সমাজকর্ম ২য় পত্র • সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০১৭
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
শিল্পবিপ্লব পর স্বামী-স্ত্রীর কর্মব্যস্ততার কারণে পারিবারিক বন্ধন অনেক শিথিল হয়ে পড়ছে। শিশুদের বাবা-মা একদম সময় দিতে
পারে না বলে শিশুদের মাঝে অসংযত আচরণ, কুপ্রবৃত্তি ও অমানবিক আচরণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আজকাল শিশুরা টিভির ধর্মীয় বা শিক্ষামূলক
অনুষ্ঠান দেখতে পছন্দ করে না, বরং তারা বিদেশি চ্যানেল, ফেসবুক,ইন্টারনেট, মোবাইল ও চ্যাট করতে পছন্দ করে । বাবা-মার অনুপস্থিতি
ও নিয়ন্ত্রণহীনতার কারণেই কিশোর অপরাধ ও কিশোর মাদকসেবীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে যা সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করছে।
- ক)(1)
“প্রতিষ্ঠান হল সেসব প্রতিষ্ঠিত কর্মপদ্ধতি, যেগুলোর মাধ্যমে গোষ্ঠীর কার্যকলাপের বৈশিষ্ট্য সূচিত হয়।”— কে বলেছেন?
- খ)(2)
আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
অনুচ্ছেদে শিশুদের উল্লিখিত আচরণ নিয়ন্ত্রণে কোন প্রতিষ্ঠান ব্যর্থ হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সমস্যা সমাধানে আধুনিক প্রযুক্তি কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে? সুপারিশ দাও ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ধৃত সংজ্ঞাটি প্রদান করেছেন সমাজবিজ্ঞানী সি. এইচ. কুলি (C. H. Cooley)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বলতে রাষ্ট্রের এমন সব প্রাতিষ্ঠানিক সংস্থাকে বোঝায়, যা দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন, অপরাধ প্রতিরোধ ও দমন এবং নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত। যেমন— পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ইত্যাদি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অনুচ্ছেদে শিশুদের উল্লিখিত বিপথগামী আচরণ নিয়ন্ত্রণে সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে 'পরিবার' ব্যর্থ হয়েছে।
পরিবার হলো সমাজের প্রাথমিক ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, যেখানে শিশুর জন্ম, লালন-পালন ও প্রাথমিক সামাজিকীকরণ ঘটে। শিশুর সঠিক মূল্যবোধ, নৈতিক চরিত্র ও শৃঙ্খলা গঠনে মা-বাবার সান্নিধ্য এবং নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, শিল্পবিপ্লবোত্তর কর্মব্যস্ততার কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার পারিবারিক বন্ধন শিথিল হয়ে পড়েছে। বাবা-মা সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছেন না। ফলে সঠিক পারিবারিক শিক্ষা ও তদারকির অভাবে শিশুরা ধর্মীয় ও নৈতিক অনুশাসন থেকে দূরে সরে গিয়ে অনৈতিক আচরণ, বিদেশি চ্যানেল ও সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহারে আসক্ত হচ্ছে। বাবা-মায়ের অনুপস্থিতি ও নিয়ন্ত্রণের অভাবেই তারা কিশোর অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে। তাই এখানে মূলত পরিবার নামক মৌলিক প্রতিষ্ঠানটি তার সঠিক সামাজিকীকরণ ও নিয়ন্ত্রণমূলক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত কিশোর অপরাধ, মাদকাসক্তি ও অপসংস্কৃতির মতো সামাজিক সমস্যা সমাধানে আধুনিক প্রযুক্তি নেতিবাচক প্রভাব ফেললেও, এর ইতিবাচক ও পরিকল্পিত ব্যবহারের মাধ্যমে সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব। এ সংক্রান্ত সুপারিশ নিচে আলোচনা করা হলো:
১. প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সফটওয়্যার ব্যবহার: শিশুদের ডিভাইসগুলোতে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ও ওয়েব ফিল্টারিং অ্যাপ ব্যবহার করে অপ্রীতিকর ও ক্ষতিকর ওয়েবসাইট, সহিংস গেম এবং অশালীন বিদেশি কনটেন্ট ব্লক করা যায়।
২. শিক্ষামূলক ও মননশীল ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি: প্রযুক্তির মাধ্যমে ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক জ্ঞানকে শিশুদের কাছে আকর্ষণীয় ও ইন্টার-অ্যাক্টিভ আকারে অ্যানিমেশন বা ভিডিওর মাধ্যমে উপস্থাপন করা, যাতে তারা গঠনমূলক বিষয়ে আকৃষ্ট হয়।
৩. ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ ও ট্র্যাকিং: বাবা-মা ব্যস্ত থাকলেও জিপিএস ও স্মার্ট মনিটরিং অ্যাপের সাহায্যে সন্তানের অবস্থান, অনলাইন কার্যক্রম ও বন্ধুদের পরিধি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখতে পারেন।
৪. অনলাইন কাউন্সেলিং ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা: বিপথগামী বা মাদকাসক্ত কিশোরদের সংশোধন এবং হতাশা কাটাতে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, হেল্পলাইন ও অনলাইন কাউন্সেলিং সেবা অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।
৫. সামাজিক সচেতনতা ও ডিজিটাল সাক্ষরতা: প্রযুক্তিকে ইতিবাচক ও নৈতিক কাজে ব্যবহারের নিয়মাবলী (Cyber Ethics) শেখাতে অনলাইন ক্যাম্পেইন ও সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করা।
সুতরাং, আধুনিক প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ ও ইতিবাচক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের মাধ্যমে কিশোরদের বিপথগামিতা দূর করে সুস্থ ও গঠনমূলক সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও