ভূগোল ১ম পত্র • জলবায়ু অঞ্চল ও জলবায়ু পরিবর্তন • Combined Board • কুমিল্লা, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৫
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
প্রেক্ষাপট-১: পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রেক্ষাপট-২: বাংলাদেশে বিভিন্ন কারণে জলবায়ুর পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে।
- ক)(1)
মৌসুমি জলবায়ু কাকে বলে?
- খ)(2)
নিরক্ষীয় অঞ্চলে অধিক বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রেক্ষাপট-১ এ ইঙ্গিতকৃত বিষয়টির কারণ বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের প্রেক্ষাপট-২ অনুসারে উল্লিখিত দেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে যে বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয় এবং এর প্রভাবে নির্দিষ্ট অঞ্চলজুড়ে যে বিশেষ ধরনের জলবায়ু পরিলক্ষিত হয়, তাকে মৌসুমি জলবায়ু বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্য সারা বছর প্রায় লম্বভাবে কিরণ দেয়, ফলে এখানে তাপমাত্রা অত্যধিক বেশি থাকে। তীব্র উত্তাপের কারণে জলভাগ থেকে প্রচুর পানি বাষ্পীভূত হয় এবং হালকা ও উষ্ণ হয়ে দ্রুত ওপরে উঠে যায়। ওপরে উঠে শৈত্যের সংস্পর্শে এসে বায়ুর জলীয় বাষ্প সহজেই ঘনীভূত হয় এবং প্রতিদিন অপরাহ্ণে সেখানে বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রচুর পরিচলন বৃষ্টিপাত ঘটায়। তাই নিরক্ষীয় অঞ্চলে অধিক বৃষ্টিপাত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রেক্ষাপট-১ এ ইঙ্গিতকৃত বিষয়টি হলো 'বৈশ্বিক উষ্ণায়ন' (Global Warming)। এর প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস) পোড়ানোর ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড ইত্যাদি গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
২. নির্বিচারে বন উজাড়: বনভূমি ধ্বংসের ফলে গাছপালা দ্বারা কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণের মাত্রা হ্রাস পাচ্ছে।
৩. দ্রুত শিল্পায়ন ও নগরায়ণ: কলকারখানা ও যানবাহনের কালো ধোঁয়া বায়ুমণ্ডলে তাপ আটকে রাখার চাদর তৈরি করছে।
এই গ্যাসগুলো ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রতিফলিত তাপ বিকিরণ করে মহাকাশে ফিরে যেতে বাধা দেয়, যার ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রেক্ষাপট-২ অনুসারে বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব অত্যন্ত ভয়াবহ ও বহুমুখী। যেমন:
১. সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও প্লাবন: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে, যার ফলে বাংলাদেশের নিচু উপকূলীয় এলাকা তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
২. লবণাক্ততা বৃদ্ধি: সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় উপকূলীয় অঞ্চলের নদী ও কৃষিজমিতে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করছে, ফলে সুপেয় পানির সংকট এবং কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে।
৩. প্রাকৃতিক দুর্যোগের পৌনঃপুনিকতা: ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, কালবৈশাখী, নদীভাঙন ও আকস্মিক বন্যার তীব্রতা ও ঘনত্ব বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।
৪. ঋতুচক্রের পরিবর্তন: বৃষ্টিপাতের অনিয়ম দেখা দিচ্ছে; কখনো খরা বা অনাবৃষ্টি, আবার কখনো অল্প সময়ে অতিবৃষ্টি হয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
৫. বাস্তুচ্যুতি ও বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি: উপকূলীয় ও নদীভাঙন কবলিত অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ জীবিকা হারিয়ে জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হচ্ছে এবং সুন্দরবনের মতো মূল্যবান প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র হুমকির মুখে পড়েছে।
অতএব, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ পরিবেশগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে এক মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হচ্ছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও