গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র • ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, যশোর • ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, যশোর টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
আইরিন ও রেবা দুই বোন মিলে পৌষমেলায় স্টল বুকিং দিল। স্টলে দেশীয় কাপড়ের বিভিন্ন নকশাযুক্ত সামগ্রী বানানোর জন্য বাজার থেকে কিছু কাপড় কিনে নকশা করা কাঠে রঙ দিয়ে কাপড়ে ছাপ দিল, এছাড়া কিছু কাপড় সুতা দিয়ে বেঁধে রঙ করল। অন্যদিকে রেবা কাপড়ে নকশা এঁকে মোম দিয়ে ঢেকে রঙ করল। মেলার স্টলে কাপড়গুলো সাজানোর পর সবগুলো সামগ্রীই আকর্ষণীয় লাগল।
- ক)(1)
প্রাকৃতিক রঙ কাকে বলে?
- খ)(2)
“কৃত্রিম রঙে স্থায়িত্ব বেশি” বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
আইরিন যে পদ্ধতিতে বস্ত্র ছাপার কাজ করেছে তার নিয়ম ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে যে সকল বস্ত্র রঙ করার পদ্ধতির উল্লেখ আছে- সেগুলোর তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রকৃতিতে প্রাপ্ত বিভিন্ন উদ্ভিদ (গাছের ছাল, মূল, ফুল, ফল ইত্যাদি), প্রাণী ও খনিজ পদার্থ থেকে যেসব রঙ আহরণ করা হয়, সেগুলোকে প্রাকৃতিক রঙ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃত্রিম রঙ বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানের সাহায্যে কারখানায় নির্দিষ্ট ফর্মুলায় তৈরি হয় বলে এগুলোর অণু কাপড়ের আঁশের সাথে দৃঢ় রাসায়নিক বন্ধন তৈরি করে। ফলে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত প্রাকৃতিক রঙের তুলনায় কৃত্রিম রঙ ধোয়া, রোদ ও ঘর্ষণের প্রভাবে সহজে ফিকে বা নষ্ট হয় না। এজন্য কৃত্রিম রঙের স্থায়িত্ব বেশি হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আইরিন উদ্দীপকে কাঠের ব্লক দিয়ে কাপড়ে ছাপ দিয়েছে, অর্থাৎ সে 'ব্লক প্রিন্টিং' পদ্ধতিতে কাপড়ে ছাপার কাজ করেছে।
ব্লক প্রিন্ট করার নিয়মাবলি নিচে দেওয়া হলো:
১. প্রস্তুতি: প্রথমে কাপড় ভালোভাবে ধুয়ে মাড়মুক্ত করে ইস্ত্রি করে নিতে হয়। এরপর একটি প্যাডেড টেবিলের ওপর কাপড় টানটান করে পিন দিয়ে আঁটকে দিতে হয়।
২. রঙের পেস্ট তৈরি: বাটিক/ব্লক রঙের রাসায়নিক উপাদান, বাইন্ডার ও প্রয়োজনীয় রঙ মিশিয়ে নির্দিষ্ট ঘনত্বে রঙের পেস্ট তৈরি করা হয়।
৩. ট্রে ও স্পঞ্জ প্রস্তুতি: একটি ট্রেতে স্পঞ্জ বা ট্রে-ক্লথ বসিয়ে তার ওপর রঙের পেস্ট সমানভাবে ঢেলে নেওয়া হয়।
৪. ছাপ দেওয়া: খোদাই করা কাঠের ব্লকের নকশার অংশটি রঙের ট্রে-তে হালকা চাপ দিয়ে রঙে ভিজিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তা কাপড়ের নির্দিষ্ট স্থানে বসিয়ে ব্লকের ওপর হাত দিয়ে দৃঢ়ভাবে সমচাপ প্রয়োগ করা হয়, যাতে কাপড়ে নকশাটি নিখুঁতভাবে ফুটে ওঠে।
৫. শুকানো ও ফিক্সিং: সম্পূর্ণ কাপড়ে ছাপ দেওয়া শেষ হলে তা ছায়াযুক্ত স্থানে শুকানো হয় এবং পরবর্তীতে পেছনের দিক থেকে ইস্ত্রি করে রঙ স্থায়ী করে নেওয়া হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রধানত তিনটি পদ্ধতিতে বস্ত্র অলংকরণ ও রঙ করার কথা উল্লেখ রয়েছে: ১. কাঠের ব্লক দিয়ে ছাপানো (ব্লক প্রিন্টিং), ২. সুতা দিয়ে বেঁধে রঙ করা (টাই-ডাই) এবং ৩. মোম দিয়ে ঢেকে রঙ করা (বাটিক প্রিন্ট)। নিচে এগুলোর তুলনামূলক বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
১. ব্লক প্রিন্ট বনাম টাই-ডাই ও বাটিক: ব্লক প্রিন্ট হলো একটি প্রত্যঙ্গ বা বাহ্যিক ছাপার পদ্ধতি, যেখানে সম্পূর্ণ কাপড় রঙে না ডুবিয়ে কেবল নকশার অংশে ব্লক দিয়ে ছাপানো হয়। পক্ষান্তরে, টাই-ডাই এবং বাটিক হলো রেজিস্ট ডাইং (রঙ প্রতিরোধক) পদ্ধতি, যেখানে কাপড়ের কিছু অংশ রঙ প্রবেশে বাধা দিয়ে বাকি অংশ রঙের তরল দ্রবণে ডুবিয়ে রঙ করা হয়।
২. টাই-ডাই ও বাটিকের তুলনা: টাই-ডাই পদ্ধতিতে সুতা, ক্লিপ বা পাথর দিয়ে কাপড়কে শক্ত করে বেঁধে রঙ প্রতিরোধ করা হয়। এতে সাধারণত বৃত্তাকার, ডোরাকাটা বা বিমূর্ত তরঙ্গায়িত নকশা সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে বাটিক পদ্ধতিতে গলিত মোম তুলির সাহায্যে কাপড়ে নকশা অনুযায়ী লাগানো হয়, যা শুকিয়ে রঙ প্রতিরোধক আস্তরণ তৈরি করে। বাটিকের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো কাপড়ের মোম শুকানোর পর কিছুটা ভেঙে নিলে ফাটলযুক্ত সুন্দর ক্র্যাক নকশা সৃষ্টি হয়, যা টাই-ডাইতে সম্ভব নয়।
৩. প্রয়োগ ও বৈচিত্র্য: ব্লক প্রিন্টে একই ধরনের নিখুঁত ও জ্যামিতিক নকশার পুনরাবৃত্তি ঘটানো সহজ। কিন্তু টাই-ডাই ও বাটিকে মুক্তহস্তের বৈচিত্র্যময় ও প্রাকৃতিক আবহ আনা সম্ভব।
পরিশেষে, প্রতিটি পদ্ধতিরই স্বকীয় কৌশল ও সৌন্দর্য রয়েছে যা দেশীয় কাপড়ে ভিন্ন ভিন্ন শৈল্পিক রূপ এনে দেয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও