ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন

জসিম সাহেব প্রতি মাসে এমন একটি ব্যাংকে টাকা সঞ্চয় করেন, যে ব্যাংক সুদের পরিবর্তে ব্যবসাকে উৎসাহিত করে, লাভ-লোকসানের দায়ভার গ্রহণের শর্তে আমানত গ্রহণ ও বিনিয়োগ করে এবং অবৈধ ও ক্ষতিকর পণ্যের ব্যবসাকে পরিহার করার নীতি অনুসরণ করে অপরদিকে জনাব জাবের একজন কৃষক। এ বছর তার জমিতে ধানের ফলন ভাল হয়েছে। তাই সে ফসলের দশ ভাগের এক ভাগ গরিবদের জন্য সরকারি তহবিলে জমা দেয়।

  1. ক)

    বায়তুল মাল কী?

    (1)
  2. খ)

    'জাকাত ফরজ হওয়ার জন্য নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকা আবশ্যক'- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে জনাব জাবেরের কর্মকাণ্ড তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যাংকিং পদ্ধতির অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ‘বায়তুল মাল’ হলো ইসলামী রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় বা রাষ্ট্রীয় কোষাগার, যেখানে জাকাত, উশর, জিজিয়া, খেরাজ, গনিমতসহ রাষ্ট্রের যাবতীয় রাজস্ব ও সম্পদ জমা রাখা হয় এবং নির্ধারিত খাতে ব্যয় করা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ‘নিসাব’ শব্দের অর্থ নির্ধারিত পরিমাণ। ইসলামী শরিয়তে জাকাত ফরজ হওয়ার জন্য যে ন্যূনতম পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া আবশ্যক, তাকে নিসাব বলে।

    কোনো ব্যক্তির কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর পর যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদ (যেমন: সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপা অথবা এর সমমূল্যের নগদ অর্থ/ব্যবসায়িক পণ্য) পূর্ণ এক বছরকাল স্থায়ী থাকে, কেবল তখনই তার ওপর জাকাত ফরজ হয়। নিসাবের কম সম্পদ থাকলে জাকাত ফরজ হয় না। এর উদ্দেশ্য হলো দরিদ্র বা অসচ্ছলদের ওপর জাকাতের বোঝা না চাপিয়ে কেবল সামর্থ্যবান ও সম্পদশালীদের ওপরই তা বাধ্যতামূলক করা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে জনাব জাবেরের কর্মকাণ্ডটি মূলত ইসলামী অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিধান ‘উশর’ প্রদানের সাথে সম্পর্কিত।

    ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায়, কৃষিজমি থেকে উৎপাদিত ফসলের ওপর যে জাকাত বা নির্দিষ্ট অংশ আল্লাহর রাস্তায় প্রদান করতে হয়, তাকে ‘উশর’ বলা হয়। বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক পানির সাহায্যে সিক্ত জমিতে উৎপাদিত ফসলের দশ ভাগের এক ভাগ (১০%) এবং কৃত্রিম সেচের মাধ্যমে উৎপাদিত ফসলের বিশ ভাগের এক ভাগ (৫%) গরিব-অসহায়দের জন্য বা রাষ্ট্রীয় তহবিলে প্রদান করা ফরজ।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, কৃষক জাবেরের জমিতে ধানের ভালো ফলন হওয়ায় তিনি তাঁর ফসলের দশ ভাগের এক ভাগ (১/১০ অংশ) গরিবদের জন্য সরকারি তহবিলে জমা দেন। ইসলামী বিধানে প্রাকৃতিকভাবে সেচপ্রাপ্ত ফসলের ক্ষেত্রে ঠিক দশ ভাগের এক ভাগ উশর আদায় করার নির্দেশ রয়েছে। অতএব, জনাব জাবেরের এই কাজটি ইসলামের নির্ধারিত বিধান ‘উশর’ যথাযথভাবে আদায়ের প্রতিফলন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যাংকিং পদ্ধতিটি হলো ‘ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা’, যার অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম।

    উদ্দীপকে জসিম সাহেবের ব্যবহৃত ব্যাংকটি সুদের পরিবর্তে ব্যবসাকে উৎসাহিত করে, লাভ-লোকসানের ভিত্তিতে আমানত ও বিনিয়োগ পরিচালনা করে এবং অবৈধ ও ক্ষতিকর পণ্য পরিহার করে। এটি সম্পূর্ণ ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক অর্থব্যবস্থার প্রতিফলন।

    ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার অর্থনৈতিক গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. সুদমুক্ত অর্থব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা: সুদ সমাজকে শোষণমুখী করে এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য সৃষ্টি করে। ইসলামী ব্যাংকিং সুদ সম্পূর্ণ বর্জন করে অংশীদারি ও অংশীদারিত্বমূলক ব্যবসা উৎসাহিত করে।
    ২. প্রকৃত উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ: এই ব্যবস্থা অনুৎপাদনশীল বা জুয়া-সদৃশ খাতে অর্থ না খাটিয়ে সরাসরি শিল্প, কৃষি ও বাস্তব বাণিজ্যিক খাতে বিনিয়োগ করে অর্থনীতিকে গতিশীল রাখে।
    ৩. ন্যায়সংগত ঝুঁকি বণ্টন: প্রচলিত ব্যাংকে উদ্যোক্তাকে একাই সব ঝুঁকি নিতে হয়। কিন্তু ইসলামী ব্যাংকিংয়ে লাভ ও লোকসান উভয় পক্ষের মধ্যে পূর্বনির্ধারিত অনুপাতে বণ্টিত হয়, যা ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করে।
    ৪. নৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন: ক্ষতিকর, অনৈতিক বা মাদকের মতো পণ্যের লেনদেন নিষিদ্ধ করায় সমাজ সুরক্ষিত থাকে এবং কল্যাণমুখী অর্থনীতি বিকশিত হয়।

    অতএব, শোষণহীন, ভারসাম্যপূর্ণ এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে উদ্দীপকে বর্ণিত ইসলামী ব্যাংকিং পদ্ধতির গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন