গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
পরিপাক কাকে বলে?
- খ)(2)
মুখবিবর তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত-বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
চিত্র-A মানবদেহের কোন গ্রন্থিকে নির্দেশ করেছে? সে সম্পর্কে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
চিত্র-B এর গঠন ও কাজ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় মানুষের জটিল, অদ্রবণীয় ও শোষণ-অনুপযোগী খাদ্য উপাদানগুলো বিভিন্ন হরমোনের প্রভাবে ও এনজাইমের সহায়তায় ভেঙে দেহের কোষের গ্রহণোপযোগী ও দ্রবণীয় সরল উপাদানে পরিণত হয়, তাকে পরিপাক বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুখছিদ্রের ঠিক পেছনে অবস্থিত গহ্বরটি হলো মুখবিবর। মুখবিবর প্রধানত তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত:
১. দাঁত: খাদ্যবস্তুকে চিবিয়ে, কেটে ও পিষে ছোট ছোট কণায় পরিণত করে। মানুষের দুপাটিতে মোট ৩২টি স্থায়ী দাঁত থাকে।
২. জিহ্বা: এটি একটি মাংসল ও নড়নক্ষম অঙ্গ যা খাদ্যবস্তু নাড়াচাড়া করতে, গিলতে এবং স্বাদ কোরকের মাধ্যমে খাদ্যের স্বাদ গ্রহণ করতে সাহায্য করে।
৩. লালাগ্রন্থি: মুখবিবরে তিন জোড়া লালাগ্রন্থি থাকে (প্যারোটিড, সাবম্যান্ডিবুলার ও সাবলিঙ্গুয়াল)। এগুলো থেকে নিঃসৃত লালারস খাদ্যকে পিচ্ছিল করে গিলতে সাহায্য করে এবং টায়ালিন এনজাইমের মাধ্যমে শ্বেতসার জাতীয় খাদ্যের প্রাথমিক পরিপাক ঘটায়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র-A মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি 'যকৃত' (Liver)-কে নির্দেশ করে।
যকৃত সম্পর্কে ব্যাখ্যা:
১. অবস্থান ও গঠন: যকৃত মধ্যচ্ছদা বা ডায়াফ্রামের ঠিক নিচে উদরগহ্বরের ওপরের অংশে ডানদিকে অবস্থিত। এটি লালচে-বাদামি রঙের এবং প্রধানত ডান ও বাম দুটি বড় খণ্ডসহ মোট চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ডে বিভক্ত। এর ডান খণ্ডের নিচে পিত্তথলি (Gall bladder) যুক্ত থাকে।
২. পিত্তরস নিঃসরণ: যকৃত কোষ থেকে ক্ষারীয় পিত্তরস নিঃসৃত হয়ে পিত্তথলিতে জমা থাকে এবং পরিপাকের সময় পিত্তনালির মাধ্যমে ডিওডেনামে এসে চর্বি জাতীয় খাদ্যকে ইমালসিফাই বা ক্ষুদ্র কণায় পরিণত করে।
৩. বিপাকীয় ভূমিকা: পরিপাককৃত পুষ্টি উপাদান যকৃতে সঞ্চিত ও প্রক্রিয়াজাত হয়। অতিরিক্ত গ্লুকোজ গ্লাইকোজেন হিসেবে জমা রাখা, প্রোটিন ও লিপিডের বিপাক এবং ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থ নিষ্ক্রিয় করায় এটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। এ কারণে যকৃতকে মানবদেহের রসায়নাগার বলা হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র-B হলো মানব পৌষ্টিকনালির অন্যতম প্রধান অঙ্গ 'পাকস্থলী' (Stomach)। নিচে এর গঠন ও কাজ বিশ্লেষণ করা হলো:
পাকস্থলীর গঠন:
১. আকৃতি ও অবস্থান: এটি অন্ননালি ও ক্ষুদ্রান্ত্রের মধ্যবর্তী অংশে অবস্থিত একটি বাঁকানো, পুরু ও পেশিবহুল থলিবিশেষ। ফাঁকা অবস্থায় এটি দেখতে ইংরেজি 'J' অক্ষরের মতো।
২. প্রধান অংশসমূহ: এর প্রধান অংশগুলো হলো—কার্ডিয়া (অন্ননালির সংযোগস্থল), ফান্ডাস (উপরের গম্বুজাকার অংশ), বডি বা দেহ (প্রধান মধ্যবর্তী অংশ) এবং পাইলোরাস (ক্ষুদ্রান্ত্রের সংযোগস্থল)। এর প্রবেশ ও বহির্গমন পথে যথাক্রমে কার্ডিয়াক ও পাইলোরিক স্ফিংক্টার থাকে।
৩. প্রাচীর ও গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি: পাকস্থলীর প্রাচীর শক্তিশালী পেশিস্তর দ্বারা গঠিত এবং এর অভ্যন্তরীণ মিউকোসা স্তরে অসংখ্য গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থাকে, যেখান থেকে গ্যাস্ট্রিক রস নিঃসৃত হয়।পাকস্থলীর কাজ:
১. খাদ্য সঞ্চয়: গৃহীত খাদ্যবস্তু সাময়িকভাবে (প্রায় ২-৪ ঘণ্টা) এখানে জমা থাকে।
২. যান্ত্রিক পরিপাক: পাকস্থলীর পেশিবহুল প্রাচীরের পর্যায়ক্রমিক সংকোচন ও প্রসারণের (পেরিস্টালসিস) ফলে খাদ্যবস্তু পিষ্ট ও মন্থিত হয়ে কাইম বা লেই-এ পরিণত হয়।
৩. রাসায়নিক পরিপাক: গ্যাস্ট্রিক রস থেকে নিঃসৃত হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl) খাদ্যের জীবাণু ধ্বংস করে এবং নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেনকে সক্রিয় পেপসিনে রূপান্তর করে। পেপসিন প্রোটিনকে ভেঙে প্রোটিওজ ও পেপটোনে পরিণত করে। এছাড়া রেনিন দুগ্ধ-প্রোটিন জমাট বাঁধায়।
৪. শোষণ: পানি, অ্যালকোহল, কিছু লবণ ও সাধারণ ওষুধ সরাসরি পাকস্থলীর প্রাচীর দ্বারা শোষিত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও