ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
নাফিসা একটি নির্দিষ্ট মাসে সপরিবারে সুবহি সাদিক হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত একটি ইবাদাত পালন করে। তার পিতা বছর শেষে সম্পদের এক নির্দিষ্ট পরিমাণ বিশেষ আটটি খাতের এক বা একাধিক খাতে ব্যয় করেন।
- ক)(1)
ইমানের শাখা কয়টি?
- খ)(2)
হজ বিশ্বভ্রাতৃত্ব সৃষ্টি করে।" - ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
নাফিসাদের পালন করা ইবাদাত কী? ব্যাখ্যা কর ।
- ঘ)(4)
নাফিসার পিতা কী ব্যয় করেন? ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূরীকরণে সেটির ভূমিকা আলোচনা কর ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হাদিস শরিফ অনুযায়ী ইমানের শাখা সত্তরেরও অধিক (মতান্তরে ৭৭টি)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হজ হলো বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মেলন, যা মুসলমানদের মধ্যে বিশ্বভ্রাতৃত্ব সৃষ্টি করে।
হজের সময় প্রতি বছর বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে বর্ণ, ভাষা, দেশ ও সংস্কৃতির পার্থক্য ভুলে লাখ লাখ মুসলমান একই উদ্দেশ্যে একই পোশাকে (ইহরাম) পবিত্র মক্কায় সমবেত হন। সেখানে তাদের মুখে একই ধ্বনি উচ্চারিত হয়—‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’। ধনী-গরিব ও সাদা-কালোর সব ব্যবধান ভুলে সবাই এক হয়ে মহান আল্লাহর দরবারে নিজেদের সমর্পণ করে, যা মুসলমানদের মধ্যে সীমানাহীন এক গভীর ভ্রাতৃত্ববোধ ও ঐক্যের শিক্ষা দেয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নাফিসাদের পালন করা ইবাদাতটি হলো ‘সাওম’ বা রোজা।
ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায়, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিয়ত সহকারে পানাহার ও ইন্দ্রিয়তৃপ্তি থেকে বিরত থাকাকে সাওম বলা হয়। মাহে রমজান মাসে প্রাপ্তবয়স্ক ও সক্ষম প্রত্যেক মুসলমানের ওপর পুরো এক মাস রোজা রাখা ফরজ। উদ্দীপকে নাফিসা ও তার পরিবার একটি নির্দিষ্ট মাসে (রমজান মাসে) সুবহে সাদিক হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত যে বিশেষ ইবাদাত পালন করে, তা হুবহু সাওমের বিধানকে নির্দেশ করে। এটি আত্মসংযম ও তাকওয়া অর্জনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নাফিসার পিতা যে অর্থ ব্যয় করেন তা হলো ‘যাকাত’। ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূরীকরণে যাকাতের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম হলো যাকাত। নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিকদের জন্য বছর শেষে নির্ধারিত শতকরা আড়াই ভাগ (২.৫%) হারে সম্পদ কুরআনে বর্ণিত আটটি নির্দিষ্ট খাতে বণ্টন করা ফরজ। উদ্দীপকে নাফিসার পিতার বছর শেষে আটটি খাতের কোনো এক বা একাধিক খাতে সম্পদ প্রদানের ঘটনাটি যাকাত আদায়কে স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে।
ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূরীকরণে যাকাতের ভূমিকা নিচে আলোচনা করা হলো:
১. সম্পদের সুষম বণ্টন: সমাজে সম্পদ যাতে কেবল ধনীদের মধ্যেই আবর্তিত না থাকে, সেজন্য যাকাত বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে ধনীদের পুঞ্জীভূত সম্পদ দরিদ্রদের মাঝে প্রবাহিত হয়।
২. দারিদ্র্য বিমোচন: দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠী যাকাতের অর্থ দিয়ে নিজেদের স্বাবলম্বী করতে পারে, যা ক্রমান্বয়ে তাদের দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করে।
৩. সামাজিক সৌহার্দ্য: যাকাত প্রদানের ফলে ধনীদের প্রতি দরিদ্রদের ক্ষোভ ও ঈর্ষা হ্রাস পায় এবং তাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সহানুভূতি গড়ে ওঠে।অতএব, যথাযথভাবে যাকাত বাস্তবায়ন করলে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার ব্যবধান কমে এসে একটি সাম্যবাদী ও মানবিক সমাজ গড়ে ওঠে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও