গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

সাফা ঈদ উপলক্ষ্যে কেনাকাটার জন্য বাজারে একটি নামকরা দোকানে থেকে শাড়ি কিনতে গেলেন। সেখানে তিনি রেশম পোকা থেকে প্রস্তুতকৃত শাড়ি কিনলেন। দোকানে তিনি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর তৈরি 'পিনোন খাদি' ও 'প্রাংহং' নামক অনেক সুন্দর সুন্দর পোশাক দেখতে পেলেন।

  1. ক)

    বেইন কী?

    (1)
  2. খ)

    বেনারসি শাড়ির পরিবর্তিত রূপ কাতান— বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে সাফার ক্রয়কৃত শাড়ির উৎপাদন কৌশল ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত পোশাক দুইটি কোন কোন সম্প্রদায়কে নির্দেশ করছে? তাদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বেইন হলো পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের (যেমন চাকমাদের) ব্যবহৃত ঐতিহ্যবাহী কোমর তাঁত (Backstrap loom)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বেনারসি ও কাতান মূলত একই গোত্রীয় ঐতিহ্যবাহী রেশমি বস্ত্র। বেনারসি শাড়িতে সাধারণত অত্যন্ত ঘন ও ভারী জরি এবং সুতার নকশা বা বুটা ফুটিয়ে তোলা হয়। কিন্তু আধুনিক যুগে রুচির পরিবর্তন ও ব্যবহারের সুবিধার জন্য বেনারসি শাড়ির বুননরীতিতে পরিবর্তন এনে তুলনামূলক মসৃণ ও কম ঘন কাজের শাড়ি তৈরি শুরু হয়, যা 'কাতান' নামে পরিচিত। কাতান তৈরিতে পেঁচানো বা পাকানো রেশমি সুতা ব্যবহার করা হয় এবং এর জমিন সাধারণত মসৃণ ও নকশা অপেক্ষাকৃত হালকা বা ভিন্নধর্মী হয়। তাই কাতানকে বেনারসি শাড়ির এক আধুনিক ও পরিবর্তিত রূপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সাফার ক্রয়কৃত শাড়িটি হলো রেশম পোকা থেকে প্রস্তুতকৃত রেশমি বা সিল্ক শাড়ি। নিচে এর উৎপাদন কৌশল ব্যাখ্যা করা হলো:

    ১. রেশম চাষ (Sericulture): রেশম মথ ডিম পাড়ার পর ডিম ফুটে পলু বা শুঁয়োপোকা বের হয়। এগুলো তুত গাছের পাতা খেয়ে বড় হয়। পূর্ণাঙ্গ শুঁয়োপোকা মুখ থেকে লালা নিঃসৃত করে নিজের চারদিকে আবরণ বা গুটি (কোকুন) তৈরি করে।

    ২. স্টিফলিং ও রিলিং: কোকুন সংগ্রহের পর গরম পানিতে ফুটিয়ে বা উত্তপ্ত বাতাসে ভেতরকার পোকাকে মেরে ফেলা হয় (স্টিফলিং), যাতে কোকুন কেটে সুতা নষ্ট না হয়। এরপর গরম পানিতে ভিজিয়ে আঠালো পদার্থ নরম করে চরকার সাহায্যে সূক্ষ্ম রেশম তন্তু বা সুতা টেনে বের করা হয় (রিলিং)।

    ৩. সুতা পাকানো ও পরিষ্কারকরণ: কয়েকটি তন্তু একসঙ্গে পেঁচিয়ে প্রয়োজনীয় ঘনত্বের সুতা তৈরি করা হয় এবং অবশিষ্ট আঠা দূর করতে সাবান-পানিতে সিদ্ধ করা হয়।

    ৪. বুনন ও ফিনিশিং: প্রস্তুতকৃত সুতা ডায়িং বা রং করে তাঁতে স্থাপন করা হয় এবং নিপুণ দক্ষতায় বিভিন্ন ডিজাইন ও নকশায় রেশমি শাড়ি বোনা হয়। এভাবে জটিল ও সূক্ষ্ম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাফার ক্রয়কৃত রেশম শাড়ি প্রস্তুত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত পোশাক দুইটির মধ্যে 'পিনোন খাদি' চাকমা সম্প্রদায়কে এবং 'প্রাংহং' মারমা সম্প্রদায়কে নির্দেশ করছে। নিচে এদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:

    ১. পোশাকের উপাদান ও পরিধানরীতি:

    • চাকমাদের পোশাক: চাকমা নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক দুটি অংশে বিভক্ত— নিচের অংশের নাম 'পিনোন' এবং ওপরের অংশে বক্ষবন্ধনী হিসেবে ব্যবহৃত চাদরসদৃশ বস্ত্রের নাম 'হাদি' বা 'খাদি'।
    • মারমাদের পোশাক: মারমা নারীদের পোশাকও সাধারণত দুই ভাগে বিভক্ত— নিচের অংশে তারা পরে লুঙ্গিসদৃশ 'থামি' এবং উপরের অংশে পরিধান করে ব্লাউজ ও বিশেষ ওড়না বা চাদর, যাকে 'প্রাংহং' বা 'ফাংহং' বলা হয়।

    ২. বুনন কৌশল ও নকশা:

    • চাকমা নারীরা তাদের নিজস্ব কোমর তাঁত বা 'বেইন'-এ পিনোন ও খাদি বুনে থাকেন। এর নকশার জন্য তারা 'আলম' নামক বিশেষ নকশার ক্যাটালগ অনুসরণ করেন। এদের নকশায় সাধারণত লাল, কালো ও নীল রঙের প্রাধান্য দেখা যায় এবং প্রান্তভাগে উজ্জ্বল সুতার কাজ থাকে।
    • অন্যদিকে, মারমারাও নিজস্ব তাঁতে কাপড় বুনে থাকেন, তবে মারমা নারীদের প্রাংহং ও থামিতে অপেক্ষাকৃত উজ্জ্বল রঙের ফুল, লতাপাতা ও জ্যামিতিক নকশা সূক্ষ্মভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়।

    ৩. সাংস্কৃতিক পরিচয়:

    • পিনোন-খাদি চাকমা সংস্কৃতির একটি প্রধান প্রতীক, যা তাদের জাতিগত স্বকীয়তা প্রকাশ করে।
    • একইভাবে, প্রাংহং মারমা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটায়।

    সুতরাং, দুটি পোশাকই পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সমৃদ্ধ বস্ত্রশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির ধারক হলেও সম্প্রদায়ভিত্তিক নকশা, ব্যবহার ও রূপবৈচিত্র্যে এদের মাঝে স্পষ্ট স্বাতন্ত্র্য রয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন