সমাজকর্ম ২য় পত্র • সমাজকর্ম অনুশীলন ও মাঠকর্ম • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০১৭
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
অস্ট্রেলিয়ায় সমাজকর্ম পেশা হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। সে কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ৪ বছর স্নাতক ও ২ বছরের স্নাতকোত্তর কোর্স চালু আছে। এই কোর্সগুলো অধ্যয়ন শেষে অবশ্যই শিক্ষার্থীদের বাস্তবক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য কমপক্ষে ২টি কর্মক্ষেত্রে ৯৮০ ঘণ্টা কাজ করতে হবে। কর্মক্ষেত্র হিসাবে ব্যক্তি, পরিবার, সমষ্টি, আদিবাসী, নারী-পুরুষ, প্রবীণ হতে পারে। তাদের সমস্যা চিহ্নিত, সমস্যা সমাধানের জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন, তদারকি, পর্যালোচনা, মূল্যায়ন ও সমাপ্তি করে প্রতিবেদন প্রদান করতে হয়। তার উপর ভিত্তি করেই তাকে সমাজকর্মী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- ক)(1)
কেস কী?
- খ)(2)
সমাজকর্মে ব্যক্তির সমস্যা সমাধানে গোপনীয়তার নীতি কেন অপরিহার্য?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত শিক্ষার্থীর কর্মক্ষেত্রের কাজের সাথে বাংলাদেশের কোন শিক্ষার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সাহায্যার্থীর সমস্যা সমাধানে অস্ট্রেলিয়ার একজন শিক্ষার্থী কি কেস ম্যানেজমেন্টের সব ধাপ অনুসরণ করেছে? উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজকর্মে 'কেস' (Case) বলতে সমস্যাগ্রস্ত কোনো ব্যক্তি, পরিবার, দল বা পরিস্থিতিকে বোঝায় যা সমাধানের জন্য সমাজকর্মীর নিকট আসে বা যার সমাধানের দায়িত্ব সমাজকর্মী গ্রহণ করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গোপনীয়তার নীতি হলো সাহায্যার্থীর ব্যক্তিগত ও সমস্যা সম্পর্কিত সকল তথ্য বিশ্বস্ততার সাথে গোপন রাখা। সাহায্যার্থী যেন নিঃসঙ্কোচে সমাজকর্মীর কাছে তার গভীর ও স্পর্শকাতর সমস্যা প্রকাশ করতে পারে এবং তাদের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক বা র্যাপো (Rapport) গড়ে ওঠে, সেজন্য গোপনীয়তার নীতি অপরিহার্য। এটি লঙ্ঘিত হলে সাহায্যার্থী সঠিক তথ্য লুকিয়ে রাখতে পারে, যা কার্যকর সমস্যা সমাধানে বিঘ্ন ঘটায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত শিক্ষার্থীর বাস্তবক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জনের কাজের সাথে বাংলাদেশের সমাজকর্ম শিক্ষার 'মাঠকর্ম' (Field Work) বা ব্যবহারিক সমাজকর্মের সাদৃশ্য রয়েছে।
সমাজকর্ম শিক্ষায় তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব কর্মক্ষেত্রে সেই জ্ঞানের প্রয়োগ ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য মাঠকর্ম একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে সমাজকর্মের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক সংস্থায় নির্দিষ্ট সময় (সাধারণত ৬০ দিন বা নির্দিষ্ট ঘণ্টা) বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য কাজ করতে হয়।
উদ্দীপকে অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক কোর্স শেষে কমপক্ষে ২টি কর্মক্ষেত্রে ৯৮০ ঘণ্টা কাজ করতে হয় এবং সমস্যা চিহ্নিতকরণ থেকে শুরু করে প্রতিবেদন পেশ করতে হয়। বাংলাদেশের সমাজকর্ম শিক্ষাতেও শিক্ষার্থীদের হাসপাতাল, সংশোধনমূলক প্রতিষ্ঠান, বস্তি উন্নয়ন প্রকল্প বা এনজিওতে গিয়ে সমস্যা চিহ্নিত করে কেস রিপোর্ট জমা দিতে হয়। সুতরাং, উদ্দীপকের কাজের সাথে বাংলাদেশের সমাজকর্ম শিক্ষার ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ বা মাঠকর্মের প্রত্যক্ষ সাদৃশ্য রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, সাহায্যার্থীর সমস্যা সমাধানে অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষার্থী কেস ম্যানেজমেন্টের সকল মৌলিক ধাপ অনুসরণ করেছে। উদ্দীপকটি বিশ্লেষণ করলে এর সত্যতা স্পষ্ট হয়।
কেস ম্যানেজমেন্টের প্রধান ধাপগুলো হলো: ১. প্রাথমিক যোগাযোগ ও সম্পর্ক স্থাপন, ২. সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও তথ্য সংগ্রহ (Assessment), ৩. পরিকল্পনা প্রণয়ন (Planning), ৪. পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বা সেবা প্রদান (Implementation), ৫. তদারকি বা সমন্বয় সাধন (Monitoring), ৬. পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন (Evaluation), এবং ৭. সেবা সমাপ্তি (Termination) ও ফলোআপ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষার্থীরা বাস্তবক্ষেত্রে কাজের অংশ হিসেবে বিভিন্ন ধরনের সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির 'সমস্যা চিহ্নিতকরণ', 'সমস্যা সমাধানের জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন', 'বাস্তবায়ন', 'তদারকি', 'পর্যালোচনা', 'মূল্যায়ন ও সমাপ্তি' করে প্রতিবেদন পেশ করে। এই প্রতিটি কাজই কেস ম্যানেজমেন্ট প্রক্রিয়ার স্বীকৃত ধারাবাহিক ধাপগুলোকে হুবহু নির্দেশ করে।
অতএব, উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে বলা যায় যে, অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষার্থী সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে কেস ম্যানেজমেন্টের নির্ধারিত ও বিজ্ঞানসম্মত প্রতিটি ধাপ যথাযথভাবে অনুসরণ করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও