সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
“ক” নামক রাষ্ট্রের সরকার ৫% লোকের ভাষাকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করেন। এর প্রতিবাদে অসংখ্য মানুষ প্রান দেয়। শহীদদের স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে নির্মিত হয় শহীদ মিনার। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৬৬, ১৯৬৯, ১৯৭০ এর ঘটনা ঘটে। সব শেষে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীনতা।
- ক)(1)
গণঅভ্যুত্থান কি?
- খ)(2)
যুক্তফ্রন্ট বলতে কী বোঝো?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন আন্দোলনের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত সালসমূহ স্বাধীনতা অর্জনের ভিত্তি - বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ও ব্যাপক অংশগ্রহণে ক্ষমতাসীন অপশাসনের বিরুদ্ধে পরিচালিত তীব্র গণআন্দোলন বা গণবিদ্রোহকে গণঅভ্যুত্থান বলে (যেমন ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তফ্রন্ট হলো ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে তৎকালীন ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে পরাজিত করার লক্ষ্যে গঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলসমূহের একটি যৌথ বা নির্বাচনী ঐক্যজোট। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর আওয়ামী মুসলিম লীগ, এ. কে. ফজলুল হকের কৃষক শ্রমিক পার্টি, মাওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম এবং হাজী মুহাম্মদ দানেশের গণতন্ত্রী দল—এই চারটি প্রধান দলের সমন্বয়ে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর ২১ দফার ভিত্তিতে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের কথা বলা হয়েছে।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৫৬% বাংলাভাষী হওয়া সত্ত্বেও শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে (যা মাত্র কয়েক শতাংশ মানুষের ভাষা ছিল) একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এর বিরুদ্ধে পূর্ববাংলায় ছাত্র-জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষার দাবিতে মিছিল বের হলে পুলিশ গুলি চালায় এবং রফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ অনেকে শহীদ হন। শহীদদের স্মৃতিকে অম্লান রাখতে রাতারাতি নির্মিত হয় শহীদ মিনার।
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের সরকার ৫% মানুষের ভাষাকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করতে চেয়েছিল এবং এর প্রতিবাদে মানুষের আত্মত্যাগ ও শহীদ মিনার নির্মাণের যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা হুবহু ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক পটভূমির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ১৯৬৬, ১৯৬৯ এবং ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক ঘটনাবলি ছিল বাংলাদেশের চূড়ান্ত স্বাধীনতা অর্জনের সুদৃঢ় ভিত্তি—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদের যে উন্মেষ ঘটেছিল, তারই ধারাবাহিকতায় পরবর্তী রাজনৈতিক আন্দোলনগুলো দানা বাঁধে।
১. ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ঐতিহাসিক ৬ দফা ছিল বাঙালি জাতির মুক্তিসনদ বা 'ম্যাগনাকার্টা'। এর মাধ্যমে পূর্ববাংলার স্বায়ত্তশাসনের দাবি সার্বজনীন রূপ পায়।
২. ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান: ৬ দফা ও ছাত্রদের ১১ দফার ভিত্তিতে আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান ঘটে। এর ফলে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার হয়, বঙ্গবন্ধু কারামুক্ত হন এবং আইয়ুব খানের পতন ঘটে।
৩. ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন: এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এর ফলে বাঙালির মুক্তির দাবি এবং বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব গণতান্ত্রিক বৈধতা লাভ করে।পাকিস্তানি জান্তা নির্বাচনের রায় মেনে না নিয়ে ১৯৭১ সালে গণহত্যা শুরু করলে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জিত হয়। সুতরাং, ১৯৬৬, ১৯৬৯ এবং ১৯৭০ সালের ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রামই ছিল ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের মূল ভিত্তি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও