ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন

জনাব শাহেদ আহমদ একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তিনি নিয়মিত সালাত, সাওম আদায় করলেও অর্থ ছাড়া অফিসের ফাইলে সই করেন না। স্থানীয় মসজিদের ইমাম বিষয়টি জানার পর মন্তব্য করলেন, "ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত হলো বৈধ উপার্জন করা।"

  1. ক)

    দেশপ্রেম কী?

    (1)
  2. খ)

    "তারা তোমাদের ভূষণ আর তোমরা তাদের ভূষণ"- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে জনাব শাহেদ আহমদের উপার্জনের স্বরূপ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ইমাম সাহেবের মন্তব্যের যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্বদেশের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা, মায়া-মমতা ও গভীর অনুরাগ প্রদর্শন করাই হলো দেশপ্রেম।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্ধৃত আয়াতটি পবিত্র কুরআনের সূরা বাকারার ১৮৭ নম্বর আয়াতের অংশ। এর অর্থ হলো স্বামী-স্ত্রী একে অপরের পরিচ্ছদ বা আবরণস্বরূপ। পোশাক বা ভূষণ যেমন মানুষের নগ্নতা ও ত্রুটি গোপন করে, সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে এবং শীত-গ্রীষ্মের প্রতিকূলতা থেকে দেহকে সুরক্ষা দেয়; তেমনি স্বামী ও স্ত্রী পরস্পরের যাবতীয় দোষত্রুটি গোপন রেখে একে অপরের মর্যাদা রক্ষা করে, একে অপরকে পাপ থেকে হেফাজত করে এবং পারস্পরিক জীবনে শান্তি ও তৃপ্তি বয়ে আনে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে জনাব শাহেদ আহমদের উপার্জনের স্বরূপটি হলো ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও হারাম 'ঘুষ' গ্রহণের শামিল।

    ইসলামে হালাল পথে জীবিকা অর্জনকে ফরজ করা হয়েছে এবং অবৈধ বা অনৈতিক উপায়ে অর্থ উপার্জন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি তার দায়িত্ব পালনের বিনিময়ে কোনো অন্যায্য অর্থ বা উপঢৌকন দাবি করে বা গ্রহণ করে, তবে তা ঘুষের অন্তর্ভুক্ত। ঘুষ হলো অন্যের হক হরণ এবং একটি জঘন্য সামাজিক অপরাধ।

    উদ্দীপকে জনাব শাহেদ আহমদ একজন সরকারি কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও অর্থ ছাড়া অফিসের ফাইলে সই করেন না। এটি স্পষ্টতই ঘুষ গ্রহণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, "ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা উভয়েই জাহান্নামি" (তিরমিজি)। অতএব, জনাব শাহেদ আহমদের এ ধরনের উপার্জন সম্পূর্ণরূপে হারাম ও গর্হিত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ইমাম সাহেবের মন্তব্য—"ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত হলো বৈধ উপার্জন করা"—সম্পূর্ণ যথার্থ ও কুরআন-হাদিসের আলোকে বাস্তবসম্মত।

    ইসলামি শরিয়তে ইবাদতের গ্রহণযোগ্যতার জন্য আত্মিক ও দৈহিক পবিত্রতার পাশাপাশি উপার্জনের হালাল হওয়া অপরিহার্য। হারাম উপার্জনে গঠিত রক্ত-মাংসের শরীর দ্বারা কৃত কোনো ইবাদত বা দোয়া আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেন, যে দীর্ঘ সফর করে ধুলায় মলিন হয়ে দুই হাত তুলে দোয়া করে—'হে আমার রব! হে আমার রব!' অথচ তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, পোশাক হারাম এবং তার জীবিকা হারাম উপায়ে অর্জিত; অতএব কীভাবে তার দোয়া কবুল হতে পারে? (সহিহ মুসলিম)। অন্য একটি হাদিসে এসেছে, যে দেহ হারাম দ্বারা পুষ্ট, জাহান্নামের আগুনই তার জন্য উত্তম।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব শাহেদ আহমদ নিয়মিত সালাত ও সাওম পালন করেন, কিন্তু তিনি ঘুষ ছাড়া ফাইল সই করেন না। বাহ্যিকভাবে তিনি দ্বীনি অনুশাসন মানলেও তাঁর উপার্জনের উৎস হারাম। ইমাম সাহেব ঠিক এই মৌলিক ইসলামি নীতিটিকেই ইঙ্গিত করেছেন যে, সালাত-সাওম আদায় করলেও যদি উপার্জন হালাল না হয়, তবে সেই ইবাদত কবুল হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

    সুতরাং, উপযুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, ইমাম সাহেবের মন্তব্যটি সম্পূর্ণ সঠিক ও ইসলামি শিক্ষা অনুযায়ী যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন