ভূগোল ১ম পত্র • পৃথিবীর গঠন • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১

ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    পর্বত কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    স্তূপ পর্বত কী?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে 'গ' চিহ্নিত পর্বতের বর্ণনা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে 'ক' ও 'খ’ চিহ্নিত পর্বতের পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাধারণত ১,০০০ মিটারের বেশি উচ্চতাবিশিষ্ট খাড়া ঢালযুক্ত ও সুউচ্চ শিলাস্তূপকে পর্বত বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভূ-আলোড়নের সময় ভূত্বকের শিলাস্তরে সংকোচন ও প্রসারণের ফলে চ্যুতি বা ফাটলের সৃষ্টি হয়। এই চ্যুতিরেখার দুই পাশের অংশ নিচে বসে গিয়ে মাঝের অংশ স্তূপের মতো উপরে উঠে যে পর্বত গঠিত হয় অথবা মাঝের অংশ স্থিতিশীল থেকে দু'পাশ নিচে বসে গিয়ে যে পর্বতের সৃষ্টি হয়, তাকে স্তূপ পর্বত (Block Mountain) বলে। যেমন— ভারতের বিন্ধ্য ও সাতপুরা পর্বত, জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট পর্বত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'গ' চিহ্নিত পর্বতটি হলো ল্যাকোলিথ পর্বত (বা গম্বুজ পর্বত)।

    বর্ণনা:
    ১. উৎপত্তি: ভূ-অভ্যন্তর থেকে গলিত ম্যাগমা প্রবল চাপে ভূত্বকের বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু কোনো কারণে তা বাইরে বের হতে না পেরে ভূতকের নিচে জমা হয়ে জমাট বাঁধে। ফলে ওপরের শিলাস্তরটি গম্বুজের মতো ফুলে উঠে পর্বতের আকার ধারণ করে।
    ২. আকৃতি: এ ধরনের পর্বত দেখতে মূলত গম্বুজ বা উত্তল মোচাকার আকৃতির হয়ে থাকে।
    ৩. বৈশিষ্ট্য: ল্যাকোলিথ পর্বতের কোনো সুস্পষ্ট জ্বালামুখ থাকে না এবং এই পর্বতের শিলা সাধারণত আগ্নেয় শিলা (যেমন- গ্রানাইট) দ্বারা গঠিত হয়।
    ৪. উদাহরণ: যুক্তরাষ্ট্রের হেনরি পর্বতমালা ল্যাকোলিথ পর্বতের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত পর্বতটি হলো ভঙ্গিল পর্বত (Fold Mountain) এবং 'খ' চিহ্নিত পর্বতটি হলো আগ্নেয় বা সঞ্চয়জাত পর্বত (Volcanic Mountain)। নিচে এদের মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. উৎপত্তির কারণ: ভঙ্গিল পর্বত ভূ-অভ্যন্তরের পার্শ্বচাপ ও সংনমনের ফলে পলল শিলাস্তরে ভাঁজ সৃষ্টি হয়ে গঠিত হয়। অন্যদিকে, আগ্নেয় পর্বত ভূ-অভ্যন্তরের ম্যাগমা, ছাই, লাভা ইত্যাদি আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ দিয়ে বাইরে বেরিয়ে এসে স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়ে গঠিত হয়।

    ২. শিলার প্রকৃতি: ভঙ্গিল পর্বত প্রধানত পাললিক শিলা দ্বারা গঠিত এবং এর স্তরে স্তরে ভাঁজ দেখা যায়। অন্যদিকে, আগ্নেয় পর্বত প্রধানত বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয় শিলা (যেমন ব্যাসাল্ট, অ্যান্ডেসাইট) দ্বারা গঠিত।

    ৩. শিখর বা শৃঙ্গ: ভঙ্গিল পর্বত সাধারণত সুবিশাল ও একাধিক শৃঙ্গযুক্ত হয় এবং এদের বিস্তার বিশাল অঞ্চলজুড়ে হয়ে থাকে। অপরদিকে, আগ্নেয় পর্বত সাধারণত একক বা মোচাকৃতির শৃঙ্গবিশিষ্ট হয় এবং এর শীর্ষে একটি জ্বালামুখ থাকে।

    ৪. জীবাশ্মের উপস্থিতি: পাললিক শিলা দ্বারা গঠিত হওয়ায় ভঙ্গিল পর্বতে জীবাশ্মের উপস্থিতি দেখা যায়। পক্ষান্তরে, আগ্নেয় পর্বত অগ্ন্যুৎপাতের মাধ্যমে সৃষ্ট হওয়ায় এতে কোনো জীবাশ্ম থাকে না।

    ৫. উদাহরণ: ভঙ্গিল পর্বতের উদাহরণ হলো হিমালয়, রকি, আন্দিজ ও আল্পস পর্বতমালা। অপরদিকে আগ্নেয় পর্বতের উদাহরণ হলো ইতালির ভিসুভিয়াস, জাপানের ফুজিয়ামা ইত্যাদি।

    অতএব, গঠনপ্রক্রিয়া, উপাদান এবং বাহ্যিক রূপের দিক থেকে 'ক' (ভঙ্গিল) ও 'খ' (আগ্নেয়) পর্বত একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন