গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, যশোর • ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, যশোর টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    পুষ্টি কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    “জীবদেহে প্রোটিনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ”- বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    চিত্রের ‘A’ অংশটি চিহ্নিত করে এর ক্রিয়াকৌশল ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    চিত্রের ‘B’ চিহ্নিত অংশটির গঠন ও কাজ উল্লেখ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় জীব খাদ্যবস্তু গ্রহণ, পরিপাক ও শোষণ করে দেহের বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ এবং শক্তি উৎপাদন নিশ্চিত করে, তাকে পুষ্টি (Nutrition) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জীবদেহের গঠন ও কার্যকারিতার মূল ভিত্তি হলো প্রোটিন। প্রোটিন জীবদেহের কোষ ও কলার প্রধান গাঠনিক উপাদান হিসেবে কাজ করে, অর্থাৎ দেহের বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। এছাড়া উৎসেচক (এনজাইম) ও বহু হরমোন প্রোটিন দ্বারা গঠিত, যা দেহের বিভিন্ন বিপাকীয় ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। রক্তে হিমোগ্লোবিন প্রোটিন হিসেবে অক্সিজেন পরিবহন করে এবং অ্যান্টিবডি প্রোটিন হিসেবে রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। তাই জীবদেহে প্রোটিনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চিত্রের ‘A’ চিহ্নিত অংশটি হলো যকৃত (Liver)।

    যকৃতের ক্রিয়াকৌশল (পরিপাক ও বিপাকীয় ভূমিকা):
    ১. পিত্তরস উৎপাদন: যকৃত পিত্তরস ক্ষরণ করে যা পিত্তথলিতে জমা থাকে। এই পিত্তরস ক্ষারীয় পরিবেশ তৈরি করে এবং চর্বিজাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণায় বিশ্লিষ্ট (Emulsification) করে লাইপেজ এনজাইমের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে।
    ২. শর্করা বিপাক: যকৃত রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। অতিরিক্ত গ্লুকোজকে ইনসুলিনের প্রভাবে গ্লাইকোজেন হিসেবে জমা রাখে (গ্লাইকোজেনেসিস) এবং প্রয়োজনে গ্লাইকোজেন ভেঙে গ্লুকোজ উৎপন্ন করে রক্তে সরবরাহ করে (গ্লাইকোজেনোলাইসিস)।
    ৩. প্রোটিন বিপাক: ডিঅ্যামিনেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অতিরিক্ত অ্যামাইনো অ্যাসিড ভেঙে কিটো অ্যাসিড ও ক্ষতিকর অ্যামোনিয়া তৈরি করে এবং অর্নিথিন চক্রের মাধ্যমে অ্যামোনিয়াকে কম ক্ষতিকর ইউরিয়াতে রূপান্তর করে।
    ৪. বিষাক্ত উপাদান নিষ্ক্রিয়করণ: দেহে প্রবেশ করা বিভিন্ন বিষাক্ত পদার্থ, ওষুধ বা টক্সিনকে নির্দোষ উপাদানে পরিণত করে শরীরকে রক্ষা করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চিত্রের ‘B’ চিহ্নিত অংশটি হলো অগ্ন্যাশয় (Pancreas)।

    গঠন:
    অগ্ন্যাশয় ডিওডেনামের ‘U’ আকৃতির বাঁকের মধ্যে অবস্থিত একটি লম্বাটে, চ্যাপ্টা ও গোলাপি রঙের মিশ্র গ্রন্থি। এটি বহিঃক্ষরা (Exocrine) ও অন্তঃক্ষরা (Endocrine) উভয় প্রকার কলার সমন্বয়ে গঠিত। এর বহিঃক্ষরা অংশে থাকে অসংখ্য লোবিউল বা অ্যাসিনাস (Acinus), যা অগ্ন্যাশয় নালির সাথে যুক্ত। অন্তঃক্ষরা অংশে গুচ্ছাকারে থাকে ‘আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স’ (Islets of Langerhans), যেখানে প্রধানত আলফা, বিটা, ডেল্টা ও পিপি কোষ থাকে।

    কাজ:
    ১. পরিপাকীয় কাজ (বহিঃক্ষরা): অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয় রস (Pancreatic juice) নিঃসৃত হয়। এতে ট্রিপসিন ও কাইমোট্রিপসিন (প্রোটিন পরিপাককারী), অ্যামাইলেজ (শর্করা পরিপাককারী) এবং লাইপেজ (স্নেহ পরিপাককারী) এনজাইম থাকে যা সব ধরনের খাদ্য পরিপাকে সক্রিয় ভূমিকা রাখে। এছাড়াও এতে থাকা সোডিয়াম বাইকার্বোনেট পাকস্থলী থেকে আসা অম্লীয় খাদ্যমন্ডকে ক্ষারীয় রূপ দেয়।
    ২. অন্তঃক্ষরা কাজ (হরমোন নিঃসরণ): আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স-এর বিটা কোষ থেকে ইনসুলিন এবং আলফা কোষ থেকে গ্লুকাগন হরমোন ক্ষরিত হয়। ইনসুলিন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমায় এবং গ্লুকাগন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দেহের শর্করা বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন