ভূগোল ২য় পত্র • শিল্প • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
শিল্পের স্থানীয়করণ কাকে বলে?
- খ)(2)
শিল্প প্রসারে মূলধনের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'ক' শিল্প গড়ে ওঠার কারণসমূহ বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে 'খ' শিল্পের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটায়- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক ও অন্যান্য অনুকূল সুবিধার ওপর ভিত্তি করে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে এক বা একাধিক বিশেষ শিল্পের কেন্দ্রীভূত হওয়াকে শিল্পের স্থানীয়করণ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শিল্প প্রসারে মূলধনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জমি ক্রয়, কারখানার অবকাঠামো নির্মাণ, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল ক্রয় এবং শ্রমিকদের মজুরি প্রদানের জন্য প্রচুর মূলধনের প্রয়োজন হয়। পর্যাপ্ত মূলধন ছাড়া শিল্প স্থাপন ও এর ধারাবাহিক উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব নয়। দেশে ব্যাংকিং সুবিধা, বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং সরকারি-বেসরকারি আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে মূলধন সরবরাহ নিশ্চিত হলে দ্রুত শিল্প বিস্তার লাভ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' শিল্পটি কৃষি জমির উর্বরতা বাড়ানোর কাজে ব্যবহৃত হয়, যা সার শিল্পকে নির্দেশ করে।
বাংলাদেশে সার শিল্প গড়ে ওঠার প্রধান কারণসমূহ নিচে বর্ণনা করা হলো:
১. কাঁচামালের সহজলভ্যতা: ইউরিয়া সার উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল হলো প্রাকৃতিক গ্যাস। বাংলাদেশে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত থাকায় এবং বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্র (যেমন: তিতাস, বাখরাবাদ ইত্যাদি) নিকটবর্তী হওয়ায় সার কারখানা স্থাপন সহজ হয়েছে।
২. সারের ব্যাপক অভ্যন্তরীণ চাহিদা: বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। কৃষিজমির উর্বরতা রক্ষা ও খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য দেশে রাসায়নিক সারের বিপুল চাহিদা রয়েছে, যা সার শিল্পের বিকাশকে উৎসাহিত করেছে।
৩. বিদ্যুৎ ও পানির প্রাপ্যতা: সার উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং নদীভিত্তিক পর্যাপ্ত পানির সহজলভ্যতা কারখানা স্থাপনে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।
৪. সরকারি নীতি ও প্রণোদনা: কৃষিক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে সরকার সরকারি খাতে সার কারখানা স্থাপন এবং ভর্তুকি প্রদানসহ নানাভাবে সার শিল্পকে উৎসাহিত করেছে।অতএব, কাঁচামালের প্রাচুর্য ও উচ্চ চাহিদার কারণেই বাংলাদেশে 'ক' অর্থাৎ সার শিল্প গড়ে উঠেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' শিল্পে অধিক নারী শ্রমিক নিয়োজিত, যা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে (গার্মেন্টস শিল্প) নির্দেশ করে। এই পোশাক শিল্পের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নতিতে চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখছে।
পোশাক শিল্পের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য যেভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটায়:
১. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ (প্রায় ৮০%-এর বেশি) আসে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পোশাক রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করে।
২. ব্যাপক কর্মসংস্থান ও নারী ক্ষমতায়ন: এ শিল্পে প্রায় ৪০ লক্ষাধিক শ্রমিক প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত, যার প্রায় ৮০ শতাংশই নারী। আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদার কারণে গ্রামীণ নারীদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা দারিদ্র্য বিমোচন ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে সরাসরি ভূমিকা রাখছে।
৩. লিংকেজ শিল্পের বিকাশ: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পোশাক শিল্পের প্রসারের ফলে সুতা তৈরি, বোতাম, জিপার, প্যাকেজিং, পরিবহন এবং ব্যাংকিং ও বিমা খাতের মতো সহায়ক শিল্পগুলোর ব্যাপক প্রসার ঘটেছে।
৪. জাতীয় আয় ও জিডিপি প্রবৃদ্ধি: তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে প্রাপ্ত আয় দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বৃদ্ধি করে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে।পরিশেষে বলা যায়, তৈরি পোশাক শিল্পের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়িয়ে এবং শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারিত করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতিতে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও