সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে গড়ে ওঠা ঢাকা, যার প্রাচীন নাম জাহাঙ্গীরনগর। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বর্তমানে এই নগর উন্নত জীবনযাপনের অনুপযোগী। অথচ ভারতীয় উপমহাদেশে অতীতে নদীর তীরবর্তী এলাকায় যে নগরগুলো গড়ে উঠেছিল তা ছিল অত্যন্ত পরিকল্পনানির্ভর। নগরগুলোতে নাগরিক জীবনের প্রয়োজনীয় সকল সুযোগ-সুবিধা ছিল।

  1. ক)

    কোন যুগে পশুপালন অর্থনীতির সূচনা হয়?

    (1)
  2. খ)

    ময়নামতি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে কোন ধর্মের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে কোন সভ্যতার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত শহরের সমস্যা সমাধানে সমাজবৈজ্ঞানিক জ্ঞান কিভাবে সহায়তা করতে পারে? বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নব্যপ্রস্তর যুগে (বা মধ্যপ্রস্তর যুগে সূচনা হয়ে নব্যপ্রস্তর যুগে পূর্ণ বিকাশ ঘটে) পশুপালন অর্থনীতির সূচনা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ময়নামতি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে মূলত বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

    ময়নামতিতে প্রাপ্ত শালবন বিহার, আনন্দ বিহার, কোটিলা মুড়া এবং অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ থেকে বোঝা যায় এটি অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতক পর্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাকেন্দ্র ছিল। শালবন বিহারের কেন্দ্রীয় মন্দির, স্তূপ এবং প্রাপ্ত ব্রোঞ্জের বুদ্ধমূর্তি ও সিলমোহরগুলো বৌদ্ধ ধর্মীয় অনুশাসন ও জীবনাচরণের স্পষ্ট সাক্ষ্য বহন করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রাচীন 'সিন্ধু সভ্যতা'র (বা হরপ্পা-মহেঞ্জোদারো নগর সভ্যতা) প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

    সিন্ধু সভ্যতা ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম নদীমাতৃক এবং অত্যন্ত পরিকল্পিত একটি নগর সভ্যতা। এ সভ্যতার প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল পরিকল্পিত রাস্তাঘাট, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, পাকা ইটের বহুতল বাড়ি, স্নানাগার ও শস্যাগার। নাগরিক জীবনের সুযোগ-সুবিধা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশের দিক থেকে এটি সমসাময়িক বিশ্বে অতুলনীয় ছিল।

    উদ্দীপকে অতীতের ভারতীয় উপমহাদেশে নদীর তীরে অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত যে নগরগুলোর কথা বলা হয়েছে, তা সিন্ধু সভ্যতার মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পা নগরীর বাস্তব চিত্রকেই নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ঢাকার মতো আধুনিক মেগা সিটির জনসংখ্যা বৃদ্ধিজনিত ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের সমস্যা সমাধানে সমাজবৈজ্ঞানিক জ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. সমস্যার উৎস ও প্রকৃতি উদ্ঘাটন: সমাজবিজ্ঞান সমাজ ও মানুষের সম্পর্ক নিয়ে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান চালায়। ঢাকা শহরের তীব্র যানজট, আবাসন সংকট, বস্তি সমস্যা, এবং পরিবেশ দূষণের পেছনে মূল সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণগুলো (যেমন- গ্রাম থেকে শহরে অতিরিক্ত অভিবাসন, কেন্দ্রীয়করণ) চিহ্নিত করতে সমাজবৈজ্ঞানিক গবেষণা অপরিহার্য।
    ২. পরিকল্পিত নগরায়ণ ও নীতি প্রণয়ন: অতীতের সিন্ধু সভ্যতার মতো টেকসই নগর গড়ে তুলতে নীতি নির্ধারকদের শুধু অবকাঠামো তৈরি করলেই চলে না, নাগরিকের আচরণ ও চাহিদা বুঝতে হয়। সমাজবিজ্ঞান মানবীয় প্রয়োজন অনুসারে বাসযোগ্য পরিবেশ, স্বাস্থ্যসম্মত পয়ঃনিষ্কাশন ও বিনোদন ব্যবস্থার সমন্বয়ে সামাজিক পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা করে।
    ৩. সামাজিক অসমতা ও বস্তি সমস্যা নিরসন: অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে সৃষ্ট নিম্নবিত্তের আবাসন সমস্যা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে সমাজবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে সামাজিক নীতি প্রণয়ন করা সম্ভব।
    ৪. নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি: পরিবেশ সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার মতো ইতিবাচক সামাজিক আচরণ তৈরিতে সমাজবৈজ্ঞানিক প্রচার ও শিক্ষা কার্যকর ভূমিকা রাখে।

    অতএব, নগর জীবনের বিশৃঙ্খলা দূর করে সুশৃঙ্খল ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে সমাজবৈজ্ঞানিক জ্ঞান অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন