পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য • নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ • নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
জাহেদা একটি বেসরকারী সংস্থায় চাকরী করেন। সংস্থাটিতে পুরুষ সদস্যদের তুলনায় নারী সদস্যদের কম মজুরি প্রদান করা হয়। জাহেদা প্রতিবাদ করলে মালিক পক্ষ তাকে ছাঁটাই করার ভীতি প্রদর্শন করে।
- ক)(1)
তথ্য অধিকার আইন কী?
- খ)(2)
মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকারের মধ্যে পার্থক্য ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে জাহেদাকে কোন ধরনের সাম্য থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত সাম্যের অভাবে সমাজে কী ধরনের প্রভাব পড়বে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনসাধারণের যেকোনো সরকারি বা বিধিবদ্ধ সংস্থার কাজের তথ্য জানার এবং সংস্থা কর্তৃক তা প্রদানে বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার জন্য প্রণীত আইনকে তথ্য অধিকার আইন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকারের প্রধান পার্থক্য হলো এদের স্বীকৃতি ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে।
মানবাধিকার হলো প্রতিটি মানুষের জন্মগত ও সার্বজনীন অধিকার, যা জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বের সব মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য (যেমন- বেঁচে থাকার অধিকার)। অন্যদিকে, যে সকল মানবাধিকার দেশের সংবিধান কর্তৃক সুরক্ষিত ও স্বীকৃত হয়, সেগুলোকে মৌলিক অধিকার বলা হয়। মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে আদালতের মাধ্যমে তা বলবৎ করার সাংবিধানিক সুযোগ থাকে, কিন্তু সকল মানবাধিকারের ক্ষেত্রে এই আইনগত বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত থাকে না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জাহেদাকে 'অর্থনৈতিক সাম্য' (Economic Equality) থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক সাম্য বলতে বোঝায় যোগ্যতা ও কাজ অনুযায়ী ন্যায্য পারিশ্রমিক প্রাপ্তি, বেকারত্ব ও শোষণমুক্ত পরিবেশ এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যহীন অবস্থা। এখানে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমকাজে সমমজুরি প্রাপ্তি একটি অপরিহার্য শর্ত।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জাহেদা একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করলেও পুরুষ সহকর্মীদের তুলনায় তাকে কম মজুরি দেওয়া হয়। একই কাজের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র নারী হওয়ার কারণে কম মজুরি প্রদান করা অর্থনৈতিক সাম্যের পরিপন্থী। সুতরাং, জাহেদাকে তার প্রাপ্য অর্থনৈতিক সাম্য থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থনৈতিক সাম্যের অভাবে সমাজে বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এর বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. বৈষম্য ও বঞ্চনাবোধ সৃষ্টি: একই পরিশ্রমে কম পারিশ্রমিক পেলে নারী শ্রমিকদের মনে চরম অসন্তোষ ও হীনম্মন্যতা তৈরি হয়, যা সামাজিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
২. নারীর ক্ষমতায়ন বাধাগ্রস্ত হওয়া: অর্থনৈতিকভাবে সমান সুযোগ না পেলে নারীরা স্বাবলম্বী হতে পারে না। এর ফলে পরিবার ও সমাজে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা খর্ব হয় এবং নারীর ক্ষমতায়ন মুখ থুবড়ে পড়ে।
৩. কর্মদক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা হ্রাস: উদ্দীপকে জাহেদার প্রতিবাদ করায় তাকে ছাঁটাইয়ের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমন নিরাপত্তাহীনতা ও অন্যায্য আচরণ কর্মীদের মনোবল ভেঙে দেয়, ফলে সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা ও সংস্থার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
৪. সামাজিক অস্থিরতা ও সংঘাত: সমাজে যখন অর্থনৈতিক ব্যবধান ও শোষণ বৃদ্ধি পায়, তখন শ্রমিক অসন্তোষ, অসন্তোষমূলক আন্দোলন এবং দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক অস্থিরতা দেখা দেয়।
অতএব, একটি ভারসাম্যপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও উন্নত সমাজ বিনির্মাণের জন্য অর্থনৈতিক সাম্য নিশ্চিত করা আবশ্যক; অন্যথায় সমাজে শোষণ ও অশান্তি বৃদ্ধি পাবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও