সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, বরিশাল, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

রমা ও শ্যামা দুই বন্ধু। রমা বাংলাদেশের সিলেট জেলায় বসবাসরত এমন একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য, যাদের জীবনে নৃত্যের গুরুত্ব। অনেক। তারা বিশ্বাস করে যে, পৃথিবী সৃষ্টির পিছনেও এ নৃত্যের ভূমিকা। রয়েছে। অপরদিকে শ্যামা বাংলাদেশের রাজশাহী অঞ্চলে বসবাসরত যে নৃগোষ্ঠীর সদস্য, তাদের আদি অস্ট্রেলীয় বলা হয়। এরা সাতটি গোত্রে বিভত্ত। এদের নিজস্ব ভাষা থাকলেও আলাদা কোনো বর্ণমালা নেই।

  1. ক)

    বাংলাদেশের বৃহত্তম নৃগোষ্ঠী কোনটি?

    (1)
  2. খ)

    জুম চাষ- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত রমার নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত শ্যামার নৃগোষ্ঠীগত স্বতন্ত্রতা রয়েছে"- ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের বৃহত্তম নৃগোষ্ঠী হলো চাকমা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জুম চাষ হলো পাহাড়ি অঞ্চলে প্রচলিত এক ধরনের আদিম ও সনাতন কৃষি পদ্ধতি। এতে পাহাড়ের ঢালের জঙ্গল বা গাছপালা কেটে শুকিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয় এবং প্রথম বৃষ্টির পর পোড়া ছাইয়ের মাটিতে দা দিয়ে গর্ত করে বিভিন্ন ফসলের বীজ একসঙ্গে বপন করা হয়। সাধারণত পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত রমার নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় হলো সে 'মণিপুরি' নৃগোষ্ঠীর সদস্য।

    বাংলাদেশের সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় মণিপুরি নৃগোষ্ঠীর প্রধান বসবাস। তাদের সংস্কৃতিতে নৃত্য ও সংগীত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। মণিপুরিদের ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্য 'মণিপুরি নৃত্য' বিশ্ববিখ্যাত। মণিপুরি বিশ্বাস অনুযায়ী, তাদের পৌরাণিক কাহিনীতে নৃত্যকে মহাবিশ্ব সৃষ্টির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে মনে করা হয়, বিশেষ করে শিব ও ঊষার নৃত্যের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা বিশ্বাস করে, যা তাদের 'লাই হারাওবা' উৎসবের নৃত্যে প্রতিফলিত হয়। উদ্দীপকে উল্লিখিত সিলেট জেলায় বসবাস এবং নৃত্যের মাধ্যমে পৃথিবী সৃষ্টির বিশ্বাসের মিল থাকায় রমা মণিপুরি নৃগোষ্ঠীভুক্ত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে শ্যামা হলো 'সাঁওতাল' নৃগোষ্ঠীর সদস্য। সাঁওতালদের স্বতন্ত্র সামাজিক ও নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান—উক্তিটি যথার্থ।

    উদ্দীপকে উল্লেখিত রাজশাহী অঞ্চলে বসবাস, আদি-অস্ট্রেলীয় (Proto-Australoid) নরগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত হওয়া এবং সাতটি আদি গোত্রে বিভক্ত থাকার বৈশিষ্ট্যগুলো স্পষ্টভাবে সাঁওতাল নৃগোষ্ঠীকে নির্দেশ করে। এছাড়া সাঁওতালদের নিজস্ব ভাষা 'সাঁওতালি' রয়েছে, যার কোনো নিজস্ব ঐতিহাসিক বর্ণমালা ছিল না (পরবর্তীতে অলচিকি লিপি উদ্ভাবিত হলেও বাংলায় প্রচলিত ছিল না)।

    সাঁওতাল সমাজের বেশ কিছু নিজস্ব স্বতন্ত্রতা রয়েছে। তাদের সমাজ পিতৃপ্রধান হলেও নারীরা পরিবার ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাঁওতালদের সামাজিক শাসনব্যবস্থায় 'মাঝি পরিষদ' বিদ্যমান, যার প্রধান হলেন 'মাঝি হারাম'। তাদের প্রধান দেবতা 'ঠাকুরজিউ' বা 'মারাং বুরু'। তারা প্রকৃতির সাথে নিবিড় সম্পর্ক রেখে জীবনযাপন করে এবং সোহরাই, সহরায় বা বাহা ইত্যাদি স্বতন্ত্র উৎসব পালন করে। তাদের পরিচ্ছন্ন গৃহনির্মাণ ও দেওয়ালচিত্রও বিশেষ স্বাতন্ত্র্যের পরিচায়ক।

    অতএব, নিজস্ব উৎপত্তি, ভাষা, সমাজকাঠামো ও কৃষ্টির কারণে শ্যামার নৃগোষ্ঠী অর্থাৎ সাঁওতালদের সুস্পষ্ট স্বকীয়তা ও সাংস্কৃতিক স্বতন্ত্রতা রয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন