ভূগোল ১ম পত্র • ভূমিরূপ পরিবর্তন • Combined Board • কুমিল্লা, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৫
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
মোহনা কাকে বলে?
- খ)(2)
লোহামিশ্রিত মৃত্তিকাতে কীভাবে বিচুণীভবন সংঘটিত হয়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে ইজিাতকৃত পর্যায় 'ক' এর বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের 'গ' পর্যায়ে ইঙ্গিতকৃত ভূমির গঠন প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নদী যে স্থানে কোনো সাগর, উপসাগর বা হ্রদে পতিত হয়, তাকে নদীর মোহনা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লোহামিশ্রিত মৃত্তিকা বা শিলায় রাসায়নিক বিচূর্ণীভবনের অন্যতম প্রক্রিয়া জারণ (Oxidation)-এর মাধ্যমে বিচূর্ণীভবন সংঘটিত হয়। শিলা বা মাটিতে বিদ্যমান লোহার খনিজের সাথে বায়ুমণ্ডলের অক্সিজেন ও পানির সংস্পর্শ ঘটলে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। এর ফলে ফেরাস অক্সাইড পরিবর্তিত হয়ে ফেরিক অক্সাইডে (মরিচায়) পরিণত হয়। এই মরিচা অত্যন্ত ভঙ্গুর হওয়ায় শিলাটি আলগা হয়ে সহজেই চূর্ণ-বিচূর্ণ ও ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'ক' পর্যায়টি হলো নদীর ঊর্ধ্বগতি বা পার্বত্য পর্যায়, যা পর্বত থেকে উৎপন্ন হয়ে তীব্র বেগে প্রবাহিত হয়।
বর্ণনা:
উৎস থেকে সমভূমিতে নামার পূর্ব পর্যন্ত নদীর অংশকে ঊর্ধ্বগতি বা তরুণ পর্যায় বলে। এই পর্যায়ে ভূমির ঢাল খুব বেশি থাকে বলে নদীর জলের বেগ এবং ক্ষয়ক্ষমতা অত্যন্ত প্রবল হয়। নদী মূলত নিম্নমুখী ক্ষয় (উল্লম্ব ক্ষয়) বেশি করে এবং পার্শ্বক্ষয় তুলনামূলকভাবে কম হয়। এর ফলে নদীর উপত্যকা ইংরেজি 'V' অক্ষরের মতো গভীর ও সংকীর্ণ রূপ ধারণ করে। অতিরিক্ত গভীর হলে তাকে গিরিখাত (Gorge) এবং অত্যন্ত গভীর ও খাড়া পার্শ্ববিশিষ্ট হলে ক্যানিয়ন (Canyon) বলা হয়। এছাড়া এই গতিপথে জলপ্রপাত (Waterfall), খরস্রোত প্রভৃতি ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়। এ পর্যায়ে নদী বড় বড় শিলাখণ্ড ভেঙে বহন করে সমভূমির দিকে নিয়ে আসে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'গ' পর্যায়ে সাগরে মিলিত হওয়ার আগে ঘোড়ার ক্ষুরের মতো জলাশয় সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে, যা মূলত নদীর নিম্নগতিতে গঠিত 'অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ' (Ox-bow lake)-কে ইঙ্গিত করে। নিচে এর গঠন প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করা হলো:
১. গতিপথের সর্পিলাকার রূপ: নদী যখন সমভূমি ও নিম্নগতিতে প্রবাহিত হয়, তখন ভূমির ঢাল ও পানির বেগ খুব কমে যায়। ফলে সামান্য কোনো বাধা পেলেই নদী একেবেঁকে সর্পিলাকারে (Meander) প্রবাহিত হতে থাকে।
২. বাঁকের একদিকে ক্ষয় ও অন্যদিকে সঞ্চয়: সর্পিলাকার বাঁকে পানির স্রোত নদীর বাঁকের বাইরের দিকের তীরে তীব্রভাবে আঘাত করে ক্ষয়সাধন করে এবং ভেতরের অবতল তীরে পলি ও বালুকা সঞ্চিত হতে থাকে।
৩. বাঁক দুটি কাছাকাছি আসা: অবিরাম পার্শ্বক্ষয়ের ফলে নদীবাঁকের দুই প্রান্তবর্তী বাঁক ক্রমশ পরস্পরের খুব কাছাকাছি এসে পড়ে এবং মধ্যবর্তী সংকীর্ণ স্থলভাগ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
৪. মূল গতিপথ সোজা হওয়া: কোনো প্রবল বন্যা বা বর্ষাকালে পানির চাপ বেড়ে গেলে নদী বাঁকা পথ ছেড়ে সংকীর্ণ অংশ কেটে ফেলে সরাসরি সোজা পথে প্রবাহিত হতে শুরু করে।
৫. মূল ধারা থেকে বিচ্ছিন্নতা ও হ্রদ গঠন: সোজা পথে নদী চলতে থাকলে পরিত্যক্ত পুরনো বাঁকটির মুখে পলি জমে মূল নদী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া বাঁকা জলভাগটি দেখতে অশ্বের (ঘোড়ার) ক্ষুরের মতো হওয়ায় একে 'অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ' বলা হয়।
সুতরাং, নদীর গতিহ্রাস, সঞ্চয় এবং পার্শ্বক্ষয়ের সম্মিলিত প্রক্রিয়ায় উদ্দীপকের 'গ' পর্যায়ের এই অনন্য ভূমিরূপটি গঠিত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও