না। মিতার বাবা বলেন, “কাজ সহজকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে সময় ও শক্তি দুটোই সংরক্ষণ সম্ভব।”
- ক)(1)
শক্তি কাকে বলে?
- খ)(2)
প্রকৃত আয় কীভাবে বাড়ানো যায়?
- গ)(3)
মিতার জন্য একটি সময় তালিকা তৈরি করো।
- ঘ)(4)
মিতার বাবার উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শারীরিক বা মানসিক কাজ করার সামর্থ্য বা ক্ষমতাকে শক্তি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুদ্রা আয়ের কোনো পরিবর্তন না ঘটিয়ে পরিবারের সদস্যদের দক্ষতা, জ্ঞান ও গৃহসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে পণ্য ও সেবার প্রাপ্তি বৃদ্ধি করে প্রকৃত আয় বাড়ানো যায়। যেমন— পরিবারের সদস্যরা ঘরে শাকসবজি চাষ করে, পরিবারের সদস্যদের পোশাক নিজেরা তৈরি বা সেলাই করে, রান্নাবান্না ও মেরামত কাজ নিজেরা করে এবং গৃহস্থালি দ্রব্য ও সরঞ্জামের সঠিক পরিচর্যা ও অপচয় রোধের মাধ্যমে প্রকৃত আয় বাড়ানো সম্ভব।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে দেখা যায় মিতা দেরিতে ঘুম থেকে ওঠার কারণে কলেজে সময়মতো যেতে পারে না এবং সন্ধ্যায় দীর্ঘক্ষণ টিভি দেখে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ছে। মিতার জন্য একটি আদর্শ দৈনিক সময় তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
১. ভোর ৬:০০ - ৬:৩০ : ঘুম থেকে ওঠা, প্রাতঃকৃত্য ও ফ্রেশ হওয়া।
২. সকাল ৬:৩০ - ৮:০০ : পড়াশোনা ও প্রস্তুতি।
৩. সকাল ৮:০০ - ৮:৩০ : প্রাতরাশ (সকালের নাশতা) গ্রহণ ও কলেজের জন্য তৈরি হওয়া।
৪. সকাল ৮:৩০ - দুপুর ২:০০ : কলেজে যাতায়াত এবং ক্লাস করা।
৫. দুপুর ২:০০ - ৩:০০ : বাড়ি ফেরা, গোসল, দুপুরের খাবার গ্রহণ ও সামান্য বিশ্রাম।
৬. দুপুর ৩:০০ - বিকেল ৪:৩০ : বিশ্রাম/পড়াশোনা।
৭. বিকেল ৪:৩০ - সন্ধ্যা ৬:০০ : হালকা নাশতা, বিনোদন/টিভি দেখা ও অবসর সময় কাটানো।
৮. সন্ধ্যা ৬:০০ - রাত ৯:৩০ : পড়াশোনা করা।
৯. রাত ৯:৩০ - ১০:১৫ : পরিবারের সাথে নৈশভোজ ও কিছুটা সময় কাটানো।
১০. রাত ১০:১৫ - ভোর ৬:০০ : ঘুমানো।এই সময় তালিকা অনুসরণ করলে মিতার সময় সচেতনতা বাড়বে, কলেজের দেরি এড়ানো যাবে এবং পরীক্ষার ফল উন্নত হবে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মিতার বাবার উক্তিটি হলো— “কাজ সহজকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে সময় ও শক্তি দুটোই সংরক্ষণ সম্ভব।” উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
গৃহস্থালি ও দৈনন্দিন জীবনে কাজ সহজকরণ হলো কম সময় ও শক্তিতে কোনো নির্দিষ্ট কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করার কৌশল। উদ্দীপকে মিতার মা সারাদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করা সত্ত্বেও যথাসময়ে গৃহকাজ সম্পন্ন করতে পারেন না। এর মূল কারণ কাজের সঠিক বিন্যাস না থাকা এবং কাজের সনাতন পদ্ধতি অনুসরণ করা।
কাজ সহজকরণের প্রধান উপায়সমূহ হলো:
১. শরীরের সঠিক অবস্থান ও অঙ্গভঙ্গি বজায় রেখে কাজ করা।
২. উপযুক্ত ও আধুনিক যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের ব্যবহার করা।
৩. কর্মক্ষেত্র বা কাজের স্থান সুবিন্যস্ত ও সুবিধাজনক উচ্চতায় রাখা।
৪. কাজের ধারাবাহিকতা ও পরিকল্পনামাফিক ধাপে ধাপে কাজ সম্পন্ন করা।
৫. অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া ও চলাচল বর্জন করা।মিতার মা যদি রান্নার আগে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হাতের কাছে গুছিয়ে রাখেন, আধুনিক প্রযুক্তি (যেমন- ব্লেন্ডার, প্রেসার কুকার ইত্যাদি) ব্যবহার করেন এবং কাজের গতিবিধি সহজ করেন, তবে তিনি অল্প শ্রমে দ্রুত কাজ শেষ করতে পারবেন। একইভাবে মিতা নিজেও তার পড়াশোনা ও অন্যান্য কাজে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারে। সুতরাং, কাজ সহজকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে অপচয় রোধ করে সময় ও শারীরিক শক্তি সংরক্ষণ সম্ভব— মিতার বাবার এই অভিমতটি অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও