ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯
ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
কেরামত আলী দীর্ঘদিন পর সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে এলাকার লোকদেরকে গাথে নিয়ে প্রচুর রাস্তা-ঘাট, মসজিদ-মাদরাসা নির্মাণ এবং সংস্কারের কাজ করেন। বিশুদ্ধ খাবার পানির জন্য গাড়া-মহল্লায় অনেক নলকূপ স্থাপন করেন। এছাড়াও তিনি এলাকার কিছু বিশেষ প্রতিষ্ঠানও তৈরি করেন। এসব প্রতিষ্ঠানে ছোট ছেলে-মেয়েরা কুরআন শিক্ষা লাভ করে, আদব-কায়দা শিখে, নামাজের মাসলা-মাসায়েল সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে।
- ক)(1)
বিদআত' শব্দের অর্থ কী ?
- খ)(2)
চিকিৎসাশাস্ত্রে ইবনে সিনার অবদান অতুলনীয়।' ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
কেরামত আলীর কর্মকাণ্ড ইসলামের কোন ধর্ম প্রচারকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
কেরামত আলীর তৈরি করা বিশেষ প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম উল্লেখপূর্বক এর সামাজিক প্রভাব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'বিদআত' (بدعة) শব্দের আভিধানিক অর্থ নতুন উদ্ভাবন, নতুন নিয়ম প্রবর্তন বা নবসৃষ্ট বিষয়। পারিভাষিক অর্থে দ্বীনের মধ্যে নতুন কোনো বিষয়ের সংযোজন বা বিয়োজন করাকে বিদআত বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চিকিৎসাশাস্ত্রে মুসলিম মনীষী ইবনে সিনার অবদান অপরিসীম। তিনি ছিলেন মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও দার্শনিক। তাঁর রচিত কালজয়ী চিকিৎসাবিজ্ঞানবিষয়ক গ্রন্থ 'আল-কানুন ফিত-তিব্ব' (The Canon of Medicine) শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাশাস্ত্রের প্রামাণ্য পাঠ্যবই হিসেবে সমাদৃত ছিল। তিনি রোগের উপসর্গ, ওষুধ প্রস্তুত প্রণালী, অ্যানাটমি ও ফার্মাকোলজিতে যুগান্তকারী গবেষণা পরিচালনা করেছিলেন, যার কারণে চিকিৎসাশাস্ত্রে তাঁর অবদানকে অতুলনীয় বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের কেরামত আলীর কর্মকাণ্ড বাংলায় ইসলাম প্রচারক বিশিষ্ট সুফি সাধক 'খান জাহান আলী (রহ.)'-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
হজরত খান জাহান আলী (রহ.) খুলনাসহ দক্ষিণ বাংলায় ইসলাম প্রচারের পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক বহুমুখী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছিলেন। তিনি অসংখ্য রাস্তা-ঘাট নির্মাণ, মসজিদ-মাদরাসা স্থাপন এবং জনগণের পানির কষ্ট দূর করার জন্য বড় বড় দীঘি ও জলাশয় খনন করেছিলেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কেরামত আলী সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে রাস্তা-ঘাট, মসজিদ-মাদরাসা নির্মাণ ও সংস্কার করেন এবং খাবার পানির জন্য নলকূপ স্থাপন করেন। তাঁর এই সমাজসেবামূলক ও জনকল্যাণমুখী সংস্কারমূলক কার্যক্রম সরাসরি হজরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর আদর্শ ও কর্মকাণ্ডের প্রতিচ্ছবি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে কেরামত আলীর তৈরি করা বিশেষ প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম হলো ফুরকানিয়া মাদরাসা বা মক্তব (কুরআন শিক্ষা কেন্দ্র)।
মক্তব বা ফুরকানিয়া মাদরাসার সামাজিক প্রভাব অত্যন্ত গভীর ও সুদূরপ্রসারী:
১. বুনিয়াদি ধর্মীয় শিক্ষা: এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিশুরা শৈশবেই শুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত, নামাজের প্রয়োজনীয় মাসলা-মাসায়েল এবং দৈনন্দিন জীবনের দোয়া ও আমল শিখতে পারে।
২. নৈতিক ও চরিত্র গঠন: মক্তবে শিশুরা শিক্ষক ও গুরুজনদের সম্মান করা, পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া এবং আদব-কায়দা শেখে, যা ভবিষ্যৎ জীবনে তাদের আদর্শ ও চরিত্রবান নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে।
৩. নিরক্ষরতা দূরীকরণ ও সামাজিক সচেতনতা: মক্তবের মাধ্যমে সমাজে শিক্ষার প্রাথমিক আলো ছড়িয়ে পড়ে এবং কুসংস্কার ও অপরাধমূলক আচরণ রোধে সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় থাকে।সুতরাং, কেরামত আলী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এ ধরনের মক্তব ব্যবস্থা সমাজের প্রতিটি শিশুকে নীতি-নৈতিকতা ও মৌলিক ধর্মীয় জ্ঞানে সমৃদ্ধ করে একটি সুন্দর, শান্তিময় সমাজ গঠনে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও