পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূহ • রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা • রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
'ক' সরকার | 'খ' সরকার
(i) মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার | i) রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার
(ii) ভারত, বাংলাদেশ, গ্রেট ব্রিটেন | (ii) আমেরিকা, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া
- ক)(1)
'ক্ষমতার উৎস জনগণ' এ ধারণাটি কোন ধরনের সরকারব্যবস্থার?
- খ)(2)
নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
ছকে আলোচিত 'ক' সরকারটির বৈশিষ্ট্যসমূহ তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে নিরূপণ কর।
- ঘ)(4)
ছকে আলোচিত দুটো সরকারের মধ্যে তুলনামূলক পার্থক্যসমূহ আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ক্ষমতার উৎস জনগণ'—এ ধারণাটি মূলত 'গণতান্ত্রিক' সরকারব্যবস্থার।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে শাসনব্যবস্থায় উত্তরাধিকার সূত্রে রাষ্ট্রপ্রধান (রাজা বা রানি) রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত হন, কিন্তু দেশের প্রকৃত শাসনক্ষমতা একটি নির্বাচিত মন্ত্রিসভা বা সংসদ দ্বারা পরিচালিত হয় এবং রাজা বা রানি কেবল সাংবিধানিক বা নামমাত্র প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, তাকে নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র (Constitutional Monarchy) বলে। যেমন—যুক্তরাজ্যের শাসনব্যবস্থা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ছকে আলোচিত 'ক' সরকারটি হলো 'মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার' (বা সংসদীয় সরকার)। পাঠ্যবইয়ের আলোকে এর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
১. আইন ও শাসন বিভাগের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক: এ ব্যবস্থায় শাসন বিভাগের সদস্যরা আইনসভার সদস্যদের মধ্য থেকেই নির্বাচিত হন এবং উভয়ের মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় থাকে।
২. দলীয় শাসন: আইনসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল সরকার গঠন করে এবং মন্ত্রিসভা গঠন করে।
৩. নামমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান: এই শাসনব্যবস্থায় একজন নামমাত্র বা নিয়মতান্ত্রিক রাষ্ট্রপ্রধান (যেমন রাষ্ট্রপতি বা রাজা/রানি) থাকেন এবং প্রকৃত শাসনক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার হাতে ন্যস্ত থাকে।
৪. যৌথ দায়িত্বশীলতা: মন্ত্রিসভার সদস্যরা তাঁদের সকল কাজের জন্য আইনসভার নিকট ব্যক্তিগত ও যৌথভাবে দায়বদ্ধ থাকেন।
৫. নমনীয়তা ও আস্থার ওপর নির্ভরশীলতা: আইনসভার অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে যেকোনো সময় সরকার বা মন্ত্রিসভার পতন ঘটতে পারে।
৬. প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব: এই ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার মধ্যমণি হিসেবে অত্যন্ত শক্তিশালী নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেন। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ছকে 'ক' সরকার হলো মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার এবং 'খ' সরকার হলো রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার। নিম্নে এদের তুলনামূলক পার্থক্য তুলে ধরা হলো:
১. রাষ্ট্রপ্রধানের ক্ষমতা ও মর্যাদা: সংসদীয় সরকারে রাষ্ট্রপ্রধান নামমাত্র প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী প্রকৃত শাসক। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে রাষ্ট্রপতি একই সাথে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান এবং তিনিই প্রকৃত শাসনক্ষমতার অধিকারী।
২. আইন ও শাসন বিভাগের সম্পর্ক: সংসদীয় ব্যবস্থায় শাসন বিভাগের সদস্যরা আইনসভার মধ্য থেকে আসেন এবং আইনসভার অংশ থাকেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থায় ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির কারণে রাষ্ট্রপতি ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা আইনসভার সদস্য হন না।
৩. জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতা: মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারে মন্ত্রিসভা আইনসভার কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে। পক্ষান্তরে, রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি বা তাঁর মন্ত্রিসভা আইনসভার কাছে দায়বদ্ধ থাকেন না।
৪. মেয়াদের স্থায়িত্ব: সংসদীয় সরকারে আইনসভায় অনাস্থা প্রস্তাব পাস হলে সরকারের পতন ঘটে, ফলে এর মেয়াদ নিশ্চিত নয়। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে নির্দিষ্ট মেয়াদের আগে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করা অত্যন্ত কঠিন (কেবল দুর্লভ অভিশংসন ছাড়া), ফলে এর স্থায়িত্ব তুলনামূলক বেশি।
৫. জরুরি অবস্থার মোকাবিলা: রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে রাষ্ট্রপতি এককভাবে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, যা সংকটকালে কার্যকর। কিন্তু সংসদীয় সরকারে মন্ত্রিসভার যৌথ সিদ্ধান্তের কারণে কিছু ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হতে পারে।সুতরাং দেখা যায়, ক্ষমতা প্রয়োগের প্রক্রিয়া, জবাবদিহিতা ও কার্যপদ্ধতির দিক থেকে উল্লিখিত দুই শাসনব্যবস্থার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও