সাহিত্য পাঠ • নেকলেস • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৯
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
সালাম ও সালমার সংসারে সচ্ছলতা কিংবা বিলাসিতা না থাকলেও শান্তি এবং ভালোবাসার অভাব ছিল না। কিন্তু লোভে পড়ে বাড়তি পাওয়ার আশায় দুর্নীতির দায়ে অফিস সহকারীর চাকরিটা হারায় সালাম। তাদের সংসারে বাসা বাঁধে চরম দারিদ্র্য আর হতাশা। অগত্যা সালামের স্ত্রী সালমা অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ নেয়। সকাল-সন্ধ্যায় বর্ণনাতীত পরিশ্রম করে ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফেরে সে। সালমার ক্লান্ত ও মলিন চেহারা দেখে সালাম মনে মনে খুব কষ্ট পায়। অথচ মুখ ফুটে সে কথা বলতে পারে না সে। কারণ সে ভালো করেই জানে যে, এই কষ্টের জন্য সে নিজেই দায়ী।
- ক)(1)
বন্দুক কিনতে মসিয়ে কত ফ্রাঁ সঞ্চয় করেছিল?
- খ)(2)
"এ রকম জীবন দশ বছর ধরে চলল"- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সালমার সাথে 'নেকলেস' গল্পের কোন চরিত্রের মিল রয়েছে? আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপক ও 'নেকলেস' গল্পের বিষয়বস্তু একসূত্রে গাঁথা- মূল্যায়ন করো।'
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বন্দুক কিনতে মসিয়ে লোইসেল চারশত (৪০০) ফ্রাঁ সঞ্চয় করেছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"এ রকম জীবন দশ বছর ধরে চলল"— কথাটি দিয়ে ধার করা নেকলেস হারিয়ে ফেলার পর তা পরিশোধ করতে গিয়ে লোইসেল দম্পতির চরম দারিদ্র্য ও অমানুষিক পরিশ্রমের দীর্ঘ দশ বছরের সংগ্রামী জীবনকে বোঝানো হয়েছে।
বন্ধুর কাছ থেকে ধার নেওয়া হীরার হারটি হারিয়ে যাওয়ার পর সেটি প্রতিস্থাপন করতে লোইসেল দম্পতিকে ছত্রিশ হাজার ফ্রাঁ দিয়ে নতুন একটি হার কিনে দিতে হয়। এই বিপুল অঙ্কের ঋণ মেটাতে তারা তাদের বাসা পরিবর্তন করে সস্তা চিলেকোঠায় ওঠে, কাজের লোক ছাড়িয়ে দেয় এবং মাদাম লোইসেল গৃহস্থালির সমস্ত কঠিন ও ভারী কাজ নিজে করতে শুরু করেন। অপরপক্ষে তাঁর স্বামীও রাতে অতিরিক্ত কাজ করতেন। এই নিদারুণ দুঃখ-কষ্ট ও হাড়ভাঙা খাটুনির জীবন তাদের একটানা দশ বছর ধরে অতিবাহিত করতে হয়েছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সালমার সাথে 'নেকলেস' গল্পের প্রধান চরিত্র মাদাম মাতিল্দা লোইসেলের অভাবনীয় কষ্টের শিকার হয়ে কঠোর পরিশ্রমী নারীতে রূপান্তরিত হওয়ার দিক থেকে গভীর মিল রয়েছে।
'নেকলেস' গল্পে দেখা যায়, মাতিল্দা লোইসেল ছিলেন রূপসী ও বিলাসপ্রিয়। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে একটি নেকলেসের ঋণ শোধ করতে গিয়ে তিনি চরম বাস্তবতার মুখোমুখি হন। সমস্ত বিলাসিতা ভুলে তিনি কঠোর গৃহকর্মে লিপ্ত হন— নিজের হাতে কাপড় কাচা, হাঁড়িকুড়ি মাজা এবং জল বয়ে আনার মতো কঠিন কাজ করে তিনি একটি সাধারণ, পরিশ্রমী ও মলিন নারীতে পরিণত হন।
উদ্দীপকের সালমার পরিবারেও স্বামী সালামের দুর্নীতির কারণে আকস্মিক দারিদ্র্য নেমে আসে। নিরুপায় হয়ে সালমা অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ নেয় এবং সকাল-সন্ধ্যা কঠোর পরিশ্রম করে ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফেরে। মাতিল্দা লোইসেলের মতোই সালমাও পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে আত্মত্যাগ করে। তাই পরিস্থিতির শিকার হয়ে হাড়ভাঙা শ্রম ও মলিন জীবন বেছে নেওয়ার দিক থেকে সালমার সাথে মাদাম লোইসেলের সুস্পষ্ট মিল রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপক ও 'নেকলেস' গল্পের বিষয়বস্তু একসূত্রে গাঁথা"— উক্তিটি সামগ্রিক বিচারে পুরোপুরি যথার্থ নয়; কারণ তাদের সংকট ও পরিণতিতে মিল থাকলেও সংকটের উৎস বা মূল প্রেক্ষাপট ভিন্ন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সালামের অতিরিক্ত পাওয়ার লোভ এবং দুর্নীতির কারণে চাকরি চলে যাওয়ায় পরিবারে চরম দারিদ্র্য নেমে আসে এবং তার স্ত্রী সালমাকে ঝিয়ের কাজ করতে হয়। সালাম নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত ও অপরাধবোধে ভোগে। অর্থাৎ এখানে নৈতিক স্খলন ও দুর্নীতির কুফল মূল প্রতিপাদ্য।
অন্যদিকে, 'নেকলেস' গল্পে কোনো দুর্নীতি বা অপরাধ ছিল না; সেখানে মূল সংকট ছিল মাদাম লোইসেলের সামাজিক অবস্থান ভুলে মিথ্যা আভিজাত্য প্রদর্শনের বাসনা এবং মাত্রাতিরিক্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষা। সেই মোহের বশবর্তী হয়ে ধার করা নেকলেস হারানোর পর সেটি শোধ করতে গিয়ে লোইসেল দম্পতি দশ বছর ধরে সীমাহীন কষ্ট সহ্য করে। এছাড়া গল্পের শেষে জানা যায় যে হারটি ছিল সম্পূর্ণ নকল— যা নিয়তির এক চরম ও নির্মম ট্র্যাজেডি প্রকাশ করে।
উভয় কাহিনীতেই আর্থিক বিপর্যয়, নারীর অমানুষিক পরিশ্রম ও ক্লান্তিকর জীবনের সাদৃশ্য রয়েছে। কিন্তু উদ্দীপকের সংকটের কারণ যেখানে 'দুর্নীতি ও আর্থিক লোভ', নেকলেস গল্পের কারণ সেখানে 'ভ্রান্ত আভিজাত্যবোধ ও কপট অহমিকা'। এছাড়াও 'নেকলেস' গল্পের সমাপ্তির যে ব্যঙ্গ ও নিয়তির পরিহাস রয়েছে, তা উদ্দীপকে নেই। অতএব, উদ্দীপক ও 'নেকলেস' গল্পের পরিণতি আংশিক সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও তাদের অন্তর্নিহিত মূল বিষয়বস্তু হুবহু একসূত্রে গাঁথা নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও