কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০১৯

কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    ম্যানগ্রোভ বন কী?

    (1)
  2. খ)

    বৃক্ষে প্রুনিং করতে হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    চিত্র-২ বনটির বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    চিত্র-১ ও চিত্র-২ এর মধ্যে কোন বনটি বাংলাদেশে অধিক সৃজন করা সম্ভব? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উপকূলীয় লবণাক্ত ও জোয়ার-ভাটা প্লাবিত অঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা বিশেষ অভিযোজিত বনকে ম্যানগ্রোভ বন বা গরান বন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গাছের কাঙ্ক্ষিত বৃদ্ধি, উন্নত আকৃতি এবং গুণগত মানসম্পন্ন কাঠ ও ফলন পাওয়ার জন্য প্রুনিং বা ডালপালা ছাঁটাই করা হয়। গাছের মরা, রোগাক্রান্ত, শুকনা বা অপ্রয়োজনীয় ডালপালা ছেঁটে ফেললে মূল কাণ্ডে আলো-বাতাস সহজে প্রবেশ করতে পারে। ফলে রোগবালাই ও পোকা-মাকড়ের আক্রমণ হ্রাস পায় এবং মূল কান্ডের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়ে সোজা ও নিরবচ্ছিন্ন গোল কাঠ উৎপন্ন হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্র-২ হলো ম্যানগ্রোভ বন (উপকূলীয় বন বা সুন্দরবন)। এই বনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. জোয়ার-ভাটা ও লবণাক্ততা: এ বন সমুদ্রের উপকূলীয় লবণাক্ত পানিতে দৈনিক দুবার জোয়ার-ভাটায় প্লাবিত হয়। এখানকার উদ্ভিদের লবণাক্ত পরিবেশ সহনশীল বিশেষ অভিযোজন ক্ষমতা রয়েছে।
    ২. শ্বাসমূল (নিউম্যাটোফোর): কর্দমাক্ত ও জলাবদ্ধ মাটিতে অক্সিজেনের অভাব থাকায় এ বনের উদ্ভিদের মূল থেকে খাড়াভাবে মাটির ওপরে শত শত শ্বাসমূল বা নিউম্যাটোফোর উঠে আসে, যার সাহায্যে গাছ বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে।
    ৩. ঠেসমূল ও জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম: নরম কাদামাটিতে গাছকে সোজা দাঁড়িয়ে থাকতে সাহায্য করে ঠেসমূল। এ ছাড়া অনেক গাছে মাতৃউদ্ভিদে ফল থাকা অবস্থাতেই বীজের অঙ্কুরোদগম (জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম) ঘটে, যাতে ফলটি মাটিতে পড়ার সাথে সাথে গেঁথে গিয়ে দ্রুত শিকড় ছড়াতে পারে।
    ৪. উদ্ভিদের বৈচিত্র্য: এ বনে সুন্দরী, গেওয়া, গরান, পশুর, গোলপাতা ইত্যাদি চিরহরিৎ প্রকৃতির বিশেষ উদ্ভিদ জন্মায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্র-১ হলো সমতল ভূমির বন (শাল বা সামাজিক বন) এবং চিত্র-২ হলো ম্যানগ্রোভ বা উপকূলীয় বন। এই দুই বনের মধ্যে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চিত্র-১ বনটি (সমতল ভূমির বন বা সামাজিক বন) অধিক সৃজন করা সম্ভব। নিচে এর কারণ বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. ভৌগোলিক বিস্তার ও ভূমির সহজলভ্যতা: ম্যানগ্রোভ বন কেবল নির্দিষ্ট উপকূলীয় অঞ্চল এবং যেখানে জোয়ার-ভাটা ও লবণাক্ত পানি বিদ্যমান, কেবল সেখানেই সৃজন করা সম্ভব। অন্যদিকে, বাংলাদেশের প্রায় সম্পূর্ণ ভূখণ্ডই সমতল ভূমি। ফলে দেশের যেকোনো সড়ক-মহাসড়কের পাশে, বাঁধ, রেললাইন, পতিত জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ির আঙিনায় সমতল ভূমির বন বা সামাজিক বন সৃজন করা যায়।

    ২. পরিবেশগত সীমাবদ্ধতা: ম্যানগ্রোভ বনের উদ্ভিদের (সুন্দরী, গেওয়া, কেওড়া ইত্যাদি) বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত জোয়ার-ভাটা, অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও নির্দিষ্ট মাত্রার লবণাক্ততা আবশ্যক। সাধারণ সমতল বা মিঠাপানির অঞ্চলে এই উদ্ভিদের বৃদ্ধি সম্ভব নয়। বিপরীতভাবে, শাল, মেহগনি, রেইনট্রি, কড়ই ইত্যাদি সমতল ভূমির উপযোগী বৃক্ষ যেকোনো সমতল মাটিতে সহজেই টিকে থাকে।

    ৩. ব্যবস্থাপনা ও গণমানুষের অংশগ্রহণ: সামাজিক ও সমতল ভূমির বন সৃজনে সাধারণ জনগণ সরাসরি অংশগ্রহণ করতে পারে এবং কৃষি বনায়নের মাধ্যমে একই সাথে খাদ্য ও কাঠের চাহিদা পূরণ করা যায়। এতে রক্ষণাবেক্ষণ তুলনামূলক সহজ। ম্যানগ্রোভ উপকূলীয় বনায়ন মূলত সরকারি উদ্যোগ ও উপকূলের নির্দিষ্ট চরাঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকে।

    অতএব, ভূমির প্রাপ্যতা, সহজ পরিবেশগত অভিযোজন ও সার্বিক উপযোগিতার বিবেচনায় চিত্র-১ বনটি (সমতল ভূমির বন) বাংলাদেশে অধিক সৃজন করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন