কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০১৯
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
রতন রংপুরে তার মামার বাড়িতে বেড়াতে গেলে মামা তাকে উপজেলা সদরে মেলা দেখতে নিয়ে যায়। সেখানে সে বিভিন্ন ধরনের বাহারি গাছ ও ক্যাকটাস দেখল। যখন আমের চারার স্টলে গেল, সে দেখল ছোট ছোট গাছে অনেক আম ধরে আছে। তার মামা মেলা থেকে কয়েক প্রজাতির গাছ কিনলেন এবং বাড়িতে এসে রোপণ করলেন। এসব দেখে রতন লেখাপড়ার পাশাপাশি নার্সারি করার সিদ্ধান্ত নিল।
- ক)(1)
প্রুনিং কী?
- খ)(2)
কৃষকদের কৃষিঋণের কেন দরকার হয়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত মেলার বৈশিষ্ট্যগুলো বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত মেলার উপকারিতা সম্পর্কে তোমার মতামত বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গাছের কাঙ্ক্ষিত বৃদ্ধি, সুন্দর অবয়ব এবং ফলন বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে অপ্রয়োজনীয়, রোগাক্রান্ত বা মৃত ডালপালা কেটে ফেলাকে প্রুনিং (Pruning) বা ডাল ছাঁটাই বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের অধিকাংশ কৃষকই দরিদ্র ও প্রান্তিক। ফসল উৎপাদনের জন্য সময়মতো বীজ, সার, কীটনাশক ও সেচের যন্ত্রপাতি ক্রয়, শ্রমিক মজুরি প্রদান এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণ সংগ্রহের জন্য তাৎক্ষণিক অর্থের প্রয়োজন হয়। নিজস্ব সঞ্চয় না থাকায় ফসল ফলানো ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য কৃষকদের স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি কৃষিঋণের দরকার হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত মেলাটি হলো একটি 'বৃক্ষমেলা' বা 'কৃষি মেলা'। এ মেলার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদের সমাবেশ: মেলাটিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরনের ফলদ, বনজ, ঔষধি, অর্নামেন্টাল বা বাহারি গাছ ও ক্যাকটাসের প্রদর্শন ও বিক্রয়ের ব্যবস্থা থাকে।
২. উন্নত প্রযুক্তির চারা ও কলমের প্রদর্শনী: মেলায় ছোট ছোট কলমের গাছে ফল ও ফুল ধরা চারা (যেমন উদ্দীপকে দেখা ছোট গাছে আম ধরে থাকা) প্রদর্শন করা হয়, যা আধুনিক কলম ও নার্সারি পদ্ধতির সুফল তুলে ধরে।
৩. কৃষি সচেতনতা ও বিস্তার: কৃষকদের ও সাধারণ মানুষকে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করার জন্য উন্নত মানের চারা, সার, কীটনাশক এবং বাগান পরিচর্যার সরঞ্জামাদি সুলভে বিক্রির স্টল থাকে।
৪. জ্ঞানবিনিময়: বিশেষজ্ঞ ও নার্সারি মালিকদের কাছ থেকে চারা রোপণ ও পরিচর্যা সম্পর্কে ক্রেতারা সরাসরি পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত কৃষি বা বৃক্ষমেলা কৃষি খাতের সম্প্রসারণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ মেলার উপকারিতা সম্পর্কে আমার মতামত বিশ্লেষণ করা হলো:
১. বৃক্ষরোপণে উৎসাহ ও উদ্বুদ্ধকরণ: মেলায় উন্নত জাতের ও আকর্ষণীয় চারা প্রদর্শনের মাধ্যমে রতনের মামার মতো সাধারণ মানুষ এবং দর্শনার্থীরা গাছ লাগাতে ও বাগান করতে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত হন।
২. আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরি: মেলা দেখে রতনের মতো তরুণরা আধুনিক পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন ও নার্সারি ব্যবসা শুরু করতে আগ্রহী হয়, যা দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে এবং নতুন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়ক।
৩. উন্নত জাত ও প্রযুক্তির সহজলভ্যতা: এক ছাদের নিচে ক্রেতারা সহজে কলমের চারা, হাইব্রিড জাতের ফলমূল ও মানসম্মত কৃষি উপকরণের সন্ধান পান।
৪. অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি: ফলের চারা রোপণের মাধ্যমে গৃহস্থালি পুষ্টিচাহিদা পূরণ ও উদ্বৃত্ত ফল বিক্রি করে চাষি বা গৃহস্থ আর্থিকভাবে লাভবান হন।
৫. পরিবেশ রক্ষা: মেলাটির মাধ্যমে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণের বার্তা জনগণের মাঝে পৌঁছে যায়, যা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব রোধে সাহায্য করে।সুতরাং, দেশের সবুজায়ন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে বেগবান করতে এ ধরনের মেলার অবদান অপরিসীম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও