‍ইতিহাস ১ম পত্র • বাংলায় ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

রাজা ফার্ডিনান্ড এর ষড়যন্ত্রের ফলে গ্রানাডার সুলতান আবুল হাসান সিংহাসন ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। এরপর পুত্র আবু আব্দুল্লাহকে নামমাত্র সুলতান বানানো হয়। ফার্ডিনান্ড ও আবু আব্দুল্লাহর ষড়যন্ত্রের ফলে স্পেনে মুসলিম শাসনের চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটে।

  1. ক)

    কত সালে ভাস্কো-দা-গামা ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন করেন?

    (1)
  2. খ)

    উপমহাদেশের ইঙ্গ-ফরাসি দ্বন্দ্বের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ষড়যন্ত্রের সাথে তোমার পঠিত কোন ষড়যন্ত্রের সাদৃশ্য রয়েছে? উক্ত ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত যুদ্ধের কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "উক্ত যুদ্ধের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী"- পাঠ্যবইয়ের নিরিখে তা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৪৯৮ সালে ভাস্কো-দা-গামা জলপথে ভারতের কালিকট বন্দরে আগমন করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভারতে ঔপনিবেশিক আধিপত্য ও বাণিজ্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এবং ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত বাঁধে, তা ইঙ্গ-ফরাসি দ্বন্দ্ব বা কর্ণাটকের যুদ্ধ নামে পরিচিত। ১৭৪৪ থেকে ১৭৬৩ সালের মধ্যে তিন দফায় এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়। শেষ পর্যন্ত ১৭৬০ সালের বন্দিবাসের যুদ্ধে ব্রিটিশ সেনাপতি আয়ার কুটের কাছে ফরাসিরা পরাজিত হয় এবং উপমহাদেশে ফরাসিদের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার অবসান ঘটে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের রাজা ফার্ডিনান্ড ও আবু আব্দুল্লাহর ষড়যন্ত্রের সাথে আমার পঠিত ১৭৫৭ সালের 'পলাশীর যুদ্ধ'-এর প্রেক্ষাপটে রবার্ট ক্লাইভ ও মীর জাফরের ষড়যন্ত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।

    পলাশীর যুদ্ধের প্রধান কারণসমূহ হলো:
    ১. নবাব সিরাজউদ্দৌলার সিংহাসন আরোহণ মেনে না নিয়ে ইংরেজদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও উপঢৌকন পাঠাতে অস্বীকৃতি।
    ২. নবাবের অনুমতি ব্যতীত কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গের প্রাচীর ও সামরিক পরিখা নির্মাণ।
    ৩. বাণিজ্য সুবিধা (দস্তক)-এর অপব্যবহার করে কোম্পানি কর্তৃক শুল্ক ফাঁকি দেওয়া এবং স্থানীয় বণিকদের ক্ষতিগ্রস্ত করা।
    ৪. নবাবের শত্রু কৃষ্ণদাসকে আশ্রয় দেওয়া এবং নবাবের দূত নারায়ণ সিংহকে অপমান করে তাড়িয়ে দেওয়া।
    ৫. কাশিমবাজার কুঠির ইংরেজদের অবাধ্যতা এবং মীর জাফর, ঘসেটি বেগম ও রায় দুর্লভদের সাথে গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়া।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "পলাশীর যুদ্ধের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী"—পাঠ্যবইয়ের নিরিখে উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

    ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আম্রকাননে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মাধ্যমে বাংলার স্বাধীন নবাবির পতন ঘটে। এই যুদ্ধের সুদূরপ্রসারী ফলাফলগুলো হলো:
    ১. ব্রিটিশ রাজনৈতিক ক্ষমতার সূচনা: এ যুদ্ধের পর মীর জাফরকে পুতুল নবাব বানিয়ে ক্লাইভ কার্যত শাসনক্ষমতা কুক্ষিগত করেন। পরে বক্সারের যুদ্ধের (১৭৬৪) মাধ্যমে কোম্পানি পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে এবং ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভ করে।
    ২. অর্থনৈতিক শোষণ ও লুণ্ঠন: যুদ্ধের পর বাংলায় ইংরেজদের অবাধ লুণ্ঠন শুরু হয়, যা 'পলাশীর লুণ্ঠন' নামে পরিচিত। বাংলার বিপুল সম্পদ ইংল্যান্ডে পাচার হয় এবং এর ফলে ১৭৭০ সালে (বাংলা ১১৭৬) ভয়াবহ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর ঘটে।
    ৩. উপমহাদেশের পরাধীনতা: পলাশীর বিজয়ের মাধ্যমেই ইংরেজ কোম্পানি সমগ্র ভারত জয়ের স্বপ্ন দেখে এবং পরবর্তী প্রায় দুই শত বছর ধরে সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশকে ব্রিটিশ পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে রাখে।

    সুতরাং, পলাশীর যুদ্ধ কোনো সাধারণ যুদ্ধ ছিল না; এটি বাংলার স্বাধীনতা হরণের পাশাপাশি সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ভাগ্যলিপি চিরতরে বদলে দিয়েছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন