ভূগোল ১ম পত্র • বায়ুমণ্ডল ও বায়ু দূষণ • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২৪
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
দূষক কাকে বলে?
- খ)(2)
বনায়নের দ্বারা পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা যায় ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' স্তরের বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' স্তরে সৃষ্ট দূষণের প্রভাব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব ক্ষতিকর ও অবাঞ্ছিত পদার্থ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানের সাথে মিশে পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে ও জীবের ক্ষতি সাধন করে, সেগুলোকে দূষক বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বনায়ন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গাছপালা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডল থেকে ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস শোষণ করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে বায়ুকে নির্মল রাখে। এছাড়া গাছপালা বায়ু থেকে ধূলিকণা ও অন্যান্য দূষিত গ্যাস শোষণ করে বায়ুদূষণ কমায়। উদ্ভিদের শিকড় মাটির কণাগুলোকে শক্তভাবে ধরে রেখে ভূমিক্ষয় ও মৃত্তিকা দূষণ রোধ করে এবং শব্দতরঙ্গ শোষণ করে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে। তাই ব্যাপক বনায়নের মাধ্যমে সামগ্রিক পরিবেশ দূষণ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' স্তরটি হলো বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ার (Stratosphere) বা শান্তমণ্ডল। ট্রপোবিরতির ওপর থেকে ভূপৃষ্ঠের ওপরে প্রায় ৫০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত এ স্তর বিস্তৃত।
'খ' স্তর তথা স্ট্রাটোস্ফিয়ারের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
১. তাপমাত্রা পরিবর্তন: ট্রপোবিরতি থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত তাপমাত্রা স্থির থাকে। এরপর থেকে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং এর শেষ সীমায় তাপমাত্রা প্রায় ০° সেলসিয়াসে পৌঁছায়।
২. মেঘ ও বায়ুপ্রবাহহীন শান্ত পরিবেশ: এ স্তরে বায়ুর ঘনত্ব অত্যন্ত কম এবং এতে কোনো জলীয় বাষ্প, ধূলিকণা বা মেঘ থাকে না। ঝড়-বৃষ্টি বা উল্লম্ব বায়ুপ্রবাহ না থাকায় এ স্তরটি অত্যন্ত শান্ত থাকে, যার ফলে জেট বিমানগুলো সাধারণত এ স্তরের মধ্য দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করে।
৩. ওজোন স্তরের উপস্থিতি: এ স্তরের ২০ থেকে ৩৫ কিলোমিটার উচ্চতার মধ্যে ওজোন গ্যাসের একটি ঘন স্তর (Ozonosphere) বিদ্যমান। এই ওজোন স্তর সূর্যের ক্ষতিকর ও প্রাণঘাতী অতিবেগুনি রশ্মি (UV rays) শোষণ করে পৃথিবীর জীবজগৎকে রক্ষা করে।স্ট্রাটোস্ফিয়ারের ঊর্ধ্বসীমাকে স্ট্রাটোবিরতি (Stratopause) বলা হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' স্তরটি হলো ট্রপোস্ফিয়ার বা ক্ষুব্ধমণ্ডল, যা ভূপৃষ্ঠ থেকে বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তর (চিত্রানুযায়ী ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২০ কিমি বা ট্রপোপজ পর্যন্ত বিস্তৃত)। উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে শিল্প-কারখানার নির্গত কালো ধোঁয়া এই স্তরে প্রবেশ করে বায়ুদূষণ ঘটাচ্ছে। এই স্তরে সৃষ্ট দূষণের প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও ক্ষতিকর:
১. বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন: ট্রপোস্ফিয়ারে কালো ধোঁয়ার সাথে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন ইত্যাদি গ্রিনহাউস গ্যাস জমা হয়ে তাপ আটকে রাখে। এর ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে, মেরু অঞ্চলের বরফ গলছে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
২. মানবস্বাস্থ্যের ক্ষতি: এই স্তরের দূষিত বায়ু যেমন—সালফার ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড এবং পার্টিকুলেট ম্যাটার (PM2.5, PM10) মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং হৃদরোগের মতো মারাত্মক ব্যাধি সৃষ্টি করে।
৩. এসিড বৃষ্টি: শিল্প-কারখানার ধোঁয়ায় উপস্থিত সালফার ও নাইট্রোজেনের অক্সাইড ট্রপোস্ফিয়ারের জলীয় বাষ্পের সাথে মিশে এসিড বৃষ্টির সৃষ্টি করে। এসিড বৃষ্টি ফসলের ক্ষতি করে, গাছপালা ধ্বংস করে এবং জলাশয়ের পানি অম্লীয় করে জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব বিপন্ন করে।
৪. ধোঁয়াশা ও দৃষ্টিসীমা হ্রাস: ধোঁয়া এবং কুয়াশা মিলে 'স্মগ' বা বিষাক্ত ধোঁয়াশা তৈরি করে, যা দৃষ্টিসীমা হ্রাস করে এবং ট্রাফিক দুর্ঘটনা ও বিভিন্ন শ্বাসযন্ত্রের অ্যালার্জি বাড়িয়ে দেয়।
৫. বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট: ট্রপোস্ফিয়ারে সৃষ্ট বায়ুদূষণ উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বাধা দেয় এবং মাটির গুণাগুণ নষ্ট করে সমগ্র বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে।সুতরাং, ট্রপোস্ফিয়ার বা 'ক' স্তরে সৃষ্ট দূষণ মানবজাতিসহ সমগ্র পৃথিবীর পরিবেশের অস্তিত্বের জন্য এক বিরাট হুমকি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও