ভূগোল ২য় পত্র • জনসংখ্যা • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশ বিশ্বের একটি অন্যতম জনবহুল দেশ। জনবিবর্তন তত্ত্বের আলোকে দেশটিতে প্রাথমিক অবস্থায় জন্মহার ও মৃত্যুহার উভয়ই বেশি ছিল। কিন্তু বর্তমানে জন্মহারের চেয়ে মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।
- ক)(1)
স্থূল মৃত্যুহার নির্ণয়ের সূত্রটি লেখো ।
- খ)(2)
মানুষ কেন অভিগমন করে?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত তত্ত্বের পর্যায়টি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশের মৃত্যুহার হ্রাসের কারণ পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্থূল মৃত্যুহার (CDR) নির্ণয়ের সূত্রটি হলো:
CDR = (কোনো নির্দিষ্ট বছরে মোট মৃত্যুর সংখ্যা / উক্ত বছরের মাঝামাঝি সময়ের মোট জনসংখ্যা) × ১০০০ - খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানুষ সাধারণত উন্নত জীবনের প্রত্যাশা, অর্থনৈতিক সুযোগ এবং পরিবেশগত বা সামাজিক নানা কারণে অভিগমন করে।
অভিগমনের কারণগুলোকে আকর্ষণমূলক (Pull factors) ও বিকর্ষণমূলক (Push factors) কারণে ভাগ করা যায়। অর্থনৈতিক সংকট, দারিদ্র্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যুদ্ধ বা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে মানুষ নিজ বাসস্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। অন্যদিকে কর্মসংস্থান, উন্নত শিক্ষা, চিকিৎসা এবং আধুনিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধার আকর্ষণে মানুষ অন্যত্র স্থানান্তরিত বা অভিগমন করে থাকে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত তত্ত্বটি হলো ফ্রাঙ্ক নোটেস্টিনের জনবিবর্তন তত্ত্ব (Demographic Transition Model), যার দ্বিতীয় বা রূপান্তরকালীন পর্যায়ের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
জনবিবর্তন তত্ত্ব অনুযায়ী একটি দেশের জনসংখ্যা পরিবর্তনের প্রধানত কয়েকটি পর্যায় দেখা যায়। প্রথম পর্যায়ে উচ্চ জন্মহার ও উচ্চ মৃত্যুহার বিদ্যমান থাকে, ফলে জনসংখ্যা খুব একটা বৃদ্ধি পায় না। দ্বিতীয় বা প্রাথমিক রূপান্তর পর্যায়ে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি ও জনসচেতনতার কারণে মৃত্যুহার দ্রুত হ্রাস পায়, কিন্তু সামাজিক আচার ও শিক্ষার অভাবে জন্মহার তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, প্রাথমিক অবস্থায় বাংলাদেশে জন্মহার ও মৃত্যুহার দুটোই বেশি ছিল (প্রথম পর্যায়), কিন্তু বর্তমানে জন্মহারের চেয়ে মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। এটি জনবিবর্তন তত্ত্বের দ্বিতীয় বা পরিবর্তনশীল পর্যায়ের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য, যেখানে জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত বাংলাদেশে মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাসের পেছনে চিকিৎসাসেবার প্রসার, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সার্বিক জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে।
পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বাংলাদেশে মৃত্যুহার হ্রাসের প্রধান কারণগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. চিকিৎসাব্যবস্থা ও প্রযুক্তির উন্নয়ন: দেশে আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির প্রসার, হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং উন্নত রোগ নির্ণয় পদ্ধতির কারণে বহু প্রাণঘাতী রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে।
২. মহামারি ও সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ: পূর্বে কলেরা, বসন্ত, ম্যালেরিয়া ইত্যাদিতে বহু লোক মারা যেত। বর্তমানে টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) ব্যাপক সফলতার কারণে শিশু ও সাধারণ মানুষের মৃত্যুর হার বহুলাংশে কমেছে।
৩. শিশু ও মাতৃমৃত্যু হ্রাস: স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, দক্ষ ধাত্রী এবং মা ও শিশু পরিচর্যা কার্যক্রম সম্প্রসারণের ফলে নবজাতক ও প্রসূতি মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
৪. শিক্ষা ও জনসচেতনতা: সাক্ষরতার হার বৃদ্ধির ফলে পুষ্টি, সুষম খাদ্য, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবহার সম্পর্কে মানুষের মাঝে সচেতনতা বেড়েছে।
৫. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশে পূর্বপ্রস্তুতি, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নের ফলে দুর্যোগজনিত প্রাণহানি আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে।
সুতরাং, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা এবং আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির ফলেই বাংলাদেশে মৃত্যুহার আশাতীতভাবে হ্রাস পেয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও