গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • বাংলাদেশ নৌবাহিনী কলেজ, চট্টগ্রাম • বাংলাদেশ নৌবাহিনী কলেজ, চট্টগ্রাম টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
রকিব সাহেব গত বছর একটি দুর্ঘটনার শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তখন তার শরীরে রক্ত দেওয়া হয়েছিল। এখন তার প্রায়ই জ্বর আসে। ওজন দ্রুত কমে যাচ্ছে। রোগ প্রতিরোধ শক্তি একেবারেই নাই বললেই চলে। এ অবস্থায় ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার রোগ শনাক্ত করেন। তারপর থেকে পরিবারের লোকজন তার সাথে স্বাভাবিক ব্যবহার করলেও সমাজের লোকজন তাদের একঘরে করে দিয়েছে।
- ক)(1)
মানসিক স্বাস্থ্য কাকে বলে?
- খ)(2)
মেনোপোজ কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে রকিব সাহেব কোন রোগে আক্রান্ত? এটি প্রতিরোধের উপায় ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে রকিবের প্রতি তার পরিবার ও সমাজের আচরণ কি যৌক্তিক? তোমার মতামত উপস্থাপন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানসিক স্বাস্থ্য হলো একজন ব্যক্তির আবেগীয়, মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক সুস্থতার এমন একটি অবস্থা, যেখানে সে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করতে পারে, জীবনের স্বাভাবিক চাপ মোকাবিলা করতে পারে এবং সমাজে ফলপ্রসূ অবদান রাখতে সক্ষম হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মেনোপোজ বা রজোনিবৃত্তি হলো নারীর জীবনের এমন একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় পর্যায়, যখন ডিম্বাশয়ের কার্যকারিতা হ্রাস পেয়ে স্থায়ীভাবে মাসিক বা ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যায়।
সাধারণত ৪৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সের মধ্যে এই পরিবর্তন ঘটে। মেনোপোজের ফলে শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন হরমোনের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়, যার কারণে নারীর প্রজনন ক্ষমতার সমাপ্তি ঘটে এবং দেহে মেজাজের পরিবর্তন, অতিরিক্ত ঘাম বা হট ফ্ল্যাশের মতো বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রক্ত গ্রহণের ইতিহাস, দীর্ঘদিনের জ্বর, দ্রুত ওজন হ্রাস এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রায় শূন্যে নেমে আসার লক্ষণ থেকে নিশ্চিতভাবে বোঝা যায় যে রকিব সাহেব এইডস (AIDS) রোগে আক্রান্ত।
এইডস প্রতিরোধের প্রধান উপায়গুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন: রক্ত বা রক্তজাত পদার্থ গ্রহণের পূর্বে রক্তদাতার শরীরে এইচআইভি (HIV) আছে কি না তা সঠিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা।
২. নিরাপদ সুচ ও সিরিঞ্জ ব্যবহার: ইনজেকশন বা চিকিৎসার ক্ষেত্রে সর্বদা নতুন ও জীবাণুমুক্ত সুচ এবং সিরিঞ্জ ব্যবহার করা এবং কখনো অন্যের ব্যবহৃত সুচ শেয়ার না করা।
৩. নিরাপদ যৌন আচরণ ও ধর্মীয় অনুশাসন: একাধিক সঙ্গীর সাথে অনৈতিক বা অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক পরিহার করা এবং নিরাপদ মেলামেশার নিয়ম মেনে চলা।
৪. সচেতনতা বৃদ্ধি: এইডস ছড়ানোর মাধ্যম ও এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সঠিক তথ্য ও সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া।
৫. মায়ের স্বাস্থ্যসেবা: গর্ভবতী মায়ের এইচআইভি থাকলে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে গর্ভস্থ শিশুর সংক্রমণ ঝুঁকি প্রতিরোধ করা। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রকিবের প্রতি পরিবারের আচরণ যৌক্তিক ও প্রশংসনীয় হলেও সমাজের আচরণ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, ভিত্তিহীন ও অমানবিক।
পরিবারের ভূমিকা: এইডস কোনো সাধারণ ছোঁয়াচে রোগ নয়। একসাথে বসবাস করা, কথা বলা, স্পর্শ করা, খাওয়া-দাওয়া বা রোগীর সেবা করার মাধ্যমে এইচআইভি সংক্রমণ ছড়ায় না। পরিবার তার সাথে স্বাভাবিক আচরণ করে মানসিক সমর্থন দিয়েছে, যা একজন রোগীর সুস্থ মানসিকতা বজায় রাখা ও বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণার জন্য অত্যন্ত জরুরি। তাই পরিবারের আচরণ সম্পূর্ণ বিজ্ঞানসম্মত ও যৌক্তিক।
সমাজের ভূমিকা: সমাজের লোকজন রকিবের পরিবারকে একঘরে করে দেওয়ার মতো যে আচরণ করেছে, তা কেবল কুসংস্কার ও অজ্ঞতাপ্রসূত। এইডস রোগটি কোনো সামাজিক মেলামেশা বা বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় না। এমন রোগীকে সমাজচ্যুত করলে রোগীর মানসিক যন্ত্রণা বহুগুণ বেড়ে যায় এবং সমাজে রোগটি নিয়ে লুকোচুরি ও কুসংস্কারের সৃষ্টি হয়, যা রোগ নিয়ন্ত্রণের পথকে আরও বাধাগ্রস্ত করে।
অতএব, সমাজের উচিত ছিল রোগীকে সামাজিক বর্জন না করে তার প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া এবং সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। তাই সমাজের একঘরে করার আচরণটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অনভিপ্রেত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও