সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১

সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

অত্যাচারী শাসকরা মানুষের ভাষা, বর্ণের ওপর আঘাত। করে। মানুষ নেমে আসে রাজপথে। হরতাল, ধর্মঘট, মিছিল, মিটিং এর মাধ্যমে চলে প্রতিবাদ। শহিদ হয় অনেক ছাত্রজনতা। প্রতিষ্ঠিত। হয় জনতার দাবি। পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত ২টি নির্বাচন মানুষের মধ্যে। জন্ম দেয় স্বাধীনতাবোধের। বিপুল সংখ্যক মানুষ সমর্থন জানায় তাদের প্রিয় দলকে। এরই ধারাবাহিকতায় জনপদটি স্বাধীনতা লাভ করে।

  1. ক)

    ছয় দফা কখন উত্থাপন করা হয়?

    (1)
  2. খ)

    আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত আন্দোলনটির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত নির্বাচনসমূহ বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্মের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ"- তুমি কি একমত? যুক্তিসহ ব্যাখ্যা। করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলসমূহের এক সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার দাবিতে আত্মোৎসর্গকারী শহিদদের স্মরণে প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি পালিত দিবসটিই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

    ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো (UNESCO) ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। এর মাধ্যমে বিশ্বের প্রতিটি মানুষের নিজের মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন, ভাষাগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং বহুভাষাবাদের প্রসার ঘটানো হয়। ২০০০ সাল থেকে বিশ্বের সকল সদস্য দেশে দিবসটি মর্যাদার সাথে পালিত হয়ে আসছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লেখিত আন্দোলনটি হলো ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন। বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশে ও স্বাধীনতা অর্জনে এ আন্দোলনের গুরুত্ব অপরিসীম।

    ভাষা আন্দোলন ছিল পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির প্রথম সংঘবদ্ধ প্রতিরোধ। এ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি বুঝতে পেরেছিল ধর্মভিত্তিক জাতীয়তা নয়, বরং ভাষিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ই তাদের মূল ভিত্তি। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির রক্তদান সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে এবং আত্মত্যাগের অনুপ্রেরণা জোগায়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, অত্যাচারী শাসক মানুষের ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানলে ছাত্রজনতা রাজপথে নেমে আত্মাহুতি দিয়ে ভাষার দাবি প্রতিষ্ঠা করে। বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতির ইতিহাসে ভাষা আন্দোলন স্বাধিকার আন্দোলনের মূল বীজ বপন করেছিল, যা পরবর্তীতে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬ দফা, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "উদ্দীপকে বর্ণিত নির্বাচনসমূহ বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্মের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ"— উক্তিটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।

    উদ্দীপকে উল্লেখিত দুটি নির্বাচন হলো যথাক্রমে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন। এই নির্বাচন দুটি বাঙালি জাতীয়তাবোধ ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মাইলফলক হিসেবে কাজ করেছিল।

    ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগের দীর্ঘকালীন অপশাসনের অবসান ঘটিয়ে যুক্তফ্রন্ট বিপুল বিজয় অর্জন করে। এর ফলে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং বাঙালির স্বায়ত্তশাসনের দাবি প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়। অন্যদিকে, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এই বিজয় পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জনগণের এক ঐতিহাসিক গণরায় ছিল, যা বাঙালিকে নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণের বৈধ অধিকার দেয়।

    উদ্দীপকে বর্ণিত জনপদে দুটি নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের মাঝে স্বাধীনতাবোধ সৃষ্টি হয় এবং জনগণ প্রিয় দলকে বিপুল সমর্থন দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করে। একইভাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে ৫৪ ও ৭০-এর নির্বাচন বাঙালিদের স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত ধাপে উপনীত করেছিল। শাসকগোষ্ঠী ৭০-এর নির্বাচনের রায় মেনে না নেওয়ায় বাঙালি জাতি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সুতরাং, উদ্দীপকে বর্ণিত নির্বাচনসমূহ নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের পটভূমির সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন