ভূগোল ১ম পত্র • সমুদ্রস্রোত ও জোয়ার-ভাটা • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১

ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    জোয়ার ভাটা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    মুখ্য জোয়ার বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনাটির কারণ বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনাটির কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে কী প্রভাব ফেলে তা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষীয় আকর্ষণ এবং পৃথিবীর আবর্তনজনিত কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাবে সমুদ্র ও নদীর জলরাশির প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় অন্তর নিয়মিতভাবে ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চন্দ্র ও সূর্যের প্রত্যক্ষ মহাকর্ষ বলের প্রভাবে যে জোয়ার সংঘটিত হয়, তাকে মুখ্য জোয়ার বা প্রত্যক্ষ জোয়ার বলে। চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে আবর্তনকালে ভূ-পৃষ্ঠের যে অংশ চন্দ্রের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়, সেখানে চন্দ্রের মহাকর্ষীয় আকর্ষণ সর্বাধিক কার্যকর হয়। ফলে সেখানকার জলরাশি প্রবলভাবে ফুলে উঠে মুখ্য জোয়ারের সৃষ্টি করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্রে জোয়ার-ভাটার ঘটনাকে নির্দেশ করা হয়েছে (নিয়মিত বিরতিতে জলতলের হ্রাস-বৃদ্ধি)। জোয়ার-ভাটা সৃষ্টির প্রধান কারণগুলো নিচে বর্ণনা করা হলো:

    ১. মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব: মহাকর্ষ সূত্র অনুযায়ী প্রতিটি বস্তু একে অপরকে আকর্ষণ করে। সূর্য চন্দ্রের তুলনায় অনেক বড় হলেও পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব অনেক বেশি হওয়ায় সমুদ্রজলের ওপর চন্দ্রের আকর্ষণ বল সূর্যের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি কার্যকর হয়। ফলে চন্দ্রের আকর্ষণে চন্দ্রের দিকে অবস্থিত জলরাশি ফুলে উঠে জোয়ারের সৃষ্টি করে।

    ২. কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাব: পৃথিবী নিজের মেরুদণ্ডের চারদিকে অবিরাম আবর্তনের ফলে একটি অপকেন্দ্র বা কেন্দ্রাতিগ শক্তির সৃষ্টি হয়। এই কেন্দ্রাতিগ শক্তির কারণে পৃথিবীর বিপরীত পৃষ্ঠে চাঁদের মহাকর্ষ বল নিষ্ক্রিয় হয়ে জলরাশি বাইরের দিকে ছিটকে পড়তে চায়, যা গৌণ জোয়ারের সৃষ্টি করে।

    ৩. সূর্য ও চন্দ্রের অবস্থানগত কারণ: অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী প্রায় একই সরলরেখায় অবস্থান করলে তেজকটাল বা ভরা কটাল হয়। আবার অষ্টমী তিথিতে তারা পরস্পর সমকোণে অবস্থান করলে মরা কটাল সৃষ্টি হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত ঘটনাটি হলো সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক, ভৌগোলিক ও পরিবেশগত ক্ষেত্রে জোয়ার-ভাটার গভীর প্রভাব রয়েছে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. নৌ-চলাচল ও বন্দর পরিচালনা: জোয়ারের সময় নদ-নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পায়, ফলে চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দরে এবং অভ্যন্তরীণ নদীপথে গভীর ড্রাফটের বড় বড় জাহাজ সহজে প্রবেশ করতে পারে। আবার ভাটার সময় জাহাজগুলো বহির্নোঙরে অবস্থান করে বা সাগরের দিকে নিরাপদে চলে যায়।

    ২. লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ: শুষ্ক মৌসুমে উজানের মিঠা পানির প্রবাহ হ্রাস পেলে জোয়ারের পানির সাথে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি উপকূলীয় অঞ্চলের নদীনালা এবং কৃষিজমিতে প্রবেশ করে। এতে মাটির উর্বরতা নষ্ট হয় এবং খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়।

    ৩. ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের বিকাশ: সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র সরাসরি জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভরশীল। দিনে দুবার জোয়ারের পানি প্লাবিত হওয়ার ফলে সুন্দরবনের উদ্ভিদ ও প্রাণী বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা ও পুষ্টি উপাদান পায়।

    ৪. কৃষি ও চিংড়ি চাষ: উপকূলীয় অঞ্চলে জোয়ারের নোনা পানি আটকে লবণ উৎপাদন এবং বাগদা চিংড়ি ঘের পরিচালনা করা হয়। তবে প্রবল জোয়ারের ফলে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ ভেঙে গিয়ে ফসলি জমি প্লাবিত হয়ে মারাত্মক ক্ষতিসাধনও করে।

    ৫. নদীভাঙন ও পলি সঞ্চয়ন: জোয়ারের প্রবল স্রোতে নদী অববাহিকায় পলি অপসারিত হয়ে মোহনা পরিষ্কার থাকে, আবার ভাটার সময় ভাঙন ত্বরান্বিত হয়।

    পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা, জীবিকা এবং পরিবেশের ওপর জোয়ার-ভাটার ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় ধরনের গভীর প্রভাব রয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন