সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম পেশার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
চাঁদপুর জেলার ভিক্ষাবৃত্তি সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসক একটি পরামর্শ সভার আয়োজন করেন। উক্ত সভায় প্রফেসর আলাউদ্দিন ইংল্যান্ডের একটি দরিদ্র আইনের আলোকে ভিক্ষুকদেরকে সক্ষম ও অক্ষম এই দুই ভাগে বিভক্ত করা এবং সক্ষম ভিক্ষুকদের কাজের ব্যবস্থা করে দিতে পরামর্শ দেন।
- ক)(1)
বিভারিজ রিপোর্ট কত সালে পেশ করা হয়?
- খ)(2)
দরিদ্র আইন বলতে কি বুঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে প্রফেসর আলাউদ্দিন ইংল্যান্ডের কোন আইনের আলোকে পরামর্শ দিয়েছেন? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
দরিদ্র সমস্যার সমাধানে উক্ত আইনের ভূমিকা আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিভারিজ রিপোর্ট ১৯৪২ সালে পেশ করা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দরিদ্র আইন বলতে দরিদ্র ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণ, ভিক্ষাবৃত্তি দমন, তাদের আশ্রয় ও পুনর্বাসন এবং দারিদ্র্য দূরীকরণের উদ্দেশ্যে প্রণীত সরকারি বা রাষ্ট্রীয় আইনসমূহকে বোঝায়। চতুর্দশ শতাব্দী থেকে বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ পর্যন্ত ইংল্যান্ড ও অন্যান্য দেশে দরিদ্রদের সহায়তা ও নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে ধারাবাহিক দরিদ্র আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১৬০১ সালের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রফেসর আলাউদ্দিন ইংল্যান্ডের '১৬০১ সালের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইন'-এর আলোকে পরামর্শ দিয়েছেন।
ইংল্যান্ডের তৎকালীন আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে ১৬০১ সালে রানি প্রথম এলিজাবেথ ৪৩তম দরিদ্র আইন জারি করেন। এ আইনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল দরিদ্রদের শ্রেণিবিন্যাস। এ আইনে দরিদ্রদের তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছিল: সক্ষম দরিদ্র (The Able-bodied Poor), অক্ষম দরিদ্র (The Impotent Poor) এবং নির্ভরশীল শিশু (Dependent Children)।
উদ্দীপকে প্রফেসর আলাউদ্দিন চাঁদপুর জেলার ভিক্ষাবৃত্তি নিরসনে ভিক্ষুকদের সক্ষম ও অক্ষম—এই দুই ভাগে বিভক্ত করতে বলেছেন এবং সক্ষম ভিক্ষুকদের কাজের সংস্থান করে দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন। ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনেও সক্ষম দরিদ্রদের কাজের ব্যবস্থা করে শ্রমগারে (Workhouse) কাজ করানো বাধ্যতামূলক ছিল এবং অক্ষমদের দরিদ্রাগারে (Almshouse) আশ্রয় ও ভরণপোষণ দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। সুতরাং, তাঁর প্রদত্ত পরামর্শটি সরাসরি ইংল্যান্ডের ১৬০১ সালের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইনের মূল নীতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দরিদ্র সমস্যার সমাধানে ১৬০১ সালের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইনের ভূমিকা অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও তাৎপর্যপূর্ণ। নিম্নে তা আলোচনা করা হলো:
১. দারিদ্র্য দূরীকরণ ও পুনর্বাসন: এ আইনের ফলে ইংল্যান্ডে বিক্ষিপ্ত ও ব্যক্তিগত সাহায্য কার্যক্রমের পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মাধ্যমে সাহায্য কার্যক্রম পরিচালিত হতে শুরু করে। এর ফলে ভিক্ষাবৃত্তি ও ছদ্মবেশী অপরাধ অনেকাংশে হ্রাস পায়।
২. দরিদ্রদের শ্রেণিবিন্যাসকরণ: এ আইনের মাধ্যমে দরিদ্রদের শ্রেণিভিত্তিক শনাক্তকরণ সম্ভব হয়েছিল। সক্ষম দরিদ্রদের শ্রমগারে কাজ দিয়ে স্বাবলম্বী করা এবং অক্ষম দরিদ্রদের (অন্ধ, বৃদ্ধ, পঙ্গু ইত্যাদি) দরিদ্রাগারে সেবা ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রদান করা হতো। অনাথ ও নির্ভরশীল শিশুদের এতিমখানায় বা শিক্ষানবিস হিসেবে বিভিন্ন পেশায় নিয়োগ দেওয়া হতো।
৩. প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সহায়তা: প্রতিটি প্যারিশে দরিদ্র কর (Poor Rate) নির্ধারণ এবং দরিদ্র তত্ত্বাবধায়ক (Overseer of the Poor) নিয়োগের বিধান চালু হয়, যা স্থানীয় পর্যায়ে দারিদ্র্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা এনে দেয়।
৪. আধুনিক সমাজকল্যাণের ভিত্তি: এটি কেবল সাময়িক ত্রাণ প্রদানের পরিবর্তে পুনর্বাসনের ধারণা প্রতিষ্ঠিত করে। রাষ্ট্র যে নাগরিকদের মৌলিক নিরাপত্তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তা এ আইনের মধ্য দিয়েই প্রথমবারের মতো আইনি স্বীকৃতি পায়।
অতএব, ইংল্যান্ডের দারিদ্র্য সমস্যা সমাধানসহ আধুনিক বৈজ্ঞানিক সমাজকল্যাণ ও সমাজকর্ম পেশার ভিত্তি রচনায় ১৬০১ সালের দরিদ্র আইন অত্যন্ত যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও