ভূগোল ২য় পত্র • পরিবহন ও যোগাযোগ • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

আরেফিন সাহেব কুয়াকাটার সমুদ্র উপকূল দেখার জন্য প্রথমে লঞ্চে করে পটুয়াখালী যান। পরবর্তীতে মাইক্রোবাসে করে কুয়াকাটা পৌছান।

  1. ক)

    মংলা বন্দর কোন নদীর তীরে অবস্থিত?

    (1)
  2. খ)

    বন্দরের উন্নতি নির্ভর করে পশ্চাদভূমির উপর ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    আরেফিন সাহেব এর প্রথমে ব্যবহৃত পথটির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত পথ দু'টির সুবিধাসমূহের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মোংলা বন্দর পশুর নদীর তীরে অবস্থিত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটি বন্দরের উন্নয়ন ও সক্রিয়তা মূলত তার পশ্চাদভূমির (Hinterland) অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভরশীল। পশ্চাদভূমি হলো সেই ভৌগোলিক অঞ্চল, যেখানকার পণ্যসামগ্রী ওই বন্দরের মাধ্যমে রপ্তানি করা হয় এবং বন্দর দিয়ে আমদানিকৃত পণ্যসমূহ সেখানে সরবরাহ করা হয়। পশ্চাদভূমি যদি কৃষি, শিল্প ও প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় উন্নত হয়, তবে বন্দরে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়, যা সরাসরি বন্দরের বিকাশ ও অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আরেফিন সাহেবের প্রথমে ব্যবহৃত পথটি হলো ‘নৌপথ’ (লঞ্চে যাতায়াত)। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে নৌপথের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:

    ১. সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী: নদীমাতৃক বাংলাদেশে নৌপথ অন্যতম প্রাকৃতিক ও সস্তা যাতায়াত মাধ্যম। সড়ক বা রেলপথের মতো নৌপথ নির্মাণে কোনো ব্যয় হয় না, কেবল নদীগুলোর নাব্যতা রক্ষা করতে হয়।
    ২. ভারী পণ্য পরিবহণোপযোগী: নৌপথ দিয়ে একবারে বিপুল পরিমাণ যাত্রী এবং ভারী ও বৃহৎ আয়তনের পণ্যসামগ্রী অল্প খরচে দূর-দূরান্তে নিরাপদে পরিবহণ করা যায়।
    ৩. ভৌগোলিক বিস্তার: বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের নদীজালের কারণে নৌপথ অত্যন্ত বিস্তৃত এবং অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চলের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম।
    ৪. ধীরগতি ও মৌসুমভিত্তিক ঝুঁকি: নৌপথে যাতায়াত তুলনামূলক সময়সাপেক্ষ এবং বর্ষাকালে বা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় কালবৈশাখী ও নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ঝুঁকি বেড়ে যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত পথ দুটি হলো ‘নৌপথ’ (লঞ্চ) এবং ‘সড়কপথ’ (মাইক্রোবাস)। যাত্রী ও মালামাল পরিবহণে এ দুটি মাধ্যমের সুবিধাসমূহের তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিম্নরূপ:

    ১. সময় ও গতি: সড়কপথের প্রধান সুবিধা হলো দ্রুতগতি। সড়কপথে স্বল্প সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো যায়, যেখানে নৌপথ তুলনামূলক ধীরগতির এবং অধিক সময়সাপেক্ষ। জরুরি প্রয়োজনে সড়কপথ অধিক উপযোগী।

    ২. খরচ বা ব্যয়: নৌপথের পরিবহণ খরচ সড়কপথের চেয়ে অনেক কম। বিশেষ করে দীর্ঘ দূরত্বে বিপুল পণ্য ও যাত্রী পরিবহণে নৌপথ সর্বাধিক সাশ্রয়ী মাধ্যম। অন্যদিকে, সড়কপথে জ্বালানি ও টোল খরচের কারণে ব্যয় তুলনামূলক বেশি।

    ৩. প্রান্তিক যোগাযোগ ও পৌঁছানোর সুবিধা (Door-to-door service): সড়কপথে যেকোনো বাড়ি বা সুনির্দিষ্ট গন্তব্যে সরাসরি মাইক্রোবাস বা গাড়িতে যাওয়া সম্ভব হয়। কিন্তু নৌপথ কেবল নদী বা উপকূলীয় ঘাট পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে; নদী থেকে মূল ভূমিতে যেতে পুনরায় সড়কপথের সাহায্য নিতে হয়।

    ৪. ধারণক্ষমতা: নৌযানের (লঞ্চ বা জাহাজ) যাত্রী ও পণ্য ধারণক্ষমতা যেকোনো সড়কযানের চেয়ে বহুগুণ বেশি। একটি লঞ্চে শত শত মানুষ একসঙ্গে নিরাপদে যাতায়াত করতে পারে, যা মাইক্রোবাস বা বাসে সম্ভব নয়।

    ৫. ভৌগোলিক উপযোগিতা: বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের নদীবহুল এলাকায় চলাচলের জন্য নৌপথ অত্যন্ত কার্যকর ও আরামদায়ক। তবে পদ্মা সেতু ও বিভিন্ন সংযোগ সেতু নির্মাণের ফলে সড়কপথ এখন অত্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন ও দ্রুততর হয়েছে।

    সুতরাং, দুটি মাধ্যমেরই নিজস্ব সুবিধা রয়েছে; যেখানে ভারী পণ্য ও সাশ্রয়ী ভ্রমণের জন্য নৌপথ আদর্শ, সেখানে সময় বাঁচানো এবং সুনির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য সড়কপথ অধিক সুবিধাজনক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন