গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    প্রেষণা কী?

    (1)
  2. খ)

    মূল্যবোধের ভিত্তিতে মানকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়— বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে A চিহ্নিত অংশটি গৃহ ব্যবস্থাপনার কোন ধাপকে নির্দেশ করছে? উক্ত ধাপের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকে B-কে কেন্দ্র করে গৃহ ব্যবস্থাপনার সবগুলো ধাপ আবর্তিত হয়”— উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানুষের কাজের পেছনের অদৃশ্য চালিকাশক্তি বা অভ্যন্তরীণ যে উদ্দীপনা ব্যক্তিকে লক্ষ্য অর্জনের কাজে অনুপ্রাণিত ও উৎসাহিত করে, তাকে প্রেষণা (Motivation) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মূল্যবোধের ভিত্তিতে মানকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়— ১. প্রচলিত বা চিরাচরিত মান (Conventional Standards) এবং ২. নমনীয় বা পরিবর্তনীয় মান (Flexible Standards)।

    প্রচলিত মান হলো সমাজের দীর্ঘদিনের রীতিনীতি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা মান, যা সাধারণত সহজে পরিবর্তন হয় না। অন্যদিকে, নমনীয় মান ব্যক্তির সুবিধা, পরিস্থিতি ও পরিবর্তিত পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পরিবর্তন করা যায়। এটি মানুষের স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি ও আধুনিক জীবনযাত্রার সাথে বেশি সম্পর্কিত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চক্রটিতে গৃহ ব্যবস্থাপনার ধারাবাহিক ধাপগুলো দেখানো হয়েছে। পরিকল্পনা এবং নির্দেশনার মধ্যবর্তী ধাপ হওয়ায় 'A' চিহ্নিত অংশটি গৃহ ব্যবস্থাপনার 'সংগঠন' (Organizing) ধাপকে নির্দেশ করছে।

    সংগঠন ধাপের গুরুত্ব:
    গৃহ ব্যবস্থাপনায় সংগঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। পরিকল্পনার পর তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় মানবীয় ও বস্তুগত সম্পদের সঠিক সমন্বয় ও বিন্যাস ঘটানোই হলো সংগঠনের কাজ। এর গুরুত্ব নিম্নরূপ:
    ১. কাজের সুষ্ঠু বণ্টন: গৃহের সদস্যদের যোগ্যতা, দক্ষতা ও সময় অনুযায়ী কাজের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া যায়, ফলে কাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় না।
    ২. সম্পদের সঠিক ব্যবহার: সীমিত সম্পদ (সময়, শক্তি ও অর্থ)-এর অপচয় রোধ করে সর্বোচ্চ উপযোগ পাওয়া সম্ভব হয়।
    ৩. লক্ষ্য অর্জন সহজতর করা: পরিবারের সদস্যদের কাজের মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতা গড়ে তুলে পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের পথ সুগম করে।

    অতএব, পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সংগঠনের ভূমিকা অপরিসীম।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্রে চক্রটির কেন্দ্রস্থলে 'B' অবস্থান করছে। গৃহ ব্যবস্থাপনার কেন্দ্রবিন্দু হলো 'লক্ষ্য' (Goal)। সুতরাং, 'B' হলো লক্ষ্য। “উদ্দীপকে B-কে (লক্ষ্যকে) কেন্দ্র করে গৃহ ব্যবস্থাপনার সবগুলো ধাপ আবর্তিত হয়”— উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

    বিশ্লেষণ:
    গৃহ ব্যবস্থাপনা একটি ধারাবাহিক ও চক্রাকার প্রক্রিয়া, যার মূল চালিকাশক্তি হলো লক্ষ্য। লক্ষ্য নির্ধারণ ছাড়া ব্যবস্থাপনার কোনো ধাপই অর্থবহ হতে পারে না।

    ১. সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও পরিকল্পনা: কোনো কাজ করার আগে নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয় এবং কী করা হবে, কখন ও কীভাবে করা হবে তার নীলনকশা বা পরিকল্পনা তৈরি করা হয়।
    ২. সংগঠন ও নির্দেশনা: লক্ষ্য পূরণের জন্যই প্রয়োজনীয় সম্পদ সংগ্রহ ও কাজের বণ্টন (সংগঠন) করা হয় এবং তা যথাযথভাবে সম্পাদনের জন্য সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
    ৩. নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যায়ন: গৃহীত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ লক্ষ্য অর্জনের দিকে এগোচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় করা হয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে। সবশেষে কাজটি লক্ষ্যের কতটা কাছাকাছি পৌঁছাতে পারল, তা মূল্যায়নের মাধ্যমে যাচাই করা হয়।

    পরিশেষে বলা যায়, লক্ষ্যহীন ব্যবস্থাপনা মাঝিবিহীন নৌকার মতো। গৃহ ব্যবস্থাপনার প্রতিটি ধাপ—সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পরিকল্পনা, সংগঠন, নির্দেশনা, নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যায়ন—সবকিছুই লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়। অতএব, উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন