সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
ছক-১: অর্থশাস্ত্র → আইন-ই-আকবরি → দি ইমপেরিয়াল গেজেটিয়ার → দি ইন্ডিয়ান ওয়ার্কিং ক্লাস→ দি ল্যান্ড প্রোবলেমস্ অব ইন্ডিয়া।ছক-২: অজিত কুমার সেন → এ. কে. নাজমুল করিম → ক্লদ লেভি স্ট্রস।
- ক)(1)
'সমাজবিজ্ঞান সমীক্ষণ' গ্রন্থটি কার লেখা?
- খ)(2)
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সমাজবিজ্ঞানের ভূমিকা বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ছক-১-এর বিষয়সমূহ বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের কোন দিকটি নির্দেশ করেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের বিকাশে ছক-২-এর ব্যক্তিবর্গ কীভাবে সম্পৃক্ত? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'সমাজবিজ্ঞান সমীক্ষণ' গ্রন্থটি সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেনের লেখা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সমাজবিজ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেকোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা বা প্রকল্প বাস্তবায়নের পূর্বে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর সামাজিক মূল্যবোধ, প্রথা, সংস্কৃতি, বিশ্বাস এবং সামাজিক চাহিদা সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান থাকা আবশ্যক। সমাজবিজ্ঞান গবেষণালব্ধ জ্ঞানের মাধ্যমে সমাজের মানুষের বাস্তব সমস্যা ও প্রত্যাশা চিহ্নিত করতে সাহায্য করে, যাতে পরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মসূচিটি মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় এবং কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ছক-১-এর বিষয়সমূহ বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার ঐতিহাসিক পটভূমি বা সমাজতাত্ত্বিক চিন্তাধারার ক্রমবিকাশের দিকটি নির্দেশ করেছে।
বাংলাদেশে আধুনিক প্রাতিষ্ঠানিক সমাজবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠার বহু পূর্ব থেকেই প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন গ্রন্থ এবং সামাজিক গবেষণায় সমাজতাত্ত্বিক চিন্তার সুস্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যায়। কৌটিল্যের 'অর্থশাস্ত্র'-এ প্রাচীন ভারতের সামাজিক স্তরবিন্যাস ও রাষ্ট্রচিন্তার বর্ণনা রয়েছে; আবুল ফজলের 'আইন-ই-আকবরি'-তে মুঘল আমলের সমাজ, অর্থনীতি ও প্রশাসনের বাস্তব দলিল উঠে এসেছে। ব্রিটিশ আমলে হান্টারের 'দি ইমপেরিয়াল গেজেটিয়ার' এবং পরবর্তীতে রাধাকমল মুখার্জির 'দি ইন্ডিয়ান ওয়ার্কিং ক্লাস' ও 'দি ল্যান্ড প্রোবলেমস্ অব ইন্ডিয়া' গ্রন্থে তৎকালীন ভারতীয় সমাজ কাঠামো, শ্রমিক শ্রেণি ও ভূমি সমস্যার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকের ছক-১-এর গ্রন্থগুলো বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান উদ্ভবের পটভূমি হিসেবে এসব ঐতিহাসিক সমাজচিন্তা ও সামাজিক গবেষণার ধারাবাহিক ক্রমবিকাশকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশে একটি স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক পাঠ্যবিষয় হিসেবে সমাজবিজ্ঞানের বিকাশ ও সম্প্রসারণে ছক-২-এ উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিষয় চালুর ক্ষেত্রে প্রাথমিক উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৎকালীন শিক্ষক অজিত কুমার সেন। তিনি ১৯৪০-এর দশকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান কোর্সের অধীনে সমাজবিজ্ঞান পাঠ্যসূচি অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা করেন এবং স্বতন্ত্র বিভাগ চালুর সুপারিশ করেন।
বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের জনক হিসেবে খ্যাত অধ্যাপক এ. কে. নাজমুল করিম বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ায় সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তাঁর একক ও নিরলস প্রচেষ্টায় ইউনেস্কোর সহায়তায় ১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বতন্ত্র সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
অন্যদিকে, ফরাসি নৃবিজ্ঞানী ক্লদ লেভি-স্ট্রস ১৯৫০-এর দশকে ইউনেস্কোর বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) সফরে আসেন। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে মাঠপর্যায়ের নৃবৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিচালনা করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি স্বতন্ত্র সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ও সামাজিক গবেষণা চালুর যৌক্তিকতা তুলে ধরে ইউনেস্কো ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট সুপারিশ পেশ করেন।
সুতরাং, উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গের মধ্যে লেভি-স্ট্রসের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সুপারিশ, অজিত কুমার সেনের প্রাথমিক উদ্যোগ এবং এ. কে. নাজমুল করিমের প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন ও বিকাশে অনবদ্য ভূমিকা রেখেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও