ভূগোল ১ম পত্র • জলবায়ু অঞ্চল ও জলবায়ু পরিবর্তন • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২৪

ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    বায়ুর আর্দ্রতা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    গ্রীনহাউস প্রভাব কী? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' অঞ্চলের জলবায়ুর বর্ণনা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' অঞ্চলের জলবায়ু চিরসবুজ বনভূমি গঠনে সহায়ক- বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে যে পরিমাণ জলীয় বাষ্প উপস্থিত থাকে, তাকে বায়ুর আর্দ্রতা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গ্রিনহাউস প্রভাব হলো বায়ুমণ্ডলের নির্দিষ্ট কিছু গ্যাসের দ্বারা তাপ আটকে রেখে ভূপৃষ্ঠ ও সংলগ্ন বায়ুমণ্ডলকে উষ্ণ রাখার একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া।

    বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, জলীয় বাষ্প, ওজোন ইত্যাদি গ্যাস গ্রিনহাউস গ্যাসের ভূমিকা পালন করে। সূর্যের ক্ষুদ্রতরঙ্গবিশিষ্ট তাপ বিকিরণ সহজেই বায়ুমণ্ডল ভেদ করে ভূপৃষ্ঠে আসে এবং ভূপৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করে। কিন্তু ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রতিফলিত দীর্ঘতরঙ্গবিশিষ্ট তাপ বিকিরণকে এসব গ্যাস শোষণ করে এবং পুনরায় নিচের দিকে বিকিরণ করে মহাশূন্যে যেতে বাধা দেয়। ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পায়। এ প্রক্রিয়াকেই গ্রিনহাউস প্রভাব বলে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মানচিত্রে ভূমধ্যসাগরের উপকূলবর্তী অঞ্চল চিহ্নিত করে 'খ' দ্বারা নির্দেশ করা হয়েছে, যা মূলত ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল।

    ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
    ১. উষ্ণ ও শুষ্ক গ্রীষ্মকাল: এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বেশ বেশি থাকে (গড়ে ২১° হতে ২৭° সেলসিয়াস) এবং এ সময় সাধারণত বৃষ্টিপাত হয় না বললেই চলে।
    ২. মৃদু ও আর্দ্র শীতকাল: শীতকালে পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। শীতকালীন গড় তাপমাত্রা ৫° থেকে ১০° সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে।
    ৩. বৃষ্টিপাত: বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ সাধারণত ৪০ থেকে ৭৫ সেন্টিমিটার, যার প্রায় সবটুকুই শীতকালে সংঘটিত হয়।
    ৪. রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া: আকাশ প্রায় সারা বছরই মেঘমুক্ত ও রৌদ্রকরোজ্জ্বল থাকে, যা এ জলবায়ুর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মানচিত্রে বিষুবরেখা বরাবর আমাজন অববাহিকা, কঙ্গো অববাহিকা ও মালয়েশিয়া-ইন্দোনেশিয়া অঞ্চল 'ক' দ্বারা নির্দেশ করা হয়েছে, যা মূলত ক্রান্তীয় বা নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল। নিরক্ষীয় জলবায়ু চিরসবুজ বনভূমি গঠনে অত্যন্ত অনুকূল ও সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

    নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারা বছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেওয়ায় তাপমাত্রা সর্বদা বেশি থাকে (গড়ে ২৭° সেলসিয়াস) এবং জলবায়ু উষ্ণ থাকে। অধিক উষ্ণতার ফলে এখানে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প তৈরি হয় এবং প্রতিদিন বিকেলে বা সন্ধ্যায় পরিচলন প্রক্রিয়ায় মুষলধারে বৃষ্টিপাত ঘটে। এই অঞ্চলে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২০০ থেকে ২৫০ সেন্টিমিটার বা তারও বেশি।

    সারা বছর প্রচুর তাপ ও একটানা বৃষ্টিপাতের আর্দ্র পরিবেশ উদ্ভিদের দ্রুত বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানকার গাছে কোনো নির্দিষ্ট ঋতুতে পাতা ঝরে পড়ে না; বরং সারা বছরই কোনো না কোনো গাছে নতুন পাতা গজায় এবং পুরাতন পাতা ঝরে। ফলে এ বনাঞ্চল সর্বদা সবুজ দেখায় এবং একে 'চিরসবুজ বা চিরহরিৎ বনভূমি' (যেমন- আমাজনের সেলভা বনভূমি) বলা হয়। সুতরাং, উদ্দীপকের 'ক' অঞ্চলের অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও উচ্চ তাপমাত্রা চিরসবুজ বনভূমি গঠনের মূল কারণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন