ইতিহাস ১ম পত্র • ব্রিটিশ শাসন ও প্রতিরোধ আন্দোলন • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
রূপপুর গ্রামের কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে মহাজনদের দ্বারা নির্যাতিত হয়ে আসছে। চড়া সুদে ঋণ নিয়ে তারা তা পরিশোধ করতে পারে না। ফলে ঋণের দায়ে জমি ভিটাবাড়ি সবই মহাজনদের হাতে তুলে দিতে হয়। সোহান গ্রামের একজন সচেতন মানুষ। তিনি মহাজনদের হাত থেকে কৃষকদের রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন। শুরু হয় বিরোধ। শেষ পর্যন্ত মহাজনদের হাতেই তিনি নিহত হন।
- ক)(1)
ভারতবর্ষে কত সাল থেকে ফকির সন্ন্যাসী বিদ্রোহ শুরু হয়?
- খ)(2)
ফরায়েজি আন্দোলনের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সোহানের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন সংস্কারকের কাজের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত সংস্কারকের পরিণতি কি উদ্দীপকের সোহানের মতই হয়েছিল? তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভারতবর্ষে ১৭৬০ সাল (মতান্তরে ১৭৬৩ সাল) থেকে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ শুরু হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ফরায়েজি আন্দোলন ছিল উনিশ শতকের প্রথমার্ধে বাংলায় হাজী শরীয়তুল্লাহ কর্তৃক সূচিত একটি ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলন। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ইসলাম ধর্ম থেকে অনৈসলামিক কুসংস্কার, বিদয়াত ও অন্যায্য প্রথা দূর করে ধর্মের মূল অনুশাসন ও 'ফরজ'সমূহ যথাযথভাবে পালন করা। তবে হাজী শরীয়তুল্লাহর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র দুদু মিয়ার নেতৃত্বে এই আন্দোলন পরবর্তীতে নীলকর ও অত্যাচারী জমিদার-মহাজনদের বিরুদ্ধে কৃষকদের অধিকার রক্ষার এক বলিষ্ঠ রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক প্রতিরোধ আন্দোলনে রূপ লাভ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সোহানের সাথে পাঠ্যবইয়ের সংস্কারক ও বিপ্লবী তিতুমীর (সৈয়দ মীর নিসার আলী)-এর কাজের মিল রয়েছে।
তিতুমীর প্রথমে ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার দিয়ে শুরু করলেও তৎকালীন সময়ে হিন্দু জমিদার (যেমন পুড়ার জমিদার কৃষ্ণদেব রায়) এবং ইংরেজ নীলকরদের দ্বারা মুসলিম ও সাধারণ কৃষকদের ওপর অন্যায় কর ও চড়া সুদে অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। তিনি নির্যাতিত কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ করে জমিদার ও মহাজনদের অন্যায্য শোষণ ও দাড়ি রাখার ওপর আরোপিত করসহ বিভিন্ন বৈষম্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
উদ্দীপকের সোহান যেমন রূপপুর গ্রামের কৃষকদের মহাজনদের চড়া সুদের ঋণের হাত থেকে রক্ষা করতে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সচেতন করেন এবং বিরোধে জড়ান, তিতুমীরও তেমনি নির্যাতিত প্রজা ও কৃষকদের রক্ষার জন্য জমিদার-মহাজন ও ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। এ দিক থেকে সোহানের ভূমিকার সাথে তিতুমীরের কাজের গভীর মিল রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, সংস্কারক তিতুমীরের চরম পরিণতি উদ্দীপকের সোহানের মতোই মর্মান্তিক হয়েছিল।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সোহান নির্যাতিত কৃষকদের অধিকারের জন্য মহাজনদের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করার পর শেষ পর্যন্ত অত্যাচারী শক্তির হাতে নির্মমভাবে নিহত হন।
বাস্তব ইতিহাসেও দেখা যায়, তিতুমীর যখন অত্যাচারী জমিদার ও নীলকরদের বিরুদ্ধে কৃষকদের সংগঠিত করেন, তখন জমিদাররা ব্রিটিশ প্রশাসনের সাহায্য প্রার্থনা করে। ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী তিতুমীরের কৃষক আন্দোলনকে দমন করার জন্য আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত নিয়মিত সেনাবাহিনী পাঠায়। তিতুমীর তাঁর অনুসারীদের নিয়ে বারাসাতের নারকেলবাড়িয়ায় ঐতিহাসিক 'বাঁশের কেল্লা' নির্মাণ করে বীরত্বের সাথে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। কিন্তু ১৮৩১ সালের ১৯ নভেম্বর ব্রিটিশ বাহিনীর কামানের গোলার আঘাতে বাঁশের কেল্লা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং অসম যুদ্ধে বীর তিতুমীর যুদ্ধক্ষেত্রেই শাহাদাতবরণ করেন।
অতএব, উদ্দীপকের সোহানের মতো তিতুমীরও শোষিত ও নির্যাতিত মানুষের অধিকার আদায় করতে গিয়ে অত্যাচারী শাসক ও মহাজন চক্রের হাতে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ফলে বলা যায়, উভয়ের পরিণতিই ছিল আত্মত্যাগমূলক ও একই রকম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও