‍ইতিহাস ১ম পত্র • মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের (মুজিবনগর) কার্যক্রম • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

১৭৭৬ সালে আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়। এই যুদ্ধে প্রধান সেনাপতি ছিলেন জর্জ ওয়াশিংটন, যিনি আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট। সেখানে ব্রিটিশদের ১৩টি উপনিবেশ ছিল। এই ১৩টি উপনিবেশের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতানৈক্য থাকলেও তারা যুদ্ধকালীন সময়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করে ১৭৮৩ সালে প্যারিস চুক্তির মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভ করে।

  1. ক)

    মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা আলোচনা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের জর্জ ওয়াশিংটনের মতো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সর্বাধিনায়ক কে ছিলেন? তার পরিচয় বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ১৩টি উপনিবেশের আলোকে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ের গৃহীত ব্যবস্থাবলির তুলনামূলক আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছিল। বিশ্ব পরাশক্তি হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়ন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেয় এবং একাধিকবার ‘ভেটো’ ক্ষমতা প্রয়োগ করে যুদ্ধবিরতির নামে পাকিস্তানি বাহিনীকে রক্ষার মার্কিন ও চীনা অপচেষ্টা নস্যাৎ করে। এছাড়া তারা ভারতকে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা প্রদান করে যা প্রকারান্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেই ত্বরান্বিত করেছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জর্জ ওয়াশিংটনের সাথে তুলনীয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সেনাপতি বা সর্বাধিনায়ক ছিলেন জেনারেল মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী (এম. এ. জি. ওসমানী)।

    এম. এ. জি. ওসমানী ১৯১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ব্রিটিশ ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন এবং কর্নেল হিসেবে অবসর নেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী মুজিবনগর সরকার গঠিত হলে তাকে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সেনাপতি বা মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত করা হয়। তিনি অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে পুরো বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে এবং পরবর্তীতে ৩টি নিয়মিত ব্রিগেডে (জেড ফোর্স, কে ফোর্স, এস ফোর্স) বিভক্ত করে সামরিক কৌশল পরিচালনা করেন। তাঁর সুদক্ষ পরিচালনায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাস্ত করে বাঙালি জাতি বিজয় অর্জন করে। স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে 'জেনারেল' পদে উন্নীত করে সম্মাননা জানায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে দেখা যায়, আমেরিকার ১৩টি উপনিবেশের মাঝে নানা বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও স্বাধীনতার প্রশ্নে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি লক্ষ্যকে সামনে রেখে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছিল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ক্ষেত্রেও অভ্যন্তরীণ সব ভেদাভেদ ভুলে সমগ্র বাঙালি জাতির ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার দৃশ্য ফুটে ওঠে।

    ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, মতাদর্শ ও সামাজিক স্তরের মানুষের ঐক্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একাধিক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গৃহীত হয়:
    ১. মুজিবনগর সরকার গঠন: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে গঠিত অস্থায়ী সরকার সামগ্রিক যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্ব নেয়।
    ২. সেক্টর বিভাজন ও যৌথ পরিচালনা: সমগ্র দেশকে ১১টি সামরিক সেক্টরে ভাগ করে সমন্বিত যুদ্ধের রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়।
    ৩. সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ: তৎকালীন আওয়ামী লীগ ছাড়াও মণি সিংহ, মাওলানা ভাসানী, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ প্রমুখ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে একটি সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়, যা জাতীয় ঐক্যের প্রতীক ছিল।
    ৪. বেসামরিক ও সামরিক সমন্বয়: নিয়মিত সেনাবহিনীর পাশাপাশি ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক নিয়ে গঠিত 'মুক্তিবাহিনী' বা গণবাহিনী গড়ে তোলার মাধ্যমে সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়।

    অতএব, উদ্দীপকের ১৩টি ব্রিটিশ উপনিবেশের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ব্রিটিশ শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাথে বাংলাদেশের বিভিন্ন দল, মত ও জনগণের একাত্ম হয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়া এবং সুসংগঠিত পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট মিল ও সামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন