ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • প্রাক-ইসলামি আরব • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
এক সময় পৃথিবীতে দাস ব্যবস্থার প্রচলন ছিল। শক্তিশালী দেশ তাদের কৃষিকাজের জন্য দরিদ্র দেশ থেকে অশিক্ষিত লোকদেরকে এনে কৃষিকাজে নিয়োজিত করত। এদের অক্লান্ত পরিশ্রমের দ্বারা ধনী দেশ কৃষি ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে। তবে তাদের কোনো ব্যক্তি স্বাধীনতা ছিল না। বরং তাদের ওপর নির্যাতন করা হতো। তারা তাদের প্রভুর কথা মেনে চলতে বাধ্য হতো। মত প্রকাশের অধিকার না থাকায় এক সময় তারা দুভাগে বিভক্ত হয়ে গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। এ গৃহ যুদ্ধের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য 'X' দেশের সরকার সংবিধান প্রণয়ন করে দাসদের স্বাধীনতা প্রদান করে। এ পদক্ষেপের ফলে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ক)(1)
হুদায়বিয়ার সন্ধি কত সালে স্বাক্ষরিত হয়?
- খ)(2)
আইয়ামে জাহেলিয়া বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে ইসলামপূর্ব আরবের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লেখিত ব্যবস্থা বিলুপ্তির ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপ। ছিল ইসলামের ইতিহাসের অনুরূপ- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হুদায়বিয়ার সন্ধি ৬২৮ খ্রিস্টাব্দে (৬ষ্ঠ হিজরি) স্বাক্ষরিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'আইয়ামে জাহেলিয়া' একটি আরবি শব্দসমষ্টি, যার অর্থ 'অজ্ঞতার যুগ' বা 'অন্ধকার যুগ'। মহানবি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুয়ত প্রাপ্তির পূর্ববর্তী প্রায় এক শতাব্দীকাল সময়কে মূলত জাহেলিয়া যুগ বলা হয়। এ যুগে আরব সমাজে কোনো কেন্দ্রীয় শাসন, সুসংহত আইন ও নৈতিক মূল্যবোধ ছিল না। মারামারি, রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, পৌত্তলিকতা, মদ্যপান, জুয়া এবং দাস ও নারীদের ওপর চরম নিপীড়নে গোটা আরব সমাজ নিমজ্জিত ছিল বলেই এই সময়কে আইয়ামে জাহেলিয়া বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইসলামপূর্ব আরবের অমানবিক 'দাস প্রথা' ও সামাজিক বৈষম্যের দিকটি ফুটে উঠেছে।
ইসলামপূর্ব জাহেলি যুগে আরব সমাজে দাস-দাসী কেনাবেচা এবং তাদের ওপর চরম নির্যাতন একটি সাধারণ বিষয় ছিল। দাসদের কোনো সামাজিক অধিকার বা ব্যক্তিস্বাধীনতা ছিল না; তাদেরকে মনিবের পণ্যসামগ্রীর মতো গণ্য করা হতো এবং তাদের শ্রম দিয়ে বিত্তশালীরা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করত।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'X' দেশের শক্তিশালী শ্রেণি কর্তৃক দরিদ্র দেশ থেকে মানুষ এনে কৃষিকাজে বাধ্য করা, তাদের ব্যক্তিত্ব ও স্বাধীনতা হরণ এবং নির্মম নির্যাতনের চিত্রটি প্রাক-ইসলামি আরবের দাস প্রথার বাস্তব রূপকেই নির্দেশ করে। সেখানেও দাসদের দিয়ে কঠোর পরিশ্রম করানো হতো এবং তাদের ন্যূনতম মৌলিক মানবাধিকার থেকেও বঞ্চিত রাখা হতো।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত দাস ব্যবস্থা বিলুপ্তির ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপ ইসলামের ইতিহাসের দাসপ্রথা সংস্কার ও তাদের মানবিক মর্যাদা প্রদানের অনুরূপ—মন্তব্যটি যথার্থ।
ইসলামপূর্ব আরবে দাস-দাসীদের পশুর চেয়েও অধম মনে করা হতো। মহানবি হজরত মুহাম্মদ (সা.) ইসলাম প্রচারের পর দাস ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটান। ইসলাম দাস মুক্তির বিষয়টিকে একটি অত্যন্ত সওয়াব ও মর্যাদাপূর্ণ কাজ হিসেবে ঘোষণা করে। এছাড়া বিভিন্ন পাপ বা ভুলের কাফফারা হিসেবে দাস মুক্ত করার বিধান প্রবর্তন করা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দেন যে, মনিবরা যা খাবে দাসদের তা-ই খেতে দেবে এবং নিজেরা যা পরিধান করবে দাসদেরও তা পরাবে। বিদায় হজের ভাষণেও তিনি দাস-দাসীদের অধিকার নিশ্চিতের কঠোর নির্দেশ দেন, যার মাধ্যমে হযরত বিলাল (রা.)-এর মতো দাস সমাজে সর্বোচ্চ মর্যাদা লাভ করেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'X' দেশের সরকার গৃহযুদ্ধ ও অশান্তি দূর করার লক্ষ্যে সংবিধানের মাধ্যমে দাসদের স্বাধীনতা প্রদান করে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে। একইভাবে ইসলামও আইনি ও ধর্মীয় অনুশাসনের মাধ্যমে দাসদের স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করে আরবের বর্বর সমাজে শান্তি ও সাম্য প্রতিষ্ঠা করেছিল। তাই দাসদের স্বাধীনতা দিয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার এ পদক্ষেপ ইসলামের সুমহান আদর্শের সাথেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও