ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
ড. আসিফুল্লাহ বলেন, 'মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিষ্টান যাই বলা হোক না কেন আদি পিতা-মাতার দিক থেকে এক অনন্য বন্ধনে আমরা সবাই আবদ্ধ। এটা এক প্রকা: রক্তের বন্ধন ও বটে। আমরা একে অপরের সহযোগিতায় নিমগ্ন থাকলে অধিকতর শান্তি নিরাপত্তা ও উন্নতির সোপানে আরোহণ করতে পারব'।তাঁর বক্তব্য শুনে ড. আমিন বলেন, 'মানুষ মাত্রই একটি সুনির্দিষ্ট অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। তাই শুধু পারস্পরিক সহযোগিতা নয়, বরং কোনো মানুষের জান-মাল, ইজ্জত-আবা যেন কারো দ্বারা কোনোভাবে বিঘ্নিত না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত'।
- ক)(1)
مُبلغ )মুবাল্লিগ) শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
দীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই' ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
ড. আসিফুল্লাহর বক্তব্যে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়টি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ড. আমিন যে বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন তা সংরক্ষণে ইসলামের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'মুবাল্লিগ' (مُبَلِّغ) শব্দের অর্থ ধর্মপ্রচারক বা যিনি বাণী/বার্তা পৌঁছে দেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'দীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই'—এটি পবিত্র কুরআনের সুরা আল-বাকারার ২৫৬ নম্বর আয়াতের অংশ। এর অর্থ হলো ধর্ম বা বিশ্বাস সম্পূর্ণ আন্তরিকতার বিষয়; কাউকে জোরপূর্বক বা বলপ্রয়োগ করে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা যাবে না। ইসলামে সত্য ও মিথ্যার পথ স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে, ফলে মানুষ তার নিজস্ব বিবেক-বুদ্ধি খাটিয়ে স্বেচ্ছায় সত্য দীন গ্রহণ করবে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ড. আসিফুল্লাহর বক্তব্যে পাঠ্যবইয়ের 'বিশ্বভ্রাতৃত্ব' বা 'মানবভ্রাতৃত্ব' (Universal Brotherhood) বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
ইসলামের দৃষ্টিতে সমগ্র মানবজাতি এক আদি পিতা হজরত আদম (আ.) ও মা হাওয়া (আ.)-এর বংশধর। ফলে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ মৌলিকভাবে ভাই ভাই এবং রক্তের বন্ধনে আবদ্ধ। মহান আল্লাহ সুরা আল-হুজুরাতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি মানুষকে বিভিন্ন সম্প্রদায় ও গোত্রে বিভক্ত করেছেন যাতে তারা পরস্পরের পরিচয় লাভ করতে পারে। উদ্দীপকে ড. আসিফুল্লাহ মানুষের আদি পিতা-মাতার বন্ধন এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে শান্তি ও উন্নতি নিশ্চিত করার যে আহ্বান জানিয়েছেন, তা ইসলামের সার্বজনীন মানবভ্রাতৃত্বের শিক্ষারই প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ড. আমিন মানুষের জন্মগত মৌলিক অধিকার তথা জান, মাল ও ইজ্জত-আব্রুর সুরক্ষার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, যা ইসলামের মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃত।
ইসলাম মানুষের মৌলিক মানবাধিকার সংরক্ষণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করেছে। নিচে এ বিষয়ে ইসলামের ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. জীবনের নিরাপত্তা (জান রক্ষা): ইসলাম অন্যায়ভাবে কোনো মানুষকে হত্যা করা সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করার সমতুল্য ঘোষণা করেছে (সুরা মায়িদা: ৩২)।
২. সম্পদের নিরাপত্তা (মাল রক্ষা): ইসলামে চুরি, ছিনতাই, আত্মসাৎ ও সুদ-ঘুষকে সম্পূর্ণ হারাম করা হয়েছে এবং অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
৩. সম্মান ও মর্যাদার নিরাপত্তা (ইজ্জত-আব্রু রক্ষা): গিবত, পরনিন্দা, মিথ্যা অপবাদ এবং উপহাস করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। কারো ইজ্জতহানি করাকে কবিরা গুনাহ হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে।
৪. বিদায় হজের ঘোষণা: মহানবী (সা.) বিদায় হজের ভাষণে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, 'নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত, তোমাদের ধন-সম্পদ এবং তোমাদের সম্মান তোমাদের পরস্পরের জন্য পবিত্র ও অলঙ্ঘনীয়।'
সুতরাং, ড. আমিনের বক্তব্যের আলোকে বলা যায়, ইসলাম ব্যক্তি ও সমাজের শান্তি রক্ষায় মানবাধিকার ও জান-মাল-ইজ্জতের সুরক্ষা পুরোপুরি নিশ্চিত করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও