পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূহ • রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা • রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
সরকারের একটি বিভাগ দেশের অভ্যন্তরে শান্তি-শৃঙ্খলার দায়িত্ব পালন করে। বিভাগটির রাজনৈতিক অংশকে জনগণ নির্বাচিত করে। বিভাগটি তাদের কাজের জন্য জনগণের কাছে জবাদিহি করে।
- ক)(1)
মন্টেছু সর্বপ্রথম ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি সম্পর্কে ধারণা দেন কোন বইতে ?
- খ)(2)
পলিটি বলতে এরিস্টটল কী বুঝিয়েছেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে আলোচিত বিভাগটির কার্যাবলি নির্ণয় কর।
- ঘ)(4)
উক্ত বিভাগটির গঠন কাঠামো বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'দ্য স্পিরিট অব লজ' (The Spirit of the Laws, ১৭৪৮)-এ সর্বপ্রথম আধুনিক ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটলের মতে, 'পলিটি' (Polity) হলো মধ্যবিত্ত শ্রেণি পরিচালিত এমন একটি সর্বোৎকৃষ্ট ও ভারসাম্যপূর্ণ শাসনব্যবস্থা, যা গণতন্ত্র ও ধনিকতন্ত্রের (Oligarchy) ত্রুটিমুক্ত একটি সমন্বিত রূপ। এরিস্টটল গণতন্ত্রের বিকৃত রূপের বিপরীতে একটি বাস্তবসম্মত, কল্যাণকামী এবং মধ্যপন্থি আদর্শ শাসনব্যবস্থা বোঝাতে 'পলিটি' প্রত্যয়টি ব্যবহার করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সরকারের যে বিভাগটির কথা বলা হয়েছে তা হলো 'শাসন বিভাগ' বা 'নির্বাহী বিভাগ' (Executive)। শাসন বিভাগ রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করে এবং এর রাজনৈতিক অংশ জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হয়।
শাসন বিভাগের প্রধান কার্যাবলি নিম্নরূপ:
১. অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা: দেশের ভেতরে আইন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অপরাধ দমন এবং নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করা।
২. বৈদেশিক সম্পর্ক ও প্রতিরক্ষা: অন্য রাষ্ট্রের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষা করা, চুক্তি সম্পাদন এবং বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য সামরিক বাহিনী পরিচালনা করা।
৩. আইন কার্যকর করা: আইনসভা কর্তৃক প্রণীত সকল আইন ও নীতি বাস্তবায়ন ও কার্যকর করা।
৪. প্রশাসনিক কাজ: দেশের সার্বিক প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকি করা এবং সরকারি কর্মচারীদের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি নিয়ন্ত্রণ করা।
৫. আর্থিক কার্যাবলি: জাতীয় বাজেট প্রণয়ন এবং আইনসভার অনুমোদন সাপেক্ষে কর ধার্য ও রাজস্ব সংগ্রহ করা।
৬. বিচার সংক্রান্ত কাজ: কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপ্রধানের মাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির ক্ষমা মঞ্জুর বা সাজা কমানোর মতো বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করা। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে আলোচিত বিভাগটি হলো সরকারের 'শাসন বিভাগ'। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শাসন বিভাগের গঠন কাঠামো প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত:
১. রাজনৈতিক অংশ (অস্থায়ী অংশ): এই অংশটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিয়ে গঠিত। সংসদীয় বা রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থায় এরা সাধারণত জনগণের ভোটে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হন। যেমন—রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রীগণ। এ অংশের সদস্যরা মূলত নীতি নির্ধারণ করেন এবং গণতান্ত্রিকভাবে তাদের কাজের জন্য আইনসভা তথা জনগণের নিকট দায়বদ্ধ থাকেন। নির্ধারিত মেয়াদ শেষে বা অনাস্থা প্রস্তাবের কারণে তাঁদের পদ ত্যাগ করতে হয়।
২. অরাজনৈতিক অংশ বা প্রশাসনিক অংশ (স্থায়ী অংশ): এই অংশটি স্থায়ী সরকারি কর্মকর্তাদের (আমলাতন্ত্র) দ্বারা গঠিত, যেমন—সচিব, অতিরিক্ত সচিব, জেলা প্রশাসক থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের সরকারি কর্মচারী পর্যন্ত। এরা মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় স্থায়ী চাকরির বিধিমালার অধীনে নিযুক্ত হন। তাঁরা নির্দিষ্ট বয়সসীমা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকেন না। রাজনৈতিক অংশ কর্তৃক গৃহীত নীতিসমূহ বাস্তবে প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করাই এদের প্রধান দায়িত্ব।
পরিশেষে বলা যায়, রাজনৈতিক নীতি-নির্ধারণী অংশ এবং অরাজনৈতিক স্থায়ী প্রশাসনিক অংশ—এই উভয়ের সমন্বয়েই শাসন বিভাগের কার্যকর গঠন কাঠামো গড়ে ওঠে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও