মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর বোর্ড ২০১৯
মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্য-১: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা আতিয়া স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রেখে একটি শিশুর আচরণ অবলোকন করছেন। তার স্বাভাবিক আচরণ যাতে বিঘ্নিত না হয় সেদিকেও সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন।দৃশ্য-২: সীমা একটি শিশুর আচরণ পর্যবেক্ষণের জন্য তাকে গবেষণাগারে নিয়ে আসেন এবং কিছু শর্ত প্রয়োজন অনুসারে বাড়িয়ে কমিয়ে তার আচরণ পর্যবেক্ষণ করেন। সবশেষে প্রাপ্ত উপাত্ত বিশ্লেষণ ও সরলীকরণের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
- ক)(1)
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি কী?
- খ)(2)
পরীক্ষণ পদ্ধতি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় কেন?
- গ)(3)
আতিয়ার ব্যবহৃত গবেষণা পদ্ধতির নাম লেখ এবং ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্য-২ এ সীমার ব্যবহৃত পদ্ধতি দুটো উল্লেখ করো এবং তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে গবেষক পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণ ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে কোনো বিষয়বস্তু সম্পর্কে নৈর্ব্যক্তিক ও প্রমাণভিত্তিক জ্ঞান লাভ করেন, তাকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মনোবিজ্ঞানে পরীক্ষণ পদ্ধতি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় কারণ এ পদ্ধতিতে গবেষক পরিবেশের অন্যান্য অবাঞ্ছিত প্রভাব বা উপাত্ত সুনিয়ন্ত্রিত রেখে স্বাধীন চলকের পরিবর্তনের মাধ্যমে অনির্ভরশীল চলকের উপর তার সঠিক কারণ ও প্রভাব (Cause-and-effect relationship) সরাসরি নির্ণয় করতে পারেন। এছাড়া এ পদ্ধতিতে প্রাপ্ত ফলাফল যেকোনো সময় পুনরুক্তির মাধ্যমে যাচাইযোগ্য এবং এর উপাত্ত অত্যন্ত নৈর্ব্যক্তিক ও নির্ভরযোগ্য হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্য-১ এ শিক্ষিকা আতিয়ার ব্যবহৃত গবেষণা পদ্ধতির নাম হলো 'স্বাভাবিক পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি' (Naturalistic Observation Method)।
কোনো কৃত্রিম নিয়ন্ত্রণ বা বাহ্যিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই প্রাণীর আচরণ যেভাবে স্বাভাবিক প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘটে, তাকে অবিকল পর্যবেক্ষণ ও লিপিবদ্ধ করার কৌশলকে স্বাভাবিক পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি বলে।
উদ্দীপকে শিক্ষিকা আতিয়া স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রেখে একটি শিশুর আচরণ অবলোকন করছেন এবং শিশুটির স্বাভাবিক আচরণ যাতে বিঘ্নিত বা পরিবর্তিত না হয়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন। এই পদ্ধতিটি বাস্তবমুখী ও কৃত্রিমতামুক্ত আচরণের তথ্য সংগ্রহে অত্যন্ত ফলপ্রসূ। যেহেতু প্রাণী বা মানুষ বুঝতে পারলে তার আচরণ কৃত্রিম বা পরিবর্তিত হতে পারে, তাই গবেষক আতিয়া শিশুর অগোচরে স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষা করে তথ্য সংগ্রহ করেছেন, যা স্বাভাবিক পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির মূল নীতি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্য-২ এ সীমা মূলত আচরণ পর্যবেক্ষণের জন্য 'পরীক্ষণ পদ্ধতি' (Experimental Method) এবং উপাত্ত বিশ্লেষণপূর্বক সিদ্ধান্তের জন্য 'পরিসংখ্যানিক/গবেষণা বিশ্লেষণ পদ্ধতি' বা পরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রিত পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির সংমিশ্রণ ব্যবহার করেছেন। দৃশ্য-১ (স্বাভাবিক পর্যবেক্ষণ) ও দৃশ্য-২ (পরীক্ষণ পদ্ধতি)-এর মধ্যকার একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিম্নে দেওয়া হলো:
১. পরিবেশের ধরন: আতিয়ার স্বাভাবিক পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি পরিচালিত হয় স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশে, যেখানে কোনো কৃত্রিমতা থাকে না। অন্যদিকে সীমার পরীক্ষণ পদ্ধতি পরিচালিত হয় গবেষণাগারের কৃত্রিম ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে।
২. চলের নিয়ন্ত্রণ: আতিয়ার পদ্ধতিতে বাহ্যিক প্রভাবক বা চলের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না, ফলে অবাঞ্ছিত চলের প্রভাব রয়ে যেতে পারে। পক্ষান্তরে, সীমার পদ্ধতিতে গবেষক প্রয়োজন অনুসারে বিভিন্ন শর্ত বাড়িয়ে বা কমিয়ে স্বাধীন চলকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করতে পারেন।
৩. কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়: আতিয়ার পদ্ধতি কেবল আচরণ বর্ণনামূলক, এর মাধ্যমে ঘটনার কার্যকারণ (Cause and Effect) নিশ্চিত করা যায় না। কিন্তু সীমা গবেষণাগারে বিভিন্ন চল নিয়ন্ত্রণ করে শিশুর আচরণের কার্যকারণ সুনির্দিষ্টভাবে নির্ণয় করতে পারেন।
৪. পুনরাবৃত্তি ও নির্ভরযোগ্যতা: স্বাভাবিক পরিবেশের আচরণ সর্বদা হুবহু পুনরাবৃত্তি করা সম্ভব হয় না। অন্যদিকে গবেষণাগারে পরিচালিত সীমার পরীক্ষণ পদ্ধতিটি কঠোর বৈজ্ঞানিক নিয়মে পুনরাবৃত্তিযোগ্য এবং এর উপাত্ত বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত অধিকতর বস্তুনিষ্ঠ ও নির্ভুল হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও