পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূহ • রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা • রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
অ্যারিস্টটল সংখ্যানীতি অনুযায়ী সরকারকে কতভাগে ভাগ করেন?
- খ)(2)
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের ছকে '?' চিহ্নিত বিভাগের কার্যাবলি আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত বিভাগটির সাথে অপর দুটি বিভাগের সম্পর্ক আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অ্যারিস্টটল সংখ্যানীতি বা শাসকের সংখ্যা অনুযায়ী সরকারকে ৩ ভাগে ভাগ করেছেন (একজনের শাসন, কয়েকজনের শাসন এবং অনেকের শাসন)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সরকারের তিনটি প্রধান বিভাগ—আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ—পরস্পর থেকে সম্পূর্ণ পৃথক ও স্বাধীন থেকে নিজস্ব দায়িত্ব পালন করবে এবং এক বিভাগ অন্য বিভাগের কার্যাবলিতে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না—এই রাষ্ট্রদর্শন বা শাসনপদ্ধতিকেই ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি বলা হয়। ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু তাঁর 'The Spirit of the Laws' গ্রন্থে ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষা এবং স্বৈরাচার রোধের উপায় হিসেবে এ নীতির বিশদ ব্যাখ্যা দেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ছকে '?' চিহ্নিত বিভাগটি হলো সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গ 'আইন বিভাগ' (Legislature)।
আইন বিভাগের প্রধান কার্যাবলি নিচে আলোচনা করা হলো:
১. আইন প্রণয়ন ও সংশোধন: আইন বিভাগের প্রধান কাজ হলো রাষ্ট্রের প্রয়োজনে নতুন আইন প্রণয়ন করা, প্রচলিত আইনের সংশোধন, পরিবর্তন এবং অপ্রয়োজনীয় আইন বাতিল করা।
২. অর্থসংক্রান্ত কাজ: আইন বিভাগ জাতীয় তহবিলের অভিভাবক। জনগণের ওপর কর ধার্য, বাজেট অনুমোদন এবং রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের অনুমোদন আইন সভার মাধ্যমেই হয়ে থাকে। আইন বিভাগের সম্মতি ছাড়া কোনো অর্থ ব্যয় বা আদায় করা যায় না।
৩. শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ: সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় আইন বিভাগ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা, মুলতবি প্রস্তাব, অনাস্থা প্রস্তাব ইত্যাদির মাধ্যমে শাসন বিভাগ তথা মন্ত্রিসভাকে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে ও নিয়ন্ত্রণ করে।
৪. সংবিধান সংশোধন: দেশের মৌলিক আইন অর্থাৎ সংবিধান প্রণয়ন এবং প্রয়োজনে এতে সংশোধনী আনার ক্ষমতা আইন সভার হাতে ন্যস্ত থাকে।
৫. নির্বাচনী ও বিচারিক কাজ: রাষ্ট্রপ্রধান বা স্পিকার নির্বাচনসহ ক্ষেত্রবিশেষে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অভিশংসন (Impeachment) বা বিচারিক কার্যক্রমে আইন বিভাগ অংশগ্রহণ করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত বিভাগটি হলো 'আইন বিভাগ'। সরকারের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে আইন বিভাগের সাথে অপর দুটি বিভাগ—শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগের অত্যন্ত নিবিড় ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান।
আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের সম্পর্ক:
সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের সম্পর্ক সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ। আইনসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের আস্থাভাজন ব্যক্তিরাই মন্ত্রিসভা গঠন করেন এবং শাসন পরিচালনা করেন। শাসন বিভাগের সদস্যদের মূলত আইনসভার সদস্য হতে হয় এবং তাঁদের প্রতিটি কাজের জন্য আইনসভার নিকট জবাবদিহি করতে হয়। আইনসভা অনাস্থা প্রস্তাব পাসের মাধ্যমে মন্ত্রিসভার পতন ঘটাতে পারে। আবার আইন বিভাগের প্রণীত আইনসমূহকে কার্যকর ও প্রয়োগ করে শাসন বিভাগ। তবে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারে এ দুটি বিভাগ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পৃথক হলেও শাসনকাজে আইনসভার বাজেট ও চুক্তি অনুমোদনের ওপর শাসন বিভাগকে নির্ভর করতে হয়।আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগের সম্পর্ক:
আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগের মধ্যেও প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। বিচার বিভাগ আইনসভার প্রণীত আইনের ভিত্তিতেই বিচারকার্য পরিচালনা করে। আবার কোনো আইন যদি সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক হয়, তবে বিচার বিভাগ 'বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা' (Judicial Review) ক্ষমতার মাধ্যমে সেই আইনকে অবৈধ ঘোষণা করতে পারে। অনেক দেশে বিচারকদের নিয়োগ, অপসারণ বা অভিশংসনের ক্ষমতা আইনসভার ওপর ন্যস্ত থাকে।অতএব, দেখা যায় সরকারের এই তিনটি বিভাগ কাঠামোগতভাবে পৃথক হলেও রাষ্ট্র পরিচালনার স্বার্থে আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ এবং বিচার বিভাগ পরস্পর নির্ভরশীল ও পারস্পরিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করে চলে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও