ভূগোল ২য় পত্র • কৃষি • Combined Board • ঢাকা, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    প্রগাঢ় কৃষি কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    মিশ্র কৃষি একটি বহুমুখী কৃষি পদ্ধতি- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত কৃষিক্ষেত্র 'ক' এর বর্ণনা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত কৃষিক্ষেত্র 'খ'-এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে কৃষি ব্যবস্থায় স্বল্প জমিতে অধিক মূলধন, শ্রম, উন্নত বীজ ও প্রযুক্তি প্রয়োগ করে সর্বাধিক ফলন উৎপাদনের চেষ্টা করা হয়, তাকে প্রগাঢ় কৃষি (Intensive Agriculture) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মিশ্র কৃষি হলো এমন একটি পদ্ধতি যেখানে একই খামারে একই সাথে শস্য উৎপাদনের পাশাপাশি গবাদিপশু পালন, হাঁস-মুরগি প্রতিপালন, দুগ্ধ উৎপাদন কিংবা মৎস্য চাষ করা হয়।

    এ ব্যবস্থায় কৃষক কোনো একক উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল থাকে না; বরং একাধিক খাত থেকে সারা বছর নিয়মিত আয় নিশ্চিত করতে পারে। এছাড়া ফসলের বর্জ্য পশুখাদ্য হিসেবে এবং পশুর বিষ্ঠা বা গোবর জমির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এভাবে বিভিন্নমুখী কর্মকাণ্ডের সমন্বয় ঘটিয়ে পারস্পরিক সুবিধার মাধ্যমে পরিচালিত হয় বলে মিশ্র কৃষিকে একটি বহুমুখী কৃষি পদ্ধতি বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত কৃষিক্ষেত্র 'ক' হলো প্রাণিসম্পদ বা গবাদিপশু পালন খাত, যা থেকে দুধ এবং দুধজাত পণ্য যেমন মাখন, ঘি, পনির ইত্যাদি উৎপাদিত হয়।

    বাংলাদেশের কৃষিক্ষেত্রে প্রাণিসম্পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য একটি উপখাত। এ খাতের প্রধান কাজ হলো গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ইত্যাদি পালন করা।
    ১. দুধ ও দুগ্ধজাত সামগ্রী: গবাদিপশু থেকে প্রাপ্ত দুধ আমাদের প্রাত্যহিক পুষ্টির চাহিদা মেটায় এবং এটি প্রক্রিয়াজাত করে মাখন, ঘি, ছানা, পনির, মিষ্টি ইত্যাদি প্রস্তুত করা হয়।
    ২. মাংস ও প্রোটিনের উৎস: প্রাণিসম্পদ দেশের প্রাণিজ আমিষের প্রধান উৎস হিসেবে মাংস সরবরাহ করে থাকে।
    ৩. চামড়া ও উপজাত: চামড়া শিল্প সম্পূর্ণভাবে এ খাতের ওপর নির্ভরশীল। পশুর হাড়, শিং ইত্যাদিও নানা অর্থনৈতিক কাজে ব্যবহৃত হয়।
    ৪. কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচন: গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর বিপুল অংশের আত্মকর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য দূরীকরণে গবাদিপশু পালন প্রধান অবলম্বন হিসেবে কাজ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত নদী-নালা, খাল ও সাগর থেকে উৎপাদিত দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃষিখাত 'খ' হলো মৎস্য খাত বা মৎস্যসম্পদ। বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও জীবনযাত্রায় এ খাতের গুরুত্ব অপরিসীম।

    নিচে মৎস্য খাতের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. প্রাণিজ আমিষের প্রধান উৎস: আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে প্রাণিজ আমিষের চাহিদার প্রায় ৬০% পূরণ হয় মাছ থেকে।
    ২. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: হিমায়িত চিংড়ি ও বিভিন্ন জাতের মাছ বিদেশে রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে।
    ৩. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: দেশের উপকূলীয় ও নদীমাতৃক অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষ মাছ ধরা, মাছ চাষ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনের সাথে যুক্ত থেকে জীবিকা নির্বাহ করে।
    ৪. জিডিপিতে অবদান: বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এবং সার্বিক কৃষি আয়ে মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
    ৫. দারিদ্র্য দূরীকরণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন: আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের মাধ্যমে গ্রামীণ বেকার যুবসমাজের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে মজবুত করছে।

    সুতরাং, পুষ্টির নিরাপত্তা বিধান, কর্মসংস্থান তৈরি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষিক্ষেত্র 'খ' তথা মৎস্য খাতের গুরুত্ব অপরিসীম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন