‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • দেশপ্রেম ও জাতীয়তা • আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ • আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

রহিম ও করিম দুই বন্ধু কলেজে পড়ার সময়ই তারা বাঙালী জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা করলে তারা দুই বন্ধুই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সম্মুখ যুদ্ধে রহিম শাহাদাৎ বরণ করে। ১৯৭১ সালে ১৬ই ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। বাঙালী জনগণ স্বাধীন জাতিতে পরিণত হয়।

  1. ক)

    'জাতি হলো রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত এমন এক জাতীয়তা যা স্বাধীন কিংবা স্বাধীনতাকামী'- উক্তিটি কার?

    (1)
  2. খ)

    দেশপ্রেম বলতে কি বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    জাতি ও জাতীয়তার মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করো।

    (3)
  4. ঘ)

    '১৯৭১ সালে ১৬ই ডিসেম্বর বাঙালী জনগণের চূড়ান্ত বিজয়ের দিন'- উক্তিটি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'জাতি হলো রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত এমন এক জাতীয়তা যা স্বাধীন কিংবা স্বাধীনতাকামী'—উক্তিটি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী লর্ড ব্রাইসের (Lord Bryce)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দেশপ্রেম বলতে নিজের দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, আনুগত্য এবং দেশের মঙ্গলের জন্য আত্মত্যাগের অনুভূতিকে বোঝায়। এটি কোনো নাগরিকের আত্মিক ও মানসিক একটি অনুভূতি যা তাকে নিজের ভাষা, সংস্কৃতি, ভূখণ্ড ও জনগণের কল্যাণে যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে অনুপ্রাণিত করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাতি ও জাতীয়তার মধ্যে সুস্পষ্ট কিছু পার্থক্য রয়েছে:
    ১. সংজ্ঞা ও প্রকৃতি: জাতীয়তা হলো এক প্রকার মানসিক বা আত্মিক অনুভূতি যা একটি জনসমাজকে ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ করে। পক্ষান্তরে, জাতি হলো রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত এমন এক সচেতন জনগোষ্ঠী যারা স্বাধীন অথবা স্বাধীনতা অর্জনে বদ্ধপরিকর।
    ২. রাজনৈতিক সংগঠন: জাতীয়তার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সংগঠনের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়; কেবল মানসিক ঐক্যই যথেষ্ট। কিন্তু জাতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক চেতনা ও সংগঠিত অবস্থা অপরিহার্য।
    ৩. পর্যায়গত পার্থক্য: জাতীয়তা হলো জাতির পূর্ববর্তী অবস্থা। অর্থাৎ, জাতীয়তাবাদী চেতনা রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত ও চূড়ান্ত রূপ লাভ করলে 'জাতি'তে রূপান্তরিত হয়। যেমন—উদ্দীপকে ১৯৭১ সালের পূর্বে বাঙালি ছিল একটি জাতীয়তা, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের ফলে তারা 'বাঙালি জাতি' হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    '১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাঙালী জনগণের চূড়ান্ত বিজয়ের দিন'—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে রহিম ও করিমের মতো বীর সন্তানেরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন এবং দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর ১৬ই ডিসেম্বর দেশ বিজয় অর্জন করে।

    ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাত থেকে শুরু করে দীর্ঘ নয় মাস পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাংলার মাটিতে নারকীয় গণহত্যা চালায়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে বাংলার আপামর জনতা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ৩০ লাখ শহীদের রক্ত ও দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।

    এই আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে 'বাংলাদেশ' নামের একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে এবং শত বছরের পরাধীনতার অবসান ঘটে বাঙালি জাতি চূড়ান্ত বিজয় লাভ করে। তাই ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাঙালি জাতির ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ গৌরবময় ও চূড়ান্ত বিজয়ের দিন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন